ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার

‘ভালো নেই বিদেশের পোশাক কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি নারীরা’

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৯

বিদেশের পোশাক কারখানায় কাজ নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নারীকর্মীরা ভালো নেই। নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়ে তারা সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন। এ তথ্য দিয়েছেন ভারতের অভিবাসী কর্মী প্যারাডিজম শিফ্‌ট-এর পরিচালক নিলাম্বার ভূঁইয়া। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘আওয়াজ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘বিদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশি অভিবাসী নারী কর্মীর নিয়োগ, কর্মী পরিবেশ ও বাসস্থান’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী কর্মশালার শেষদিন ছিল গতকাল। এদিন ‘বিদেশে গার্মেন্টস কর্মী নিয়োগ’ সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মরিশাসে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা নিয়মকানুন না জেনেই গমন করেন। ফলে তারা যে আশা নিয়ে সেখানে কাজ করতে যায় বাস্তবে দেখে তার ভিন্নচিত্র। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালার শেষদিনে গতকাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। দু’দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটি সংগঠন ও তাদের প্রতিনিধি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মী, অভিবাসী অধিকার কর্মী, নারী অধিকার কর্মী, গবেষণা সংস্থা, বিদেশ ফেরত নারী গার্মেন্টস কর্মী, সাংবাদিকসহ জর্ডান, মরিশাস, ভারত ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। গবেষক ও অভিবাসী অধিকারকর্মী নিলাম্বার ভূঁইয়া বলেন, মরিশাসে বাংলাদেশি যেসব নারীকর্মী যান তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেয়া হয়। পরে কোনো বিপদে পড়লে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছামতো তাদের নামে রিপোর্ট লিখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তিনি বলেন, দেশটিতে নারী অভিবাসী কর্মীরা নানাভাবে তাদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা নেই। তারা খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে। এছাড়া ঠুনকো কারণে তাদেরকে কর্মস্থল থেকে বের করে দেয়। এমনকি নিজ দেশের পুরুষকর্মীদের কাছে টাকা রেখেও অনেকে প্রতারণার শিকার হন। জর্ডানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বছরখানেক আগে সেখানে খুবই সামান্য কারণে ৭০ জন মেয়েকে এক কাপড়ে অমানবিকভাবে বের করে দেয়া হয়েছিলো। মরিশাসের একটি ঘটনা তুলে ধরে ভারতীয় এই বিশেষজ্ঞ বলেন, গত বছর ১১ জন বাংলাদেশিকে সাসপেন্ড করা হয়েছিলো মোবাইল সঙ্গে রাখার কারণে। এ ব্যাপারে সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি কর্মীরা বেশি বেতনে কাজ করে। কারণ ভারতীয় কর্মীরা সেখানে দরকষাকষি করতে পারে। তাছাড়া অফিসিয়ালি তারা যথেষ্ট সহযোগিতা পায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের কর্মীরা নিজ দেশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অফিসিয়ালি সহযোগিতা পান না। বায়রা যুগ্ম সম্পাদক বলেন, অধিকাংশ দেশের সঙ্গে এমইউ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং সাইন হয়। যার তেমন আইনি কার্যকারিতা নেই। যদি দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয় তবে ফলপ্রসূ হয়। তাছাড়া এসব চুক্তি বা সরকারের বিভিন্ন ফোরামে বেসরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলে কর্মীদের প্রতারণা, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বা বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা সহজ হবে। কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই অধিকাংশ কর্মী প্রেরণে সরাসরি জড়িত। গতকাল সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বর্তমান সময়ে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই অভিবাসী গার্মেন্টস কর্মীরা নিরাপদে, মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে বিদেশ গমন করে এবং সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসবে, এই প্রচেষ্টা আমাদের সবার। তিনি আরো বলেন, আমাদের বিদেশ গমনেচ্ছুক গার্মেন্টস নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণকালে তাদেরকে গন্তব্য দেশের কর্মপরিবেশ, বাসস্থান ও রীতিনীতি সম্পর্কে আরো অধিক অবহিত করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, অভিবাসী নারী কর্মীদের সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন, কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মীর অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মী ও তার পরিবারের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকার নানা ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নারীকর্মী প্রেরণে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নারীকর্মীদের ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমরা বিদেশ গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের জন্য ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতার ওপরে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করছি। সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. সি. আর. আবরার- এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক মিস নাজমা আক্তার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইএলও ঢাকা বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যান্ড অফিসার ইনচার্জ মি. গগন রাজভাণ্ডারী। তিনি বলেন, নারীকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করতে হবে। এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে দুইদিনের কর্মশালার বিষয়ের ওপর দলীয় উপস্থাপনা হয়। বিদেশ ফেরত তিনজন নারী গার্মেন্টস কর্মীও বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।   

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।