ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সোমবার
মানববন্ধনে হাজারো নেতাকর্মী

‘খালেদাকে মুক্ত করেই নির্বাচনে যাবে ২০ দল’

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার, ১০:১৭

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ২০ দল। বিএনপি ঘোষিত এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে জোটের শরিকদলগুলোর নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে আটক করে পুলিশ। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিরুদ্ধে আপনাদের যে ক্ষোধ, হতাশা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি যে ভালোবাসা সেটা প্রকাশ করেছেন। আজকে এই মানববন্ধনের মধ্যদিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, খালেদা জিয়া এদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। মিথ্যা মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। মির্জা আলমগীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার আগে আপনাদের ধৈর্য্য ধরতে, শান্ত হতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেছেন। আমাদের এই কর্মসূচি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্যে, আমাদের এই কর্মসূচি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্যে। আমাদের দাবি এই মুুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা তার মুক্তি চাই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- দেশনেত্রীকে নিয়েই আমরা আগামী নির্বাচনে যাবো। দেশনেত্রী ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা সহায়ক সরকার চাই, আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে চাই। তাই আসুন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করি। এ সময় দলের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান তিনি। মানববন্ধনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। দেশের মানুষ এ রায় গ্রহণ করেনি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। আমাদের সকল নেতার সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কারাডিভিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, চারদিন ধরে ডিভিশন না দিয়ে সরকার আমাদের নেত্রীকে একজন অর্ডিনারি প্রিজনার হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। সরকার জেল কোড ভঙ্গ করেছে। আমরা সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাকে ছাড়া কেউ নির্বাচনের চিন্তা করলে সেটা হবে দুঃস্বপ্ন। এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছর কারাদন্ড দিয়ে ভোটারবিহীন সরকার মনে করেছিল জনগণের হৃদয় থেকে তার নাম মুছে ফেলবে। তারা বুঝতে পারেনি মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দি খালেদা জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয় ও নন্দিত। নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে একজন সাধারণ কয়েদির মতো খালেদা জিয়াকে রেখে যে ভুল সরকার করেছে আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক জনতা জবাব দেবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নেতাকর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা মানববন্ধনে অংশ নেয় বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীরা। তোপখানার মোড় থেকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত পুরো এলাকায় বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মী, সমর্থক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক এই মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখেপড়ার মতো। মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে মাইক ছাড়াই বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইব্‌নে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদিন ভিপি, জয়নুল আবদিন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, রাশেদা বেগম হীরা, আবদুল আউয়াল খান, কাদের গনি চৌধুরী, তাবিথ আউয়াল, বেবী নাজনীন, নেওয়াজ হালিমা আরলি, অপর্ণা রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, আহসানউল্লাহ হাসান, শেখ রবিউল আলম রবি, তানবীর আহমেদ রবিন ও হাফিজুল ইসলাম কবীরসহ উপস্থিত ছিলেন। অঙ্গদলের নেতাদের মধ্যে- যুবদলের সাইফুল ইসলাম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, জাসাসের প্রফেসর মামুন আহমেদ, শাহিনুর ইসলাম শায়লা, ছাত্রদলের মামুনুর রশীদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মফিজুর রহমান আশিক, কাজী মোকতার হোসেন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতীদলের আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের এমএ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ মানববন্ধনে অংশ নেন। ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদী, জাগপা’র খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, এনপিপি’র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপি’র গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএল‘র সাইফুদ্দিন মনি মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে অংশ নেন। এদিকে বিএনপি’র মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। কাছাকাছি প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান, এপিসিহ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকটি মাইক্রোবাস। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি দুইদিন বিক্ষোভ কর্মসূচির পর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে তিনদিনের টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে যার প্রথম কর্মসূচি মানববন্ধন। আজ মঙ্গলবার হবে ঢাকাসহ সারা দেশে অবস্থান এবং পরদিন বুধবার অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপিসহ ২০ দল।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।