× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

বেতন-ভাতার দাবিতে লাগাতার অবস্থান পৌর কর্মচারীদের

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ মার্চ ২০১৮, সোমবার, ৯:৩০

বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের ৩২৭টি পৌরসভার প্রায় ৩২,৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। গতকাল দ্বিতীয় দিনের এই আন্দোলনে ফেনী, দাগনভূঞা পৌরসভার মিজানুর রহমান নামে এক কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজ নিজ পৌরসভায় আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরও দাবি আদায় না হওয়ায়, তারা অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
শনিবার থেকে পৌরসভার সব ধরনের সেবা বন্ধ করে, পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। পাবনা চটমোহর পৌরসভা থেকে আন্দোলনে যোগ দেয়া রোকসানা পারভিন বলেন, আমরা খুব মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমার স্বামী ও আমি দুজনেই পৌরসভায় চাকরি করি। কিন্তু তার পরও ঈদ, পহেলা বৈশাখসহ বছরের কোনো বিশেষ দিনে ছেলে-মেয়েদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারি না। সংসারের কারোর মুখে একটু ভালো খাবার তুলে দিতে পারি না।
তিনি বলেন, আমাদের পৌরসভার সচিব তিন বছর আগে অবসরে গেছেন, কিন্তু তার মৃত্যুর দুই বছর পর এখনো তার পরিবার অবসর-ভাতার কোনো অর্থ পায়নি। এমনকি বেঁচে থাকাকালে তার কিডনি সমস্যার জন্য প্রতিনিয়ত কিডনি ডায়ালেসিস করার মতো টাকা জোগাড় করতে পারতেন না তিনি। নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভা কর্মচারী আব্দুর ছাত্তার বলেন, আমরা অতি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের সেবা দিয়ে বেড়াই। নগরবাসীর ময়লা ফেলা থেকে শুরু করে সব কাজেই আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা মাসের পর মাস কোনো বেতন পাই না। মাস শেষ হলেই মেয়র বলেন, একটু কষ্ট করো বেতন হয়ে যাবে। কিন্তু নানা বিল পরিশোধের বাহানা দিয়ে, আবারও অন্য মাসের ন্যায় আমাদের বেতন আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, আমরা এর আগে বেতনের দাবিতে কয়েকবার পৌরসভায় আন্দোলন করেছি। জেলা প্রশাসকের অফিস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যলায়ে স্মারকলিপি জমা দেয়াসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। নানা আশ্বাসে আমাদের কাজে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু যখন আমরা আর সহ্য করতে পারিনি, তখন পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলেও জানান ওই কর্মচারী। আন্দোলনে যোগদান করা দিনাজপুর বিরামপুর পৌরসভার কর্মচারী আনোয়ার ইসলাম বলেন, ৩২৭ পৌরসভার মধ্যে ২২৬ পৌরসভায় বেতন-ভাতা দুই থেকে ৫৮ মাস পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এমনকি শতভাগ পৌরসভায় অবসরকালীন ভাতা প্রদান বন্ধ রয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলো নিয়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপিসহ নানা দেন-দরবার করেছি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একাধিকবার সংসদে আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু কোনোরকম ফলাফল পাওয়া যায়নি। এজন্যই বাধ্য হয়ে আমরা অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যারা চাকরি থেকে অবসরে গেছেন, মাসের পর মাস পৌরসভায় ধরনা দিয়েও তারা কোনো অবসরকালীন ভাতা পাচ্ছে না। বেতনের কথা শুনলেই, মেয়র বলেন, ফান্ড নেই, দেবো কোথা থেকে? তিনি বলেন, আমাদের নিয়োগ, বদলী ও পদোন্নতি মন্ত্রণালয় করে; কিন্তু তারা বেতনের বিষয়ে কোনো মাথা ঘামায় না। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় সরকার আরও সাড়ে ৩০০ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিচ্ছে। যাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে পৌরসভার ওপর। ফলে এই জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোনো জাতীয়করণ করার দাবি করছি না, আমরা শুধু চাই আমাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া হোক। তিনি আরো বলেন, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থেকে শুরু করে চৌকিদারের বেতন ভাতার ৭৫ শতাংশ সরকার থেকে দেয়া হয়, সেখানে স্থানীয় সরকারে আর একটি অংশ কেন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যেখানে প্রতিবছর দেশের উন্নয়নের জন্য লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, সেখানে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা মানুষের সেবা করে আমরা কেন সরকারি বেতন-ভাতা পাবো না? এই আন্দোলনের বিষয়ে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন দুই থেকে ৫৮ মাস পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োগ দেয়া হলেও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাদের কোনো বেতন-ভাতা দেয়া হয় না। এর আগেও এ দাবিতে প্রতিটি জেলার ডিসি, সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
anynomus
১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার, ১১:৫৭

পৌরসভার সেবা না সবাই তো ঘুসের জন্য বসে থাকে, টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না ... আবার বড় বড় কথা ... সেবা

অন্যান্য খবর