× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার

ভয় ভেঙে মাঠে সক্রিয় সিলেট বিএনপি নেতারা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার, ১০:০৬

ভয় ভেঙে মাঠে সিলেট বিএনপির নেতারা। এবার আর করছেন না গ্রেপ্তারের তোয়াক্কা। অনেকেই ৮ই ফেব্রুয়ারি দায়ের করা মামলার আসামি। পুলিশের হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরপরও মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন। বিভক্তিও ভুলে গেছেন। হাতে-হাত মিলিয়ে সবাই আন্দোলনে একাট্টা  হয়েছেন। বহু মামলার আসামি হয়ে যুক্তরাজ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানও।
খালেদা জিয়ার সফরের আগেই ছুটে এসেছেন সিলেটে। মাঠের আন্দোলনেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এমন দৃশ্য সিলেট বিএনপিতে নিকট অতীতেও ছিল না। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে বদলাতে শুরু করেছে সিলেট বিএনপি। যাদের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল তারাও এসে এক কাতারে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। নেতাদের এক হতে দেখে সিলেট বিএনপির কর্মীরাও প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। মাঠের আন্দোলনে নেতাদের সঙ্গে তারাও শরিক হচ্ছেন। ৮ই ফেব্রুয়ারি সিলেটের রাজপথে ক্ষোভ দেখিয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আর ওই দিনের ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি থানায় বিএনপি নেতাদের নামে মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, মহানগরের সভাপতি নাসিম হোসাইন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমসহ সিনিয়র নেতাদের। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও মামলা, ধরপাকড় উপেক্ষা করে তারা রাজপথের আন্দোলনে আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আর গতকাল কেন্দ্রীয় ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় তারা শোডাউন করেছে। প্রায় দুই দিন আগে সিলেটে অবস্থান করা জামান ফেসবুকের মাধ্যমে বিএনপির নেতা-কর্মীদের এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সিলেটে অতীতে কখনো রাজপথের আন্দোলনের দেখা যায়নি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। এবার সিলেটের আন্দোলনে মুক্তাদিরও একাট্টা। গত শুক্রবার সিলেটের রাজপথে বিএনপি নেতাদের নিয়ে মুক্তাদিরও মিছিল করেছেন। নয়াসড়ক এলাকার ওই মিছিলটি পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মাঠের রাজনীতিতে নামায় সিনিয়র নেতারা শক্তি ফিরে পেয়েছেন। মামলার খড়গ মাথার উপরে থাকার পরও তারা মাঠে নামছেন। অসুস্থতায় কাবু বিএনপির চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা এমএ হক। তিনিও গতকাল মাঠে নেমে কর্মসূচি পালন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিমও অসুস্থতার ভারে জর্জরিত। কিন্তু খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনিও মাঠে নেমেছেন। গতকাল সিলেটের কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী খালেদা জিয়ার রায়ের দিন নিজ বাসা থেকে বের হতে পারেননি। তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা চালালে পুলিশ বাসার গলিতেই তাকে বাধা দিয়েছে। আরিফুল হক চৌধুরীও মাঠের রাজনীতিতে একাট্টা হয়েছেন। ভয় ভেঙে তার সঙ্গে নেমেছেন বিএনপির ঝিমিয়ে পড়া নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীও এখন মাঠে। গতকালের কর্মসূচি ছাড়াও চলমান আন্দোলনে তিনি উপস্থিত থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সিলেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ কয়েক মাস আগে বাইপাস সার্জারি করিয়েছেন। প্রাস মাস খানেক তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে ছিলেন। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন- আলী আহমদের জন্য এই মুহূর্তে মাঠের রাজনীতিতে নামা ঝুকিপূর্ণ। এরপরও আলী আহমদ আন্দোলন সংগ্রামে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি ৮ই ফেব্রুয়ারির ঘটনায় সিলেটে পুলিশের মামলার আসামি হয়েছেন। সিলেট বিএনপির অনেক নেতাই এখন ভয় ভেঙে রাজপথে। অতীতে আন্দোলন সংগ্রামে নিজেদের রক্ষা করতে তারা অনেকেই গা ঢাকা দিতেন। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। সিলেটের মহিলা দলও আন্দোলনের একাট্টা হয়েছে। এদিকে- গতকাল সিলেটে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন- ‘জনতার ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙার পূর্বেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। নতুবা সিলেট থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দেন তারা। বলেন- জনতা এই অবৈধ রায় প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে। কর্মসূচিতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর বিএনপি ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস ও ওলামা দলের হাজার  হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল ও মহানগর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেক এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আলহাজ এম.এ হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা: শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ প্রমুখ। এদিকে- নিরপরাধ বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন- সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল। সোমবার দুপুরে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল, জেলা বিএনপি’র যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ ইকবাল নেহাল চেয়ারম্যান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন, আব্দুল ওয়াহিদ সোহেল, সাহেদ আহমদ চমন, মল্লিক আহমদ, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, আলী আকবর খান, নুরুল ইসলাম নুরুল, আলতাফ হোসেন টিটু, আফজল হোসেন চৌধুরী, আব্দুল্লাহ, চমক দে পল্লু, ইফতি আহমদ সুমিন, জাহেদ আহমদ, সাহেদ আহমদ প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
ছাবের মিয়া
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সোমবার, ৯:১০

হ্যাঁ সঠিক বলেছেন।

Md.Jahangir alam
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সোমবার, ১২:১৯

BangladeshI people love B.N.P..love Zia...

অন্যান্য খবর