× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার

ফিরে দেখা

ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮

স্পোর্টস ডেস্ক | ১১ জুন ২০১৮, সোমবার, ৯:৩২

১৯০৪ সালের ২১শে মে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল দে ফুটবল এসোসিয়েশন (ফিফা)। কিন্তু বৈশ্বিক একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে তাদের সময় লাগে ২৬ বছর। ১৯২১ সালে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলে রিমে ফিফা’র তৃতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অলিম্পিকে বিভিন্ন দেশের ফুটবলের দারুণ সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন জুলে রিমে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি আলাদা একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার চিন্তা-ভাবনা করেন। আর এরই ফলস্বরূপ ১৯৩০ সালে ফিফা প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করে উরুগুয়েতে। সেবার প্রতিবেশী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিক উরুগুয়ে। এরপর প্রতি চার বছর অন্তর এই আসর নিয়মিত বসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
কখনো আমেরিকায়, কখনো ইউরোপে, কখনো আফ্রিকায় আবার কখনো এশিয়ায়। দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল এই মহাযজ্ঞ। আগের প্রতিযোগিতাগুলো কেমন ছিল- ফুটবল উৎসবের বানে ভেসে যাওয়ার আগে ইতিহাসের পাতায় একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক।

২০১০: দক্ষিণ আফ্রিকা

টিটিকাকায় মাতিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়
রানার্সআপ : নেদারল্যান্ডস
ঘুষের বিনিময়ে ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করে দক্ষিণ আফ্রিকা! এমন তথ্য রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দেয় ফুটবল বিশ্বে। তবে, এমন সমালোচনার আগে ১৯তম ফিফা বিশ্বকাপ সফলভাবেই আয়োজন দক্ষিণ আফ্রিকা। সে আসরে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জেতে স্পেন। ২০১৫ সালে ফিফার দুর্নীতি দমন ইউনিটের তথ্য বিশ্বকাপের আয়োজন বাগিয়ে নিতে ঘুষ বিনিময় করে দক্ষিণ আফ্রিকা! অভিযোগ স্বীকারও করেন ফিফা নির্বাহী চাক ব্লেজার। আগে-পরের ওইসব বিতর্ক ফেলে মাঠের ফুটবল যথারীতি সৌন্দর্য ছড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার নয়নাভিরাম ১০টি স্টেডিয়ামে বসে ৩২টি দেশের লড়াই। এবারই প্রথম একসঙ্গে চার ফুটবলার সর্বোচ্চ পাঁচটি করে গোল করেন। তবে উরুগুইয়ান দিয়েগো ফোরলানের হাতে ওঠে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে জোহানেসবার্গের ফাইনাল। মুখোমুখি দুই ইউরোপিয়ান স্পেন ও নেদারল্যান্ড। ম্যাচের পুরোটা সময়ে টোটাল ফুটবলের সঙ্গে টিকিটাকার লড়াইয়ে হার মানেনি কোনো দলই। তবে, অতিরিক্ত সময়ে ইনিয়েস্তার গোলে বিবর্ণ হয়ে পড়ে কমলা রং। এ নিয়ে তিন বার ফাইনালে উঠেও, ডাচদের কাছে অধরা ফুটবল বিশ্বকাপ।
প্রথম ইউরোপীয়ান দল হিসেবে নিজ মহাদেশের বাইরে থেকে শিরোপা জেতে সোনালী যুগের স্পেন। আর প্রথম আয়োজক দল হিসেবে প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০১৪: ব্রাজিল
চ্যাম্পিয়ন: জার্মানি, রানার্সআপ: আর্জেন্টিনা
ফুটবলের ইতিহাসে ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপ আর দশটা বিশ্বকাপের থেকে হয়তো অন্যভাবে লেখা হবে। কারণ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের ঝাণ্ডার হাতবদল হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে ইউরোপের প্রথম বিশ্বকাপ জয় হয়েছে। জার্মানির পাওয়ার ফুটবলের কাছে নিজেদের মাঠে পর্যন্ত, অপমানিত হয়েছে ব্রাজিলীয় সাম্বা ফুটবল। ৯ই জুলাই সেমিফাইনালে জার্মানির হাতে ৭-১ গোলে পরাজয়ের পর পিচে ব্রাজিলীয় খেলোয়াড়দের আর গ্যালারিতে সমর্থকদের হতভম্ব, অপদস্থ চেহারা, চোখের পানির এই দৃশ্য টিভির পর্দায় যারা দেখেছে তারা আজীবন ভুলবে না।
১৯৯০ সালে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছিল জার্মানি। ডিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল তারা। ১৯৯০-এরই পুরনরাবৃত্তি হলো ২০১৪ সালে। শুধু তফাৎ এবার ম্যারাডোনা নয়, পরাজিত হলো মেসির আর্জেন্টিনা। জার্মানি আবারো প্রমাণ করলো ফুটবল দলের খেলা, একনায়কতন্ত্রের গুরুত্ব এ খেলায় নেই। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে যেই জিতুক না কেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে দুই দলেই। দুই দলের কঠিন ডিফেন্সের মুখে বারবার বাধা পেয়েছে একে অপরে। আর তার জন্যই তো বারবার সুযোগ এলেও ৯০ মিনিট খেলার পরেও গোল দিতে অসফল দুই দলই।

খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২ মিনিট পর্যন্ত খেলার স্কোর ০-০। কিন্তু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মিরাস্লাভ ক্লোজেকে তুলে তার জায়গায় মারিও গটজাকে মাঠে নামানোই টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল জার্মানির পক্ষে। ১১৩ মিনিটের মাথায় গটজার দুরন্ত গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো জার্মানি। বিশ্বকাপে এই নিয়ে তৃতীয়বার খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াল। ২০০৬ সালে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল ইতালি। ২০১০ সালে ১১৭ মিনিটে গোল করে ডাচদের হারায় স্পেন। খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় গোলে বল ঢোকানোর সুযোগ পেয়েও তা হারায় আর্জেন্টিনা। হিগুয়েন গোলে বল ঢোকানো সত্ত্বেও অফসাইডের কারণে সে গোল বাতিল হয়ে যায়। মেসি কয়েকবার বলকে জার্মানির গোল বক্সে ঢোকালেও জালে ঢোকাতে অসফল হন। জার্মানির তরফে বেনেডিক্টের দুরন্ত হেডের গোল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে মেসির আর্জেন্টিনার থেকে জার্মানিকে দ্বিতীয়ার্ধে বেশি শক্তিশালী মনে হয়েছে। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। রোমেরোর দুরন্ত পারফরম্যান্স না থাকলে জার্মানি হয়তো অতিরিক্ত সময়ের আগেই জয়ী হয়ে যেত। তবে, আর্জেন্টিনা দলে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার অনুপস্থিতি এদিন প্রকট হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন সময়ে। মেসির নজরকাড়া পাস থাকলেও সে বল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাননি মেসিও।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর