ঢাকা, ২৩ জুন ২০১৮, শনিবার

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাসদের দ্বিমত

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ মার্চ ২০১৮, সোমবার, ৯:২৮

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) তাত্ত্বিক গুরু ‘সিরাজুল আলম খানের’ ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পূর্বে ও পরের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্যে দ্বিমত জানিয়েছে জাসদ। শনিবার দলের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দ্বিমত জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ১৯৭১ সালের ১লা থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসের পরিচালনায় স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন, রাজপথে প্রকাশ্যে সামরিক কুচকাওয়াজ ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের ইস্পাতসম ঐক্য গড়ে তোলে। যার ফলে ২৫শে মার্চ হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর মুহূর্ত থেকেই দ্বিধাহীন চিত্তে সমগ্র দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে দাবি জানানো ও ভাষণের পর তা নিয়ে কথা বলা দেশবাসী তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রযোদ্ধা ছাত্র-তরুণদের দুর্বার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। আর ছাত্র-তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবসময়ই সযত্নে লালন করেছেন। ষাটের দশক থেকে বঙ্গবন্ধু ও নিউক্লিয়াস সংগঠকদের মধ্যে এ ধরনের বহু কথাবার্তা, অনুযোগ, তর্ক-বিতর্ক ঘটেছে- যা কখনো বঙ্গবন্ধু ও নিউক্লিয়াসের সম্পর্কে ন্যূনতম চিড় ধরায়নি। এগুলো কখনই ষড়যন্ত্র ছিল না, ছিল স্বাধীনতার দুর্বার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এটা একান্তই বঙ্গবন্ধু ও নিউক্লিয়াস বিশেষ করে সিরাজুল আলম খানের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ব্যাপার। স্বাধীনতার পরে মত ও পথের ভিন্নতা টেনে সে সম্পর্ককে বিতর্কিত ও কটাক্ষ করা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকেই কেবল অসম্মানিত করে না, ইতিহাসকেও অন্ধকারে ঠেলে দেয়।
দলের দপ্তর সম্পাদক ইউনুসুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তবে এটা অত্যন্ত আশার বিষয় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস, নিউক্লিয়াসের সঙ্গে বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সম্পর্ক ও নিউক্লিয়াসের প্রাণপুরুষ সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিষয়ে আলোকপাত করছেন, যদিও তার নিজস্ব ভঙ্গিতে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।