ঢাকা, ২৭ মে ২০১৮, রোববার

শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন মানেই বিরাট ধাপ্পা: বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মে ২০১৮, মঙ্গলবার, ১:০৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন মানেই বিরাট ধাপ্পা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নানা জল্পনা কল্পনা ও গুঞ্জনের মধ্যে শুরু হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ পর্ব। ক্ষমতাসীনদের কল্যানে নির্বাচনে চিরাচরিত উৎসবের আমেজ নেই। শুধু ভোটারদের মনে হাহাকার। ধানের শীষের মহিলা এজেন্টদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন ভোট কেন্দ্রে না যায়। ভোট কেন্দ্রে গেলে হেনস্তা হবে। পুরুষ এজেন্টদের ওপর হামলা করে আহত করা হয়েছে। ধানের শীষের এজেন্ট, সাধারণ ভোটারদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শনের সিংহভাগ দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনে জয়লাভ ক্ষমতাসীনদের করায়ত্ত্ব করতে তারা মরিয়া। অশান্তি আর নিগ্রহে ভরপুর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন মানে বিরাট ধাপ্পা। সকাল দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব সৃষ্টি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটদানসহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। রিজভী বলেন, ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন- সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুুলিশের সহায়তায় ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়েছে।  সকাল আটটায় ২৫ নং ওয়ার্ডের ৫টি ভোটকেন্দ্রসহ নুরানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের এজেন্টদের তালিকা নিয়ে যাবার সময় মনির নামে এক বিএনপি কর্মীকে সন্ত্রাসীরা মারধর করে। নজরুল নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। খালিসপুর-১৫ নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্ট লিলি এবং লিমা আক্তারকে মধ্য পালপাড়া নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের এজেন্ট কার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। রিজভী বলেন, নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। হাজী মালেক মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে না যেতে ভোটারদেরকে মুক্তার হোসেন সড়কে বাধা দেয়া হচ্ছে। ২০ নং ওয়ার্ডে এইচ আর এইচ প্রিন্স আগাখান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাধারণ ভোটারদেরকে বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে। তিনি বলেন, কেসিসির ২২ নং ওয়ার্ডে জেলা স্কুল ও নতুন বাজার চরকেন্দ্রেযেতেভোটারদেরকে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। ফাতেমা স্কুল কেন্দ্র যেখানে নৌকার মেয়র প্রার্থী ভোট দিয়েছেন সেখানে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারা হচ্ছে। ২৫ নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকিয়া মাদরাসা ও নুরানী মাদরাসা ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দিচ্ছে। ২৬ নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় জাল ভোট দেয়ার মহৌৎসব চলছে। ১৫ নং ওয়ার্ডে নি¤œ মাধ্যমিক স্কুল ও পলিটেকনিক স্কুল কেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের কাছ থেকে আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। রিজভী বলেন, খুলনা সিটির ৪ নং ওয়ার্ডে দেয়ানা উত্তর পাড়া কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং বিএনপি কর্মী মিশুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩০ নং রুপসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং ধানের শীষের প্রার্থীর ভোটার ও সমর্থকদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ২১ নং ওয়ার্ডে প্রভাতী স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা চলছে। পোলিং এজেন্টদেরকে মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দেয়া হয়েছে। রিজভী বলেন, নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ড ইসলামাবাদ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের হামলা চলছে। পোলিং এজেন্টকে মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দিয়েছে। পাইওনিয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের হামলা, মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দিয়েছে বিএনপির পোলিং এজেন্টদেরকে। সদর থানা কয়লাঘাট স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। পলিটেকনিক কলেজ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী হামলা করে পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেয়। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, গল্লামারি লায়ন্স স্কুল ও নিরালয় স্কুল কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টকে প্রশাসনের সামনে মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০ নম্বর কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। বুথের সামনে নিজেদের এজেন্টদেরকে বলছে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দেয়ার জন্য আওয়ামীলীগ সমর্থকরা। ২২ নং ওয়ার্ডের ১৭৯ নম্বর কেন্দ্রের সামনে থেকে যুবদলের কর্মী সেলিমকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী বিকু কাজী ধরে নিয়ে গেছে। একই কেন্দ্রে বিএনপি নেতা খান মঈনুল হাসান মিঠু ও আলী আকবরকে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে সন্ত্রাসীরা। তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
[কাফি]

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


এ এইচ ভূইয়া

১৫ মে ২০১৮, মঙ্গলবার, ৬:৪৪

রিজবি সারা রাত ধরে মিথ্যা বিবরিতি লেখে পরের দিন সংবাদে প্রচারের জন্য, শুধু মাত্র এই কাজ ছাড়া আর কিছু নাই।