ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার

‘মেসির কোনো অহংকার নেই’

স্পোর্টস ডেস্ক | ৬ জুন ২০১৮, বুধবার, ৯:৪০

বিশ্বকাপ মহারণে নামার আগে ক্লাব সতীর্থ লিওনেল মেসির আরেক দফা প্রশংসা করেছেন লুইস সুয়ারেজ। উরুগুয়ে এ তারকা বলেন, অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড ভাঙা-গড়ার কৃতিত্ব থাকা সত্ত্বেও মাঠে নিঃস্বার্থ মেসির কোনো অহংকার নেই। বার্সার হয়ে দিনের পর দিন প্রায় একইরকম পারফর্ম করে চলেছেন মেসি। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন তারকা বার্সেলোনার জার্সিতে সাড়ে ৫০০’র (৫৫২) বেশি গোল করেছেন। ৩৩ বছরের মেসি একের পর এক গোল করেও বছরের পর বছর সতীর্থদের কাছে নিজেকে নিঃস্বার্থ প্রমাণ করেছেন। এমনটাই বলছেন সুয়ারেজ, ‘লিও আমার সতীর্থ এবং বন্ধু। ব্যক্তি হিসেবে দারুণ এবং একজন ট্রেট পারিবারিক মানুষও। শুধু আমিই মেসিকে এভাবে দেখি না, পুরো দুনিয়াই এভাবে দেখে।
বার্সার ড্রেসিংরুমে মেসির সঙ্গে চার বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ?সুয়ারেজ। তাই মেসির ব্যাপারে বেশ ভালো ধারণাই হয়েছে। তার সঙ্গে মাঠে আমার অনেক মুহূর্তের কথা মনে আছে। আমার শুধু এই ধারণাই হয়েছে যে, সে কত বড় ফুটবলার। আর কি অবিশ্বাস্য সব কাজই না করেছে। একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন সুয়ারেজ। সে সময় অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। সেই কঠিন সময়ে প্রতি মুহূর্তে পাশে পেয়েছেন মেসিকে। এ নিয়ে  সুয়ারেজ বলেন, আমরা শুধু ফুটবলারই না। আমরা সন্তানের বাবাও। কাছাকাছি বয়সী আমাদের দুজনের মানসিকতাও একই রকম। আমরা এক সঙ্গে মজা করি, সাফল্য উপভোগ করি, মাঝে মধ্যে খাওয়া-দাওয়াও এক সঙ্গে করি।
তার ফলেই আমাদের এত সুন্দর বন্ধুত্ব হয়েছে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসের ভিতটা হয়েছে অটুট। কিকারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুয়ারেজ আরো বলেন, ফুটবলে প্রকৃত বন্ধু পাওয়া অনেক কঠিন।
বিশেষ করে সে যদি একই পজিসনে খেলে। একটা দলে অনেক অহংকারেরও ছড়াছড়ি থাকে। কিন্তু আমাদের দলে সেরকম কিছু নেই। কখনও ছিলও না। সেটা বছরের পর বছর আমরা প্রমাণ করে এসেছি। উরুগুইয়ান তারকা আরো বলেন, সে আমাকে গোল্ডেন বুট পেতে সাহায্য করেছে। আমাদের মধ্যে কোনো ঈর্ষা নেই, বন্ধুর সঙ্গে সব জিনিস ভাগাভাগি করে নিয়ে তার জন্য গর্ব করি। মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে একটা সময় বার্সায় ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছিলেন নেইমার। কিন্তু ২০১৭-এ বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ভেঙে প্যারিসে চলে গেছেন এ ব্রাজিল তারকা। সুয়ারেজ বলেন, নেইমার পিএসজিতে যাওয়া নিয়ে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল। মেসি এবং আমি, দুজনেই তার সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ সে (নেইমার) আমাদের মতামত চেয়েছিল। তার মনের মধ্য দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। সে এখানে (বার্সা) অনেক দিন ছিল এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুই পেয়েছে। আমি মনে করি না সে অর্থের জন্য গেছে। তার অন্য কোনো লক্ষ্য আছে, যেটা সে প্যারিস থেকে অর্জন করতে চায়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।