ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার

মঙ্গোলিয়ান মডেল হত্যার বিচার হবে নতুন করে- আনোয়ার

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ২:০২

মালয়েশিয়ায় কার নির্দেশে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা করেছিলেন মঙ্গোলিয়ান এক মডেলকে! কে হতে পারেন তিনি! তিনি কি সদ্য ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক! নাকি তার কোনো ঘনিষ্ঠজন! সদ্য জেলমুক্ত মালয়েশিয়ার সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এমন সব প্রশ্ন ঘুরছে জনমনে। তিনি বলেছেন, মঙ্গোলিয়ান ওই মডেল হত্যায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে মালয়েশিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর শুরু হবে নতুন বিচার। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইন। এতে বলা হয়, মঙ্গোলিয়ান মডেল আলতানতুয়া শারিবু’কে ২০০৬ সালে হত্যা করা হয়। মালয়েশিয়ার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সিরুল আজহার উমর ওই হত্যাকা- ঘটান। তিনি দাবি করেছেন একজন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ওই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে। এই ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ কে প্রশ্নটা সেখানেই। ক্ষমতা হারানোর পর নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার কথা বলা হচ্ছে। তার দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ জন্য সংশয়টা তাকে ঘিরেই বেশি। বৃহস্পতিবার আনোয়ার ইব্রাহিম ওই মডেল হত্যা নিয়ে কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকা দ্য অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে। স্টার অনলাইন লিখেছে, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সিরুল আজহার উমর এখন রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা হেফাজতে। নতুন করে বিচার শুরু করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন আনোয়ার। উল্লেখ্য, নিহত মঙ্গোলিয়ান মডেল আলতানতুয়া ছিলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল রাজাক বাগিন্ডার প্রেমিকা। ২০০২ সালে ফরাসি সাবমেরিন কেনার সব আয়োজন আবদুল রাজাকই করেছেন বলে অভিযোগ আছে। সাবেক নাজিব রাজাক সরকারের বিরুদ্ধে তখনকার বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মূল হোতাকে এই হত্যাকা- থেকে লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল আজিলাহ হাদরি ও সিরুলকে। তারা দু’জনেই মালয়েশিয়ার তখনকার একজন শীর্ষ স্থানীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তা দানকারী এলিট বাহিনীর সদস্য। কে ওই মডেলকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা এর আগে প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সিরুল। বুধবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সে বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এলেন সংস্কারপন্থি রাজনীতিক আনোয়ার ইব্রাহিম। একদিন পরেই তিনি বললেন, ওই মামলার বিচার নতুন করে করা হবে। এ জন্য সিরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি দাবি করেন, ওই মডেল হত্যার মূল বিচার ও তখনকার বিচারকরা রায় দেয়ার ক্ষেত্রে সমঝোতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আনোয়ার বলেন, নতুন করে অভিযোগ গঠনই হবে এ মামলার সবচেয়ে উত্তম উপায়। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ শুনানি হতে হবে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আটক করা হয় সিরুলকে। তারপর থেকেই তিনি সেখানকার জেলে আছেন। তবে এ বিষয়টি কখনোই সরকারিভাবে নিশ্চিত করে নি ক্যানবেরা। গত সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ান রিপোর্ট করেছে। তাতে বলা হয়েছে সিরুলের সুরক্ষা ভিসা বিষয়ক শুনানি শুরু হবে কয়েক মাসের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা ও তাদের মধ্যস্থতাকারীদের নিয়মিতভাবে সিরুলের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে ক্যানবেরা। এর মধ্যে রয়েছেন নাজিব রাজাকের দল ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন দলের যুব শাখার একজন নেতা। ওই নেতা সিরুলকে যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তাহলো- ‘কোনো কিছুতে মুখ খুলতে পারবেন না’। মঙ্গোলিয়ান ওই মডেল হত্যার স্ক্যান্ডাল সেখানে ভীষণ স্পর্শকাতর। এ নিয়ে অনেক বছর নানা সন্দেহ, সংশয় ছড়িয়ে পড়ে। বলাবলি হয়, সাবমেরিন কেনা নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তা নিয়ে মুখ বন্ধ করে দিতেই মডেল আলতানতুয়াকে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বিস্ময়র নির্বাচনে ড. মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৬১ বছর পর ক্ষমতাসীন দলকে উৎখাত করে পাকাতান হারাপান জোট। এ জোটের অন্যতম প্রধান নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমও। মাহাথির ক্ষমতা থেকে এক বা দুই বছরের মধ্যে সরে যাবেন। ক্ষমতা দিয়ে যাবেন তার হাতে। ফলে আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে এ কথা হলফ করে বলা যায়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


আনিস উল হক

১৭ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৪

জজ মিয়া ঘটনা!