ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০১৮, বুধবার

এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ মে ২০১৮, বুধবার, ১০:০২

খুলনা সিটি করপোরশন নির্বাচনে সরকার পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাস দিয়ে বিএনপির কর্মীদের কেন্দ্রের আশে-পাশে দাঁড়াতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধানের শীষের পোলিং এজেন্টেদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজোরাই নৌকা প্রতিকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন। এ সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সরকারে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নাহলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। গতরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমান হলো এ সরকার ও ইসির অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই আমাদের ও জনগণের দাবি নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনগঠন করতে হবে। খুলনায় সেনা মোতায়েম থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতো। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সেটা প্রমাণ হয়েছে যখন আমরা ওখান থেকে খবর পাচ্ছি এক ধরণের, সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে এক ধরণের। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রচার হয়েছে আবার ভিন্নভাবে। আসলে তারা আসল ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেয়নি। মির্জা আলমগীর বলেন, যখন সংবাদ এলো ১ টার পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হয়েছে। তখন সিইসিকে ফোন করে বলিÑ খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি আমাকে বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। আমি যখন বললাম, আমি আপনাকে সোর্স বলছি তখন সিইসি নুরুল হুদা বললেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। তখন আমি সংবাদ মাধ্যমগুলোর নাম বললে তিনি বলেন আমি দেখছি। এখনও তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তখনও তিনি বলেছিলেন, আমি দেখছি। তিনি শুধুই দেখছেন। সরকারের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দ৭াড় করিয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। এটা কখনও একটা জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। এখন দেখি পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রটেক্ট করছে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এমনকি সাবেক সিইসি শামসুল হুদা ও কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বলেছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই বারবারই আমরা সরকারকে বলছিÑ আসুন আলোচনা করুন। কিভাবে একটা সুষ্ঠুতা ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায় সেটির পথ বের করি। কিন্তু সরকার এসবে কর্ণপাত করছে না। এ সময় তিনি কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অসুস্থ জানিয়ে তাকে মুক্তি দেয়ার ও সুচিকিৎসার দাবি জানান। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


আকতারুজজামান আপন

১৫ মে ২০১৮, মঙ্গলবার, ৯:১৫

গরিব জনগণ এর টাকা দিয়ে আর কত তামাশা করবে হুদা কমিশন। আমার তো মনে হয় হুদা কমিশন এর বিচার করা উচিত। কারন দেশ তো উন্নয়নশীল হতে চলেছে,তাহলে ভোট ডাকাতি আগের মত কেন।