× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রামে সেনা অবকাঠামো

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ মার্চ ২০১৮, সোমবার, ১০:৩৫

রোহিঙ্গাদের পুড়িয়ে দেয়া বাড়িঘর, স্থাপনার ওপর নিরাপত্তা বিষয়ক অবকাঠামো নির্মাণ করছে মিয়ানমার। এর মধ্যে রয়েছে এমন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের জন্য। নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাডও। মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ কথা বলেছে। সোমবার ‘রিমেকিং রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। রোহিঙ্গাদের পুড়িয়ে দেয়া বাড়িঘর বা ধ্বংস করে দেয়া বাড়িঘরে কর্তৃপক্ষের এভাবে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার দেশে ফে$রার পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, নতুন রিপোর্টে অ্যামনেস্টি স্যাটেলাইটে গোলা ছবি ব্যবহার করেছে।
যুক্ত করেছে সাক্ষাতকার। এতে দেখানো হয়েছে ক্রমবর্ধমান হারে রাখাইনে সেনাবাহিনীর জন্য ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। গবেষকরা এমন উদ্যোগকে ‘ভূমি গ্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সোমবার নতুন রিপোর্ট প্রকাশের আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স বিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, অ্যামনেস্টি সর্বশেষ গবেষণায় নতুন প্রমাণ হাজির করেছে। তাতে ওইসব অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি দেখানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা যেসব গ্রামে বা যেসব স্থানে ফিরে যাওয়া উচিত সেখানেই এমন সব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকে থাকা বাড়িগুলো গুঁড়িয়ে দেয়অ হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব হলো প্রকৃত অবস্থার খন্ডিত অংশ। অ্যামনেস্টি বলেছে, রোহিঙ্গাদের এসব জায়গার ওপর শুধু নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অবকাঠামোই নির্মাণ করা হচ্ছে শুধু তা-ই নয়। সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাড। নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক। রোহিঙ্গাদের পুড়িয়ে দেয়া সম্পদের চারপাশে এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। মংডু শহরের বাইরে কান কাইয়া নামের একটি গ্রামের স্যাটেলাইট ছবি ধারণ করেছে অ্যামনেস্টি। আগস্টের দু’মাস পরে ওই গ্রামের ধারণ করা ছবিতে দেখা যায় বসতি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মার্চের শুরুতে ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, ওই সব জমির ওপর ভবন দৃশ্যমান। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বাস করছে, এটা হতে পারে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন ঘাঁটির অংশ। একই রকম ভবন বা ভবন নির্মাণের তৎপরতা দেখা গেছে ইন ডিন গ্রামে। এই গ্রামেই ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল মিয়ানমার। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা শুরুর পরে বাধ্য হয়ে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এর বেশির ভাগই মুসলিম। তাদের ওপর চালানো এই নৃশংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ জাতি নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার। তারা দাবি করে, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) চালানো হামলার জবাবে তারা অভিযান চালায় রাখাইনে। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ সেনাবাহিনী আরসার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নামে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেছে। এটা জাতি নিধন। এর পর থেকে ওই এলাকায় কোনো মানবাধিকারকর্মী বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষককে যেতে দেয়া হয় নি। অনুমতি পান নি জাতিসংঘের তদন্তকারীরাও। জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৌলিক অধিকার বা নিরাপত্তার বিষয়ে গ্যারান্টি ছাড়া বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ফিরে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এ অবস্থায় অ্যামনেস্টি তার রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বলেছে, রোহিঙ্গারা যে জায়গাজমি ফেলে এসেছেন তা জাতিগত বৌদ্ধ ও অমুসলিম গ্রুপগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার প্রমাণ মুছে দেয়া হবে। এ বিষয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর