× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার

১৫০টির বেশি কেন্দ্র দখল করেছে সরকারদলীয় লোকজন: বিএনপি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ মে ২০১৮, বুধবার, ১০:৩৪

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজন ১৫০টির বেশি কেন্দ্র দখল করে করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৯৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সবক’টিতেই ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষমদদে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য সকল অপচেষ্টা চালিয়েছে। ১৫০টির বেশি ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আমরা নানা সূত্রে জানতে পেরেছি, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেলা আড়াইটা থেকে ৪টায় ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে একচেটিয়া সিল মারার জন্য খুলনা পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। ভোট এরকমই হবে বলে নৌকা মার্কার প্রার্থী নিশ্চিত ছিলেন বলেই নির্বাচনের দিনের দুদিন আগে ভোটে জেতার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে দেয়ালে দেয়ালে সেঁটেছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী। ভোট সন্ত্রাসের ঘটনায় খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটাররা ব্যথিত, বঞ্চিত, অপমানিত। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ধানের শীষের মহিলা এজেন্টদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে তারা যেন ভোট কেন্দ্রে না যায়। ভোট কেন্দ্রে গেলে হেনস্তা হবে। পুরুষ এজেন্টদের ওপর হামলা করে আহত করা হয়েছে। ধানের শীষের এজেন্ট, সাধারণ ভোটারদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শনের সিংহভাগ দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনে জয়লাভ ক্ষমতাসীনদের করায়ত্ত করতে তারা মরিয়া। অশান্তি আর নিগ্রহে ভরপুর খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন, শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন   মানে বিরাট ধাপ্পা। ক্ষমতাসীনদের কল্যাণে নির্বাচনে চিরাচরিত উৎসবের আমেজ ছিল না। ভোটারদের মধ্যে ছিল হাহাকার। রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার প্রর থেকেই সরকারি জয়োল্লাসের ধরন থেকে বোঝা যাচ্ছিল নির্বাচনের দিন ভোটের পরিণতি কী হবে।

ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘হাসিনা মার্কা’ নির্বাচনের স্বরূপ আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে। ধানের শীষের এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়িতে বাড়িতে হুমকি, শারীরিক আক্রমণ, মহিলা ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করাসহ আওয়ামী লীগের রক্তাক্ত নির্বাচন বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার সমর্থিত টিভি চ্যানেলগুলোতেও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট সন্ত্রাস ও ভোট জালিয়াতির চিত্র প্রচারিত হয়েছে। সকল অভিযোগ স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গোচরে আনা হলেও, তারা এক চোখ বন্ধ করে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা অস্বীকার করে সরকারের কাছে পরাধীন হওয়ার জন্য আত্মসমর্পণ করেছে। রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারেরই ফটোকপি। সরকারের ‘কমেপ্রামাইজড কপি’। সেই জন্য তাদের কারণে  একতরফা নির্বাচনের জয়জয়কার। তাই আওয়ামী ভোট-সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া, ভোটারদের ভোট কেড়ে নিতে বাধাহীন। খুলনা সিটি নির্বাচনে ভয়, ভীতি আর রক্তচ্ছটায় পরিব্যপ্ত। তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনোদিনই দূষণমুক্ত নির্বাচন হবে না। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা একই নৌকার যাত্রী হওয়ার কারণে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকেই আদর্শ নির্বাচন হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। তাদের কোনো লজ্জাবোধ নেই। নির্বাচন কমিশন সরকারেরই বিম্বিত কণ্ঠস্বর। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত যা ভোট হয়েছে, তা প্রহসন। প্রহসনের আরো একটি নিদর্শন হচ্ছে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী একটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন গোটা ব্যালট বইটির প্রতিটি পেপার নৌকা মার্কার সিলে ভরা। আরো কয়েকটি কেন্দ্রে সাংবাদিকরা ওই ধরনের ঘটনা সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন।

আওয়ামী লীগের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। গতকাল সকাল থেকে তিন দফা ব্রিফিংয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটদানসহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। রিজভী বলেন, পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগের লোকজন পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের বের করে দিয়ে ১১ নম্বর ওয়ার্ড, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সকল কেন্দ্রসহ ২০নং ওয়ার্ডে এইচ আর এইচ প্রিন্স আগাখান উচ্চ বিদ্যালয়, ফাতেমা স্কুল, ২৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকিয়া মাদরাসা ও নুরানী মাদরাসা, ২নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণমোহন স্কুল, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা সরকারি জেলা স্কুল, আবু হানিফ মাদরাসা, কয়লাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভাষাণী বিদ্যাপিট, ২৪নং ওয়ার্ডের ২০১ ও ২০২ নম্বর কেন্দ্র, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২১৭ নম্বর কেন্দ্রে দারুল কোরয়ান সিদ্দিকীয়া মাদরাসা, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গল্লামারী লায়ন্স স্কুল, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর স্কুল, সোনাপাতা স্কুল, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসেফ স্কুল, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮৪ নম্বর কেন্দ্র, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়ানা দক্ষিণপাড়া কেন্দ্র, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া আইয়ুব আলী কেন্দ্র, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৮ নম্বর কেন্দ্রসহ অন্তত দেড়শতাধিক কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে দেদারসে সিল মেরেছে।

অন্যদিকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিদ্যালয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫, ২৬, ২৮ ও ৩১ নম্বর কেন্দ্র, ১৮নং ভোট কেন্দ্র, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরানী বহুমুখী মাদরাসা, পলিটেকনিক কলেজ, গল্লামারি লায়ন্স স্কুল ও নিরালয় স্কুল, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০ নম্বর কেন্দ্র, ২১নং ওয়ার্ডের উদয়ন বিদ্যালয়, ২৪নং ওয়ার্ডের গনি বিদ্যালয়, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়া খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রসহ ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে পুুলিশের সহায়তায় ধানের শীষ প্রতীকের সকল এজেন্টদের বের করে দেয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন। এর আগে ২৫নং ওয়ার্ডের ৫টি ভোটকেন্দ্রসহ নুরানিয়া মাদরাসা, নজরুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৫নং ওয়ার্ডে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল ও পলিটেকনিক স্কুল, ৩০ নং রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু হানিফ কেরাতুল কোরআন মাদরাসা, হাজী মালেক মাদরাসা, ২২নং ওয়ার্ডে জেলা স্কুল ও নতুন বাজার চর, ৩১নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র-২৭৭ ও ২৭৮ লবণচোরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২১নং ওয়ার্ডে প্রভাতী স্কুল, খালিসপুর ১৫নং ওয়ার্ডের বেশ কিছু কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। অনেক কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। ৩১নং ওয়ার্ডের বিএনপিদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী এইচএম আসলামের বাড়িতে হামলা ও তার পিতা-মাতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে সরকারদলীয় প্রার্থীর লোকজন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর