× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার
নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী

কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় না আসে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার, ৯:২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ঐতিহ্য, ভাষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাঙালি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ এবং বাংলা আমার ভাষা, বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্য আমাদের সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে। ফলে কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, এজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ এর শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন। দেশ-বিদেশের সকল বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন একটি সার্বজনীন উৎসব। তিনি বলেন, এই উৎসবটা ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে একত্রে উদযাপন করে। এমনকি প্রবাসে বসবাসকারী বাঙালিরাও উদযাপন করে। আমাদের সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে, সাধারণ জনগণ-সকলেই উৎসবটা উদযাপন করে।
এমনকি একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্তও এই উৎসব উদযাপন হয়। কারণ, এখানে সকলে খুব মন খুলে একাত্ম হয়ে উদযাপন করতে পারে। সেই সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উৎসব উদযাপনে যত বাধাই আসুক, বাঙালি কখনো কোনো বাধা মানে না। এ জাতি বাধা ভাঙতে জানে। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে। সব দেশেই নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই উপমহাদেশে শুধু বাংলাদেশ। কাজেই এখানে নববর্ষের উৎসব এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলায় হাসি, বাংলায় কাদি, বাংলায় জীবন চর্চা করি। শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মন খুলে একাত্ম হয়ে যাতে এ উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য তার সরকার বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করেছে। তিনি এদেশে অতীতে বর্র্ষবরণ উৎসবে নানারকম প্রতিবন্ধকতা থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশি সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ছিল। ’৭৫ এর ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের অনেককেও বাঙালির বর্ষবরণে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার বাধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দীকে বরণ করি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া তার দল এবং ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র, যুব লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে বাঙালি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার মিঠাই, মোয়া, মুড়িমুড়কি, মুরালি, কদমা, জিলেপি প্রভৃতির দ্বারা অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ১৪২৫ সালের নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশের সকল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ গত বছরের মতো এ বছরও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে অবস্থিত শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর, উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ও সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর এ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে ১৩ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ নির্মাণসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবাসনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই কেবল তারা যথাযথ সম্মান পান। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর