× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার

জার্মানির বিপক্ষে হারটা ছিল দুর্যোগ: তিতে

ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮

স্পোর্টস ডেস্ক | ২৭ মে ২০১৮, রবিবার, ৭:৫৪

দুই বছর আগে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব পান কোচ লিওনার্দো বাচ্চি তিতে। তার অধীনে বাছাইপর্বে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে সবার আগে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল। এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিটও সেলেকাওরা। গত আসরে ঘরের মাঠে ফেভারিটের তকমা নিয়েও সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গত আসরের হতাশা ভুলে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ব্রাজিল এমনটাই মনে করেন কোচ তিতে। বিশ্বকাপের জন্য দলকে গুছিয়ে আনতে নেইমার-কুটিনহোদের নিয়ে রিও ডি জেনিরোতে ট্রেনিং ক্যাম্পে ব্যস্ত এখন তিতে। তারই ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিলেন, অন্তত তার আমলে আর ফিরবে না ‘৭-১’ গোলের দুঃস্বপ্ন। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:
ব্রাজিল লাতিন আমেরিকা থেকে সবার আগে বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে।
১৯৫৮তে শেষবার ইউরোপ থেকে বিশ্বকাপ জেতার পর এবার অন্যতম ফেভারিট দল ব্রাজিল। এতে কি আলাদা চাপ অনুভব করছেন?
তিতে: ব্রাজিলের কোচ হওয়া মানেই বাড়তি একটা চাপ। আমরা পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছি। এরপরও আপনি শিরোপা ছাড়া সমর্থকদের আর কোনোভাবেই খুশি করতে পারবেন না। আমরা নিজেরাও এটা বিশ্বাস করে বড় হয়েছি। সুতরাং, প্রত্যাশার চাপ সবসময় থাকবেই। আর আপনাকে চাপের চিন্তা বাদ দিয়েই কাজ করে যেতে হবে। যদি এটা করতে পারেন তাহলেই আপনি বিশ্বকাপজয়ী এক ব্রাজিল দলের সদস্য হতে পারবেন।
২০১৪’র বিশ্বকাপের পর থেকে ব্রাজিল আর ৭-১ সমীকরণটা কোনোভাবেই আলাদা করা যাচ্ছিল না। আপনি দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯ ম্যাচে ১৫টিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এরমধ্যে ৪২ গোলের বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৫ গোল। এমন সাফল্যে রহস্যটা কী?
তিতে: আমি দায়িত্ব নেয়ার পর ছেলেরা আমাকে খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। বিশ্বকে তাদের দেখানো দরকার ছিল যে, তারা কী পারে। আর সেটা তারা করেও দেখিয়েছে। ড্রেসিংরুমে দারুণ এক পরিবেশ থাকে সবসময়। ফুটবলাররা চাইলে মন খুলে কথা বলতে পারে। মাঠে কিংবা বাইরে, সব জায়গায়।
দলের এই রূপান্তরের পেছনে আপনার অবদানটা কী ছিল?
তিতে: আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে, ফলাফলের চেয়ে খেলার মান ধরে রাখাটাই আসল। আপনি কখনোই খেলার ফলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। যেটা পারবেন সেটা হলো খেলোয়াড়দের মান বাড়াতে। এ বিষয়টা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে যে খেলোয়াড়রা কোন কৌশলে খেলবে, তাদের কোন জায়গাটি নিয়ে কাজ করতে হবে। খেলোয়াড়দের জন্য একটি মানানসই পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হয়েছে আমাকে।
প্রতিপক্ষরা নিশ্চয় চাইবে আপনাদের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক খেলতে। আপনি কি এই বিষয়ে কোনো গোপন কৌশল খুঁজে বের করে রেখেছেন?
