ঢাকা, ২৬ মে ২০১৮, শনিবার

রাজধানীসহ ৪ বিভাগীয় শহরে জনসভার কর্মসূচি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার, ৯:১৮

খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ ৪ বিভাগীয় শহরে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্বঘোষিত ১২ই মার্চের জনসভা আয়োজনে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আগামী   ১৯শে মার্চ ফের জনসভার কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। একই দাবিতে ১৫ই মার্চ চট্টগ্রাম, ২৪শে মার্চ বরিশাল ও ৩১শে মার্চ রাজশাহীতে জনসভা করবে বিএনপি। গতকাল সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার দেশকে রাজনীতি বিবর্জিত করে ফেলেছে। আমরা আশা করব সরকারের বোধোদয় হবে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে তারা সহযোগিতা করবে। অনেকে মনে করছেন, এটা আমাদের দুর্বলতা, কিন্তু এটা দুর্বলতা নয়; আমাদের দেশপ্রেম। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাচ্ছি। সংঘাতে যেতে চাচ্ছি না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সকল কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। প্রত্যাশা করছি, গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের জনসভার অনুমতি দেবে। বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে এখন  এই রাজনীতি কি গোয়েন্দারা চালাচ্ছে? তাদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি বিরোধী দলকে সভা করতে দেয়া না দেয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে? তিনি বলেন, ১২ই মার্চের জনসভা সফল করতে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃৃপক্ষ অর্থাৎ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করা হয়েছিল। জনসভা সফল করতে প্রচারপত্র বিলি থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর এবং বৃহত্তর ঢাকা জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছিল। কিন্তু আজকে কোন কারণ ছাড়াই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে জনসভা করতে দেয়া হলো না। মির্জা আলমগীর বলেন, এটা নির্বাচনের বছর। নির্বাচনের বছরে সব রাজনৈতিক দলকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেয়ার দায়িত্ব রয়েছে সরকারের। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চাইলে সরকারকেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন হবে না। আমরা যদি সভা-সমাবেশ করতে না পারি, কথা বলতে না পারি, তাহলে নির্বাচন কাকে দিয়ে হবে? তিনি বলেন, কয়েক বছরে গোটা দেশকে রাজনীতি বিবর্জিত করে ফেলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অধিকার নেই। রাজনৈতিক নেতাদেরকে মিথ্যা মামলায় হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে; কারাগারে নেয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার বলতে কিছু নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শুনলে অবাক লাগে আওয়ামী লীগের নেতাদের কথা যে, বেআইনি কর্মসূচি হলে তো পুলিশ বাধা দেবেই!’ কিন্তু কোনটা আইনি, কোনটা বেআইনি? আপনারা (ক্ষমতাসীন দল) পুরো রাস্তা দখল করে মিছিল করবেন সেটা আইনি; আপনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার পাশেপাশে মিছিল করবেন সেটা আইনি। আর আমরা জনসভা করতে যাব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে সেটা হয়ে যাবে বেআইনি! ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ পুলিশকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু বইমেলার দোহাই দিয়ে পুলিশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা দলীয় কার্যালয়ের সামনে কোথাও জনসভা করার অনুমতি দেয়নি। সে সময় মৌখিকভাবে তারা পরবর্তী মাস বা এই মার্চ মাসে জনসভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছিল। তিনি বলেন, আসলে গণবিচ্ছিন্ন সরকার জন-আতঙ্কে ভোগে। জনগণের বিপুল সমাগমের সম্ভাবনা থাকলে সরকার অজানা আশঙ্কায় বিপন্নবোধ করে। এই কারণে বিএনপির জনসভাকে বানচাল করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে আসছে। কখনো কখনো জনসভার অনুমতি দিলেও সেটিকে একেবারে ছোট্ট পরিসরে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেয়। জনসভার আশেপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে জনমনে ভয়ের সঞ্চার করে। যেমনটি ঘটেছে খুলনায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সমপ্রতি নাগরিক স্বাধীনতা হরণকারী সরকার বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে কদাচিৎ অনুমতি দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে সমাবেশস্থলের ওপর আক্রমণ চালিয়ে দলের নেতাকর্মীদেরকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে আটক করা হয়। যা বর্তমান দুঃশাসনের মধ্যেও এক ভয়ঙ্করতম কালো অধ্যায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আবদুল হালিম ও সাবেক সচিব সুজাউদ্দিন উচ্চ আদালত কর্তৃক আগাম জামিন আদেশ নিয়ে নিম্ন আদালতে গেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানান তিনি। রাজধানীর মিরপুর বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে হাজারো বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে অনতিবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মইন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।