ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০১৮, বুধবার

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিককে আটকে দিল পাকিস্তান, পাসপোর্ট জব্দ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ মে ২০১৮, রোববার, ১:৩৮

আফগানিস্তান থেকে সবেমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ বিমান এসে অবতরণ করেছে পাকিস্তানের নূর খান বিমান ঘাঁটিতে। তাতে আরোহণ করার কথা পাকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক কর্নেল জোসেফ হলের। কিন্তু ওই বিমানে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তাকে থামিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। ফলে তিনি ওই বিমানে উঠতে পারেন নি। পাকিস্তানের ডন’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়েছে, ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে এক মোটর সাইকেল আরোহীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাকিস্তান থেকে কর্নেল জোসেফ হলকে নিয়ে যেতে নূর খান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে ইউএস এয়ার ফোর্স সি-১৩০ বিমান। আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি থেকে তা উড়ে আসে ইসলামাবাদে ওই বিমান ঘাঁটিতে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া এগারটায়। ডন তার রিপোর্টে বলেছে, এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিকের সঙ্গে ছিলেন আটজন মানুষ। তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছামাত্র তাকে থামিয়ে দেয় পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির কর্মকর্তারা। সঙ্গে সঙ্গে তার পাসপোর্ট জব্দ করে। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ডন জানাচ্ছে, এ সময় ওই কূটনীতিক তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চান। কর্নেল হলকে পাকিস্তান ত্যাগের কোনো অনুমতি দেয়া হয় নি। ফলে ওই বিশেষ বিমানটি আবার আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ফিরে যায়। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে ইসলামাবাদ ত্যাগ করে বিমানটি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিককে নিরেট দায়মুক্তি ভোগ করতে পারবেন না মর্মে একটি রায় পাস করেছে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট। এর পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলো। ইসলামাবাদ হাই কোর্ট ওই কূটনীতিকের নাম এক্সিট কন্ট্রোল লিস্ট বা দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের তালিকায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে সরকারকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৭ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিক কর্নেল হল ইসলামাবাদে ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলা অবস্থায় তিনি সিগন্যাল অতিক্রম করেন এবং     একটি মোটর সাইকেলে থাকা দু’জন মানুষকে আঘাত করেন। এতে একজন মারা যান। নিহত ব্যক্তির পিতা এ বিষয়ে ইসলামাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি আর্জি জানান ওই কূটনীতিক যেন পাকিস্তান ছেড়ে যেতে না পারেন। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনা এতে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। ঘটনা এখন দাঁড়িয়েছে তেমন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের কূটনীতিকদের চলাচল সীমাবদ্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তার পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ করেছে। দৃশ্যত আফগান যুদ্ধের সময় থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তালেবান বা আল কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান পাশে থেকেছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ জন্য পাকিস্তান কোটি কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নাখোশ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যথেষ্ট লড়াই করছে না। এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ। তাই পাকিস্তানকে দেয়া প্রণোদনা কর্তন করে মার্কিন প্রশাসন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।