ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

খালেদা জিয়া অসুস্থ, চিকিৎসা পাচ্ছেন না: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার, ১০:০০

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ না দেয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বহুমুখী চক্রান্তের অংশ বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গতকাল বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার জন্যই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে পরিকল্পিতভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে। এখন তাকে চিকিৎসার সুুযোগও দেয়া হচ্ছে না। এটা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে আওয়ামী লীগের বহুমুখী চক্রান্তের অংশ। রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। তিনি অসুস্থ হলেও এখন পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সরকারি মেডিকেল বোর্ড মামুলি প্রহসনের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করে ফিজিওথেরাপির সুপারিশ করেছে। একজন বয়স্ক ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী যিনি দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি তাকে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখায় আরও বেশকিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি চোখের অপারেশনও হয়েছে তার। তিনি বলেন, সরকারি মেডিকেলের চিকিৎসক বোর্ড বলেছে, তার এক্স-রে রিপোর্টগুলোতে দেখা যাচ্ছে ঘাড়ে ও কোমরের হাড়ে সমস্যা আছে। এমন পরিস্থিতিতে আধুুনিক চিকিৎসার যুগে এমআরআইসহ উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধু এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ও সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, দেশনেত্রীকে যেদিন পিজি হাসপাতালে আনা হয়েছিল সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ডাকা হলেও তাদের চিকিৎসাসেবার সুযোগ ও পরামর্শ নেয়া হয়নি। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের দেখা করতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। রিজভী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য অতি দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারি হুকুমে কারসাজিমূলকভাবে তার জামিন স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঘৃণ্য চক্রান্ত বাদ দিয়ে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। তার চিকিৎসা কিসে ভালো হয়, সেটি তাকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দিন। খালেদা জিয়ার ইচ্ছানুযায়ী তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন। রিজভী আহমেদ বলেন, পহেলা বৈশাখের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় না আসতে পারে।’ কিন্তু এখন জনগণ মনে করে দেশের সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি হচ্ছে বর্তমান মহাজোট সরকার। ভোটারবিহীন অগণতান্ত্রিক শক্তি হচ্ছে সবচাইতে নিকৃষ্ট অশুভ শক্তি। মানুষ দিন গুণছে এই অশুভ শক্তির পতনের। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচারীরা কী শুভ শক্তি? বিএনপির মুখপাত্র বলেন, অনাগত দিনের দুশ্চিন্তা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ঘনায়মান হতাশা আর বিরোধীদের গুম, খুন, অদৃশ্য করা, হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা, হাঁটুতে গুলি করে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করা, খুলনার বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে কক্সবাজারে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে দেয়া ইত্যাদি পরিস্থিতিতে প্রাণ খুলে হাসতে ভুলে গেছে দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী। এই পরিস্থিতি কী কোনো শুভশক্তির লক্ষণ? জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, জনগণের সমস্ত মৌলিক ও মানবাধিকার কেড়ে নিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে সম্পূর্ণ বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছেন। এটা কী শুভশক্তির পরিচয় বহন করে? এখন রাষ্ট্রক্ষমতাকে আরও দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করার স্বপ্নে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে জেলজুলুম ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। রিজভী বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কবিগুরুর ‘১৪০০ সাল’ কবিতাটি আওড়িয়েছেন। আমি শুধু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এটুকুই বলতে চাই- বিরোধীদের প্রতি সরকার প্রধানের ক্ষোভ, ঘৃণা এবং ধ্বংস করার মানসিকতার কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওই কবিতাটি এখন কীভাবে গৃহীত হচ্ছে সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি। কবিগুরু ‘১৪০০ সাল’ কবিতার এক জায়গায় লিখেছেন- ‘আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন/পাঠায়ে দিলাম তার করে।/আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে/ধ্বনিত হোক ক্ষণতরে।’ এই কবিতায় কবিগুরু শতবর্ষ পরে অনাগত কালের কবিকে নিজের বসন্ত গান অভিবাদন পাঠিয়েছেন, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে বসন্ত দিন হারিয়ে গেছে, অরাজকতার তীব্র তাপদাহে নির্মম অভিঘাতে। রিজভী বলেন, ইংরেজ কবি উইলিয়াম ব্লেক-এর একটি কবিতা শেখ হাসিনার এই দুঃসময়ের জন্য প্রযোজ্য। কবি বলেছেন- ‘অ্যান্ড দেয়ার ফিল্ডস আর ব্লিক অ্যান্ড বেয়ার/অ্যান্ড দেয়ার ওয়েজ আর ফিল্‌ড উইথ থর্নস/ইট ইজ ইটারনাল সামার (উইন্টার) দেয়ার।’ এখন বাংলাদেশে কবিগুরুর বসন্ত দিন হারিয়ে গেছে, ছয় ঋতুচক্রের আবর্তন নেই, আছে শুধু মরুতাপে দগ্ধ অবিরাম দুঃসহ গ্রীষ্ম। রিজভী বলেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে। ১২ই এপ্রিল তিনি পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে গেলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ তার গাড়ির গতিরোধ করে এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। যদিও আশফাক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অসত্য ও বানোয়াট মামলায় উচ্চ আদালত কর্তৃৃক জামিনে রয়েছেন। এই মামলা ছাড়া তার নামে কোনো মামলা না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে না দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হলে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য যান। বিষয়টি নিয়ে আবু আশফাক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার ঢাকাকে অবহিত করলেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। আসলে স্থানীয় প্রশাসন পরিকল্পনা করে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্তের ষড়যন্ত্র করছে। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।