ঢাকা, ২৮ মে ২০১৮, সোমবার

চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যা- ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার, ১০:০৭

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চার জনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর আলম ও চালক মো. হাবিব মিয়া। অপর এক আসামি বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ২৫শে  আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে কলেজছাত্রী রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই ধর্ষণ ও হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার লাশ ফেলে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন। ২৮শে আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫), জাহাঙ্গীর (১৯), চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আটক রয়েছে। উল্লেখ্য, ঘটনার ছয় মাসেই এ মামলার রায় প্রদান করা হলো।
দ্রুত রায় কার্যকর চান রুপার মা
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, দেশ কাঁপানো টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আসানবাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রামাণিকের মেয়ে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় সোমবার সকালে। রায় ঘোষণা করেন, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া। রায় ঘোষণার পর রুপার পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। রুপার মা হাসনাহেনা (৬০) স্বল্প সময়ে রায় ঘোষণা করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আল্লাহ্‌র দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন ও নফল নামাজ পড়ে মেয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমার জীবদ্দশায় আমার কলিজার টুকরা মেয়ে রুপাকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি কার্যকর দেখে যেতে চাই দ্রুততম সময়ে। এদিকে টাঙ্গাইলের আদালতে থাকা মামলার বাদী রুপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান প্রাং তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ রায়ে তিনি ও তার পরিবার সনু্তষ্ট। তবে আমরা শিগগিরই ওই রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। সেখানে থাকা রুপার ছোট বোন পপি খাতুন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, অল্প সময়ে রায় দেয়ায় আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা আরো কৃতজ্ঞ মামলাটির বিচারিক কাজের সঙ্গে যারা জড়িত আছেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আইনের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হলেই আমার মৃত বোনের আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা খুশি  হব। অপরদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আসানবাড়ী গ্রামের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা টিভি’র সামনে ভিড় জমান। তাঁরা ওই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শুকরিয়া জানান। রায় ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় রুপা হত্যা মামলার রায় অল্প সময়ে দেয়া হয়েছে।  আমি ওই রায়ের প্রতি সন্তুষ্ট। রুপা হত্যার পর ১লা সেপ্টেম্বর আসানবাড়ী গ্রামে রুপার শোকসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দ্রুততম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে রুপা হত্যার বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রক্ষা করা হলো। উল্লেখ্য, গত বছর ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মেধাবী তরুণী রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে চলন্ত বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরের দিন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে ছোট বোন  রুপার লাশ শনাক্ত করেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।