ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৮, সোমবার
নি র্বা চ নী হা ল চা ল (ফরিদপুর-২)

আওয়ামী লীগে কোন্দল, স্বস্তিতে বিএনপি

মাহাবুবুল ইসলাম পিকুল, ফরিদপুর থেকে | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার, ৯:৫৭

নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে। অপরদিকে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি প্রার্থী। এলাকার মানুষ মনে করছে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নবীন আর প্রবীণের মধ্যে। দেশ স্বাধীনের পর আসনটি বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়েদুর রহমানের দুর্গ হিসেবে খ্যাত ছিল। কেএম ওবায়েদুর রহমানের মৃত্যুর পর জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর আয়ত্তে আসে। এরপর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পায়।

জেলা নির্বাচন কমিশন থেকে জানা গেছে, আসনটিতে মোট ভোট রয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭০ হাজার ৯৬০ আর মহিলা ভোটার রয়েছে ৮৬ হাজার ৮৯১ জন। দেশ স্বাধীনের পর কেএম ওবায়েদুর রহমান ৪ বার, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ৪ বার আর জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ২ বার আসনটি দখলে রাখে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তার বড়পুত্র আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলুর রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে মায়ের হাত ধরে। তিনি রাজনীতিতে এসে নানা কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরাগভাজন হন। আর এ কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এ অবস্থায় মাঠে নামে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মেজর (অব.) আতম হালিম, সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান ও যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন। মনোনয়নের প্রত্যাশায় তারা নিয়মিত এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন। এ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলা জাকের পার্টির সভাপতি মশিউর রহমান জাদু মিয়া।

এদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওবায়েদ কন্যা শামা ওবায়েদ একাই ধানের শীষের কাণ্ডারী হয়ে মাঠে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। আমি দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে আবার নৌকাকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমার ডাকে ইতিমধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী সাড়া দিয়েছেন।

মেজর (অবঃ) আতম হালিম বলেন, উপনেতার পুত্রের কারণে বিতাড়িত হন দলের ত্যাগী নেতারা। আমি দলের বিতাড়িত নেতাকর্মীকে এক করে মাঠে নেমেছি। শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। দল আমাকে মনোনীত করলে আশা রাখি এ আসনটি আমি ধরে রাখতে সক্ষম হবো।

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা তারুণ্যকে পছন্দ করেন। আমি তরুণ। এলাকার মানুষ আমাকেও মেনে নিয়েছে। আমি নিয়মিতভাবে কাজ করছি। আশা করছি আমাকে মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখতে পারবো। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমি তার জন্য কাজ করবো।

সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করছি। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে মনোনয়ন না দিলে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। আমাকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হবো বলে আশা রাখি।

এ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী শামা ওবায়েদ রিংকু বলেন, এলাকাটি ছিল বিএনপি অধ্যুষিত। আমি দলের জন্য কাজ করছি। আমাদের নেতাকর্মীকে নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করছি। আশা করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে পারবো।

দিনক্ষণ এখনো ঠিকঠাক না হলেও আসনটিতে দলীয় প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপের কারণে নড়েচড়ে বসছে এলাকার সাধারণ ভোটার। তাকিয়ে আছে আগামী দিনের নির্বাচনের দিকে। দীর্ঘদিনে যারা তাদের বিপদে-আপদে পাশে ছিল তাদেরকেই ভোট দেয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।