× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা

ফয়জুরের বাবা-মা ও মামা রিমান্ডে

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১১ মার্চ ২০১৮, রবিবার, ৭:৩০

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনায় রিমান্ডে থাকা ফয়জুরের বাবা-মা ও মামাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর বিচার হরিদাস কুমারের আদালতে হাজির করে পুলিশ তাদের রিমান্ডে নেয়। এর মধ্যে আদালত হামলাকারী ফয়জুরের বাবা হাফিজ আতিকুর রহমান ও মামা ফজলুর রহমানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর মা আমিনা বেগমকে দিয়েছেন দুই দিনের রিমান্ডে। রিমান্ড শুনানী শেষে আদালত তিনজনকেই তাদের জিম্মায় নিয়ে নিয়েছে। পুলিশ জানায়- ৩রা মার্চ সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রফেসর ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা চালায় পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুর রহমান ফয়জুর। ঘটনার পর দিন ৪ঠা মার্চ নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার পাঠানটুলার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। ঘটনার দিন রাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফয়জুরের মামা ফয়জুল ইসলাম।
পুলিশ তাদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি। আজ সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ফয়জুরের বাবা হাফিজ আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম ও মামা ফয়জুল ইসলামকে ওই মামলায় আসামি করে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর জালালাবাদ থানা থেকে তাদের গাড়ি করে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচার হরিদাস কুমারের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান। আদালত তাদের রিমান্ডে শুনানী করে তিনজনকেই রিমান্ড প্রদান করেছেন। সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আবুল হাশেম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুলিশ আদালতে তাদের সবার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। আদালত শুনানী শেষে বাবা ও মামাকে ৫ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। আর মা আমিনা বেগমকে দিয়েছেন ২ দিনের রিমান্ডে। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, তাদের তিনজনকে আজ ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করার তাদের পুলিশের জিম্মায় দিয়েছেন। এখন পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে- আলোচিত এ মামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুর রহমান বাদি হয়ে ফয়জুরের নামোল্লেখ করে ঘটনার পরদিন জালালাবাদ থানায় মামলা করেছিলেন। এ মামলায় আজ আরও তিনজনকে আসামি করায় মোট ৪ জন আসামি হলেন। ড. জাফর ইকবালের হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশি রিমান্ডে রয়েছে ফয়জুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার তাকে রিমান্ডে নিয়ে গোয়েন্দা কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ডে ফয়জুরের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পায়নি। এছাড়া ফয়জুরের বড় ভাই এনামুল হাসান ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। তাকে বৃহস্পতিবার পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা ঢাকার গাজিপুর থেকে আটক করেছিল। শুক্রবার এনামুলকে সিলেট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এনামুলকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ সূত্র জানায়- এনামুলকেও ওই মামলায় আসামি দেখানো হবে। আজ-কালের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবে পুলিশ। রহস্য দেখা দিয়েছে ফয়জুর রহমান ফয়জুরের পরিবারকে ঘিরে। পিতা হাফিজ আতিকুর রহমান টুকেরবাজারের এক মাদ্রাসার খন্ডকালিন শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি শেখপাড়া গ্রামের জামে মসজিদের অস্থায়ী ইমাম ছিলেন। কিন্তু ঘটনার পরদিন পুলিশ ফয়জুরের পিতার একটি এটিএম কার্ড পেয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের ওই এটিএম কার্ড ঘটনার দিন রাতে আতিকুর রহমান ফেলে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিন সেটি পেয়ে পুলিশকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ফয়জুরের বাবা ও মামার দুটি আলাদা বাড়ি রয়েছে শেখপাড়া গ্রামে। ৫ বছর আগে নিজ এলাকা দিরাই থেকে এসে তারা ওই এলাকায় স্থায়ী আবাস গড়েছেন। ফলে তাদের সম্পদের হিসেবে বেশ গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। আর ফয়জুর রহমান মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা ছাড়ার পর সে নিজে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করেছে। দোকান কর্মচারী হিসেবেও সে কাজ করছিল। এতোসব প্রশ্নের কোনো খুজে মিলছে না ফয়জুর কিংবা তার পরিবারের কাছ থেকে। তারা সবকিছুই গোপনে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ফয়জুর ও তার ভাই ছিল সালাফি মাহযাবের অনুসারী। তাদের নামাজের ধরন ছিল ভিন্ন। এ কারনে তাদের নিয়ে স্থানীয় মসজিদে প্রায় সময় মুসল্লীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিতো। পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে- ফয়জুরের দুই চাচা মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দা। তারা সালাফি মাযহাবের অনুসারী। ছুটি কাটাতে বাড়ি এসে তারা দুই ভাতিজাকে তাদের নিজেদের মতাদর্শে গড়ে তুলেন। এরপর থেকে দুই চাচার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ফয়জুর ও তার ভাইয়ের।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর