ঢাকা, ১৯ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার

ফিরে দেখা

| ৬ জুন ২০১৮, বুধবার, ৯:৪০

১৯০৪ সালের ২১শে মে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল দে ফুটবল এসোসিয়েশন (ফিফা)। কিন্তু বৈশ্বিক একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে তাদের সময় লাগে ২৬ বছর। ১৯২১ সালে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলে রিমে ফিফা’র তৃতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অলিম্পিকে বিভিন্ন দেশের ফুটবলের দারুণ সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন জুলে রিমে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি আলাদা এশটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার চিন্তা-ভাবনা করেন। আর এরই ফলস্বরূপ ১৯৩০ সালে ফিফা প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করে উরুগুয়েতে। সেবার প্রতিবেশী আর্জেন্টিনাতে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিক উরুগুয়ে। এরপর প্রতি ৪ বছর অন্তর এই আসর নিয়মিত বসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কখনও আমেরিকায়, কখনও ইউরোপে, কখনও আফ্রিকায় আবার কখনও এশিয়ায়। দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল এই মহাযজ্ঞ। আগের প্রতিযোগিতাগুলো কেমন ছিল- ফুটবল উৎসবের বানে ভেসে যাওয়ার আগে ইতিহাসের পাতায় একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক-
১৯৭০ বিশ্বকাপ: মেক্সিকো
চ্যাম্পিয়ন: ব্রাজিল, রানার্স আপ: ইতালি
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের আসর বসেছিল মেক্সিকোতে। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন ও ইতালি রানার্স আপ হয়। এ আসরে নান্দনিক ফুটবলের জনক ব্রাজিল অনন্য এক রেকর্ড গড়ে। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের পর ব্রাজিল ১৯৭০ সালের আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখায়। একমাত্র দল হিসেবে সর্বোচ্চ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে চিরতরে ‘জুলেরিমে’ ট্রফি ঘরে তোলে ব্রাজিল। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের মূল তারকা ছিলেন পেলে ও জাইরজিনহো। ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। প্রথমবারের মতো এবার বিশ্বব্যাপী টিভি’র মাধ্যমে সমপ্রচার করা হয়। পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার সর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট পুরস্কার পান। এ আসরে ইংল্যান্ড দলে ন্যক্কারজনক এক ঘটনা ঘটে। মদ্যপান, চুরিও অশালীন আচরণের অভিযোগে ইংল্যান্ড তারকা ববি মুরকে গ্রেপ্তার করে মেক্সিকো পুলিশ। এ ছাড়াও ১৯৭০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোর আসরে সুযোগ না পাওয়ার। বাছাই পর্ব থেকেই বাদ পড়ে যায় এ সেরা চার দল।
১৯৭৪ বিশ্বকাপ: পশ্চিম জার্মানি
চ্যাম্পিয়ন: পশ্চিম জার্মানি, রানার্স আপ: নেদারল্যান্ডস
তিনবার বিশ্বকাপ জেতায় ১৯৭০ সালে চিরতরে ‘জুলেরিমে’ কাপ দিয়ে দেয়া হয় ব্রাজিলকে। তাই দশম বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে আরেকটি নতুন ট্রফি তৈরির প্রয়োজন পড়ে। ফিফা একটি নতুন কাপ তৈরি করে- নাম দেয়া হয় ‘ফিফা কাপ’। এ বছর কাপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে ফিফার সভাপতিরও বদল হয়। স্যার স্ট্যানলি রাউসের ১৩ বছরের দায়িত্ব পালনের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ব্রাজিলের জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জ। এ সময় আরও একটি সিদ্ধান্ত হয়- কোন দেশ তিনবার বা তারও বেশি চ্যাম্পিয়ন হলেও কাপটি চিরতরে নিতে পারবে না। এই বিশ্বকাপে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি সেরা বাজি হিসেবে খেলে। পশ্চিম জার্মানি ছাড়াও হল্যান্ড ও পোল্যান্ড নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। হল্যান্ডের কোচ রিনাস মিশেল ফুটবলের ইতিহাস ‘টোটাল ফুটবল’ নামে ফুটবলের নতুন এক কৌশল উদ্ভাবন করেন। পুরো দলকে একই সঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণ করার দূরূহ কাজটি অনুপম দক্ষতায় সম্পন্ন করার কৌশলই ছিল টোটাল ফুটবল। এই বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির অধিনায়ক বেকেনবাওয়ার হল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম ফিফা কাপ জয়ের অনন্য কৃতিত্ব দেখান। ‘ফিফা কাপ’ নামক প্রথম ট্রফি যায় পশ্চিম জার্মানির ঘরে। ফাইনাল ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পশ্চিম জার্মানির বিপদসীমার মধ্যে ফাউল করা হয় ডাচ্‌? স্ট্রাইকার জন ক্রুয়েফকে। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এতে গোল করে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ফাইনাল প্রথমবারের মতো পেনান্টি দেখে। তবে পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।