ঢাকা, ২৮ মে ২০১৮, সোমবার

ফুটবল দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প কাতারে

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বুধবার, ৯:২৫

ফিফা প্রীতি ম্যাচ, আগস্টে এশিয়ান গেমস এবং সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলের বিরাট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তারই ধারাবাহিকতায় বিকেএসপিতে আবাসিক ক্যাম্প শুরু হচ্ছে আজ। থাকছে কাতারে প্রায় দুই সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। থাইল্যান্ডের দুটি ক্লাব ও লাওস জাতীয় দলের সঙ্গে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচও আছে এই পরিকল্পনায়।
১ কোটি ২০ লাখ টাকার ৮ মাসব্যাপী এই প্রস্তুতিতে কোচিং স্টাফে যোগ হবেন আরো দুই বিদেশি। যাদের একজন ফিটনেস কোচ, আরেক জন গোলরক্ষক কোচ। এর মধ্যে মারিও লিচিনিও লিমোস নামের পর্তুগালের ফিটনেস কোচ চলে এসেছেন। দু-একদিনের মধ্যে গোলরক্ষক কোচও ক্যাম্পে যোগ দিবেন। নতুন দুই কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে বাফুফে বিবেচনায় আনছে তাদের এশিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা। মারিও লিমোস এর আগে থাইল্যান্ডে কাজ করেছেন বলেও জানিয়েছেন বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। এশিয়ান গেমসে অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে বলে কোচ অ্যান্ডু্র অর্ড প্রাথমিক যে ৩৫ জনের তালিকা তৈরি করেছেন সেখানে প্রাধান্য পেয়েছেন তরুণ ফুটবলাররা। তবে অর্ডের এই দলে সুযোগ হয়নি স্বাধীনতা কাপের সেরা খেলোয়াড় আরিফ ও সর্বোচ্চ গোলদাতা জুয়েলের। এদের সুযোগ না মিললেও এই ৩৫ জনের সঙ্গে আরো ৮-৯ জন যোগ হবেন আবাহনী থেকে। এএফসি কাপের কারণে রাখা হয়নি আবাহনীর কোনো ফুটবলার। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়াও বাফুফে ফুটবলারদের আরো ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলানোর চেষ্টা করছে। ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছাড়াও সাফের আগের জাতীয় দল নিয়ে নানা পরিকল্পনা আছে বাফুফের। সাফের আগে জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে নাবিল বলেন, এ বছরের সাফ ফুটবলকে সামনে রেখেই মূলত আমাদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়রা চলে এসেছে, সন্ধ্যায় তারা রওনা দেবে বিকেএসপিতে। দুই সপ্তাহ ক্যাম্প চলবে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি দল কাতারে যাবে, সেখান থেকে ১৪ই মার্চে দেশে ফিরবে। এরপর ১৯শে মার্চ থাইল্যান্ডে যাবে। সেখানে ২১ ও ২৩ তারিখে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এরপর ২৫ তারিখে লাওসে রওনা দেবে দল। লাউসে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭শে মার্চ। এখানেই শেষ না সাফ ও এশিয়ান গেমসের আগে আরো জাতীয় দলকে নিয়ে আরও পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ‘আমরা জাতীয় দলকে নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এখানে দেশে বিদেশে ট্রেনিংসহ থাকছে প্রস্তুতি ম্যাচ। আমার চেষ্টা থাকবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দলকে এতটি সেফে দাঁড় করানো। বাকি দায়িত্ব খেলোয়াড়দের। কারণ মাঠে আমরা খেলবো না। খেলতে হবে তাদের’- বলেন বাফুফে বস। বাফুফে সভাপতির সঙ্গে সূর মিলিয়ে কোনো প্রত্যাশার কথা বলেননি জাতীয় দলের কোচ অ্যান্ডু্র অর্ড। সাফের আগে এই লম্বা পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, কাজ দেখানোর এটাই সময়। আমি কোনো কিছুরই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। কারণ আমরা এক ম্যাচ দিয়ে খুব বাজে অবস্থা থেকে ভালো অবস্থায় চলে আসতে পারব না। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আপনাকে বোঝা প্রয়োজন, আপনি কোথায় আছেন এবং কোথায় আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমাদের আরও ধৈর্য ধরতে হবে, আমাদের ৯৫ মিনিট খেলার জন্য তৈরি হতে হবে। এখানে আমার দায়িত্ব ট্যাকটিকস সঠিক আছে কি না সেটা নিশ্চিত করা। আমি সঠিক খেলোয়াড়কে বাছাই করি এবং সঠিক পজিশনে খেলার জন্য তাকে তৈরি করি। খেলোয়াড়দেরও তাদের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। উল্লেখ্য, গেলে তিনটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ঢাকা মাঠে সেই লজ্জা ঢাকতেই বাফুফের এই প্রস্তুতি। এখন দেখার বিষয় ফুটবলাররা সেই লজ্জা ঢাকতে পারেন কি না।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।