ঢাকা, ২৩ জুন ২০১৮, শনিবার

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ভেন্যু নিয়ে হট্টগোল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১১ মার্চ ২০১৮, রোববার, ৯:৫২

২১শে মার্চ চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের পটিয়া কলেজ মাঠে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশও দেন তিনি। কিন্তু এরই মাঝে নেতারা খবর পেয়ে গেছেন জনসভার ভেন্যু প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতে নির্ধারণ হয়নি। কেন্দ্র থেকে এই জনসভা চট্টগ্রাম মহানগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে করার নির্দেশনা ছিল। আর এ নিয়ে গতকাল বিকালে নগরীর মুসলিম ইনিস্টিটিউটে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় শুরু হয় হট্টগোল। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বর্ধিত সভায় যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখনই ভেন্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন শুরু করেন চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী প্রশ্ন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা যেহেতু নির্বাচনী জনসভা সেহেতু এটি পটিয়া কলেজ মাঠে কেন? এ জনসভা উত্তর ও দক্ষিণ জেলার মাঝে মহানগরে হওয়া উচিত।
তাদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী ওই দিন বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধন ও বিএনএস ঈসা খাঁতে ডকইয়ার্ডের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মহানগরে না হয়ে পটিয়ায় হবে কেন?
এসব প্রশ্নে তখন আরও অনেক নেতা হৈচৈ করে হাত তুলে সায় দেন। প্রশ্নের পর প্রশ্ন রেখে উত্তর জানতে চান নেতারা। এতে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, আগামী ২১শে মার্চ চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা করার ঘোষণা আসে কেন্দ্র থেকে। এ জনসভা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীর মাঠে করার চিন্তা না থাকলেও তা দখলের কারণে ছোট হয়ে যাওয়ায় বাদ দেয়া হয়েছে। এরপর নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেখানেও চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। বিকল্প হিসেবে রয়েছে নগরীর চকবাজার প্যারেড মাঠ। কিন্তু সেখানে জামায়াত-শিবির প্রভাবিত ও অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ‘এসএসএফ’-এ মাঠে জনসভায় কোনো সিগন্যাল দেয়নি। ফলে সেখানেও হচ্ছে না। তাই পটিয়া কলেজ মাঠে জনসভা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই জনসভা পটিয়ায় হলে পরে নগর ও উত্তর জেলা মিলে আরেকটি জনসভার আয়োজন করব। কিন্তু তাতেও মিলেনি সান্ত্বনা। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের এই যুক্তির বাইরে নগর ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জনসভার জন্য পলোগ্রাউন্ড মাঠকে বেঁচে নিয়েছেন। আবার যা মানতে নারাজ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, পটিয়ায় জনসভার ঘোষণা প্রচার হয়ে গেছে। তাহলে তা থেকে আমরা পিছিয়ে যাবো কেন। শেষ পর্যন্ত ভেন্যু নির্ধারণ ছাড়াই বর্ধিত সভা শেষ হয় বলে জানান মফিজুর রহমান। তবে মফিজুর রহমান বলেন, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম তাকে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশ করা যায় কি না, দেখার জন্য বলেছেন।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য আদর্শ মাঠ ছিল পলোগ্রাউন্ড মাঠ। কিন্তু সেখানে বাণিজ্যমেলার কারণে জনসভার আয়োজন করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া বিকল্প হিসেবে প্যারেড মাঠই উপযুক্ত ছিল। কিন্তু এই মাঠে জনসভা আয়োজনের ব্যাপারে এসএসএফের সম্মতি না থাকায় সেখানেও হবে না। প্রয়োজনে নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে হবে এ জনসভা।
চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, দেশের বিভাগীয় শহর সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনার পর এবার চট্টগ্রামে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বার্তা দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর। ভেন্যু ঠিক করার বিষয়ে চট্টগ্রামের নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আজ বর্ধিত সভায়ও ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি। ভেন্যু চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনে আরেকটি বর্ধিত সভা করা হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।