তিতে: দেখুন, সুইজারল্যান্ড একদম গভীর থেকে খেলা বের করতে ভালোবাসে। তারা আপনাকে সেট পিস (ফ্রি কিক, কর্নার) আর কাউন্টার অ্যাটাক দিয়ে আক্রমণ করতে চাইবে। সার্বিয়া হলো যুগোস্লাভিয়ানদের মতো পুরনো ধাঁচের খেলায় বিশ্বাসী। তারা সাধারণত, প্রতিপক্ষকে খেলার সুযোগ দেয় আর নিজেরা ছোট-ছোট পাসে খেলে। আর কোস্টারিকা গত ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে একটা ম্যাচও হারেনি। পরে নেদারল্যান্ডসের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বাদ পড়েছিল। যেকোনো দলের পক্ষেই সুইজারল্যান্ড আর কোস্টারিকার রক্ষণ ভাঙা কঠিন কাজ। আর সার্বিয়ার আক্রমণ ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণ করা, সেটাতো আরো ভয়ঙ্কর। কিন্তু ভিন্ন কিছু ম্যাচ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য গ্রুপ পর্বে।
দানি আলভেজ তো আপনার পরিকল্পনায় খুব ভালো করেই ছিলেন। পরে এই রাইটব্যাক চোটে পড়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন। এতে কী আপনাকে বিকল্প কৌশল সাজাতে হচ্ছে?
তিতে: আসলে চোট হলো খেলার অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ। এটা ঠিক দানি আমাদের কৌশলে দারুণভাবেই ছিল। মূল একাদশে থাকা নিশ্চিত একজন খেলোয়াড়। কিন্তু আমাদের এখন যেটা করতে হচ্ছে সেটা হলো তার যোগ্য বিকল্প খ্‌ুঁজে বের করা। দানির মতো খেলোয়াড় খুঁজে বের করা খুব কঠিন কাজ। তবে আমাদের মতো কোচদের কাজ হলো যোগ্য জায়গায় যোগ্য খেলোয়াড়টিকে খুঁজে বের করা।
দানি আলভেজ না থাকায় আপনারা কি তাহলে ৩-৪-১-২ ফরম্যাটে খেলবেন?
তিতে: আমাদের জন্য অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে দ্রুত পরিবর্তন করে খেলার অভ্যাস করতে হবে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত তা হলো, আমরা কখনোও সেই ফরম্যাটে খেলতে যাবো না যেটা কোনদিনও খেলিনি।
বিশ্বকাপে নতুন কিছু করা কি ভয়ঙ্কর?
তিতে: আসলে দলের সঙ্গে এটা যায় না। নতুন ফরম্যাটে খেলা যেমন অনিরাপদ আবার তেমনি সংশয়পূর্ণও। আমাকে সাবেক কয়েকজন ফুটবলার এ বিষয়ে বলেছিলেন আর আমিও বুঝেছি তারা কী বলতে চেয়েছেন। অতীতে আপনি যে কৌশলে খেলে সাফল্য পেয়েছেন তাতে আপনাকে ভরসা রাখতে হবে। হঠাৎ করেতো আপনি কোনকিছু পরিবর্তন করতে পারবেনও না।
আপনি জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দলকে খেলিয়েছেন। আর সেই ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমকে ‘৭-১’ নিয়ে খুব একটা লিখতেও হয়নি। ঐ ম্যাচের আগে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
তিতে: আমরা এক বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম যে বিশ্বকাপে ৭-১ গোলের হারটা ছিল একটা দুর্যোগ। আর দুর্যোগ নিয়মিত হয় না। আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি। আর আমরা জানতাম, আমাদের কোথায় কোথায় ভুল ছিল। সুতরাং, আমাদের দায়িত্ব ছিল ভুলকে আর ফিরতে না দেয়া। এরপর আমরা জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচই খেললাম। সবাই জানে, ঘুরে ফিরে সবাই ওই ম্যাচ নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু আমাদের এসব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
রাশিয়ায় ব্রাজিলের সম্ভাবনা কতটুকু দেখছেন?
তিতে: কে বলতে পারে এবার আমরাই জিতবো না। বিশ্বকাপ হলো সাত ম্যাচের আসর। এটা জিততে হলে আপনাকে অন্তত ছয়টা ম্যাচ জিততেই হবে। কেবল গ্রুপ পর্বে একটা ম্যাচ হারা যাবে সর্বোচ্চ। আর শেষ চারটি ম্যাচ যে করেই হোক ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে রাখতে হবে। আগের কাজ আগে। গ্রুপ পর্বে আমাদের কমপক্ষে সাত পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। আর নকআউট সম্পর্কে তো কেউ কিছু বলতে পারে না। বিশ্বকাপ জিততে হলে আমাদের একটা ধারা বজায় রেখে খেলে যেতে হবে। ধারার উপরে যেতে পারবেন কিন্তু নিচে না। নকআউটে পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রেখে সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর