× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার

সামরিক সরকারের মন্ত্রী ছিলাম জাতীয় পার্টির নয়: মুহিত

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার | ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার, ১০:২০

সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনাকালে অর্থমন্ত্রীকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী উল্লেখ করায় বেজায় চটেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। কখনো জাতীয় পার্টির এমপি বা সদস্য ছিলেন না দাবি করে অর্থমন্ত্রী আগামীতে এমন বক্তব্যে দেয়া হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জবাবে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, জাতীয় পার্টির মন্ত্রী বলায় আপনাকে (অর্থমন্ত্রী) আদালতে যেতে হবে না। কিন্তু ব্যাংক ডাকাতদের রক্ষা করায় আপনাকে একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে গতকাল ২০১৭-১৮ সালের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় আরো অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, রওশন আরা মান্নান ও সেলিম উদ্দিন। প্রথম দিনের আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সমাপনী বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি অর্থমন্ত্রী। সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গতবার সম্পূরক বাজেট নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছিল তাতে আমার ইচ্ছা ছিল সম্পূরক বাজেটকে আরেকটু অর্থবহ করা এবং সেটার বিস্তৃত আলোচনার ব্যবস্থা করা। এটা এ বছর আমি করতে পারিনি সেজন্য খুবই দুঃখিত। আশা করছি ভবিষ্যতে এ ধরনের একটা ব্যবস্থা হবে। সম্পূরক বাজেটে আমরা যে পরিবর্তন করেছিলাম সেটা খুবই সামান্য। মোটামুটিভাবে আগে বিভিন্ন বিভাগে যে ক্ষমতা এই সংসদ দিয়েছিল সেটা যতদূর সম্ভব রক্ষা করেছি। তবে কিছুটা আয় ব্যয় এদিকে-সেদিক হয়েছে। সেটিকে আইনগত ভিত্তি দিতেই এই সম্পূরক বাজেট। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই টার্মে অর্থাৎ ১০ বছরে বাজেট ৫ লাখ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। আগে সংসদ সদস্যরা এক লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস করতেন, এখন করছেন ৫ লাখ কোটি টাকা। আর সংবিধানই সম্পূরক ব্যয়ের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সম্পূরক বাজেট পাস হয় সংবিধান সম্মতভাবেই। সম্পূরক বাজেটের আলোচনার সময় অর্থমন্ত্রীকে জাতীয় পার্টির অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করায় বেজায় চটেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে বলেন, কয়েকবারই বলেছি, কিন্তু জাতীয় পার্টির সদস্যরা সেটা অস্বীকার করে যান। আজকেও অস্বীকার করেছেন। আমি আবারো স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি কোনোদিন জাতীয় পার্টির সদস্যও ছিলাম না, কোনোদিন জাতীয় পার্টির মন্ত্রীও ছিলাম না। অনেকবারই এটা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, জেনারেল এরশাদ যখন সামরিক শাসক ছিলেন সেই সময় মন্ত্রী ছিলাম, জাতীয় পার্টির তখন জন্মও হয়নি। জাতীয় পার্টি জন্ম হওয়ার আগে আমি সেই সরকার থেকে পদত্যাগ করে চলে যাই। কাজেই আমার অনুরোধ হবে ভবিষ্যতে যেন জাতীয় পার্টির সদস্যরা মনে রাখেন, যদি না রাখেন তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা নেবো। ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় এর জবাব দিতে গিয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জাতীয় পার্টি গঠনের পূর্বেই এরশাদ সাহেবের সামরিক শাসনের সময় অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত সাহেব বাজেট দিয়েছিলেন। উনি (অর্থমন্ত্রী) কখনো জাতীয় পার্টি করেননি। তবে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, ভবিষ্যতে তার (অর্থমন্ত্রী) মতো জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জাতীয় পার্টি তাদের দলে স্থান দেবে না। এর জন্য আপনাকে (অর্থমন্ত্রী) আদালতে যেতে হবে না। কিন্তু আপনি ব্যাংক ডাকাতদের যে প্রটেকশন দিয়েছেন তার জন্য আদালতে যেতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও দেশের প্রয়োজনেই অতিরিক্ত ব্যয় হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। আমরা জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা ঋণ করে ঘি খাই না, জনগণের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও দেশের উন্নয়নে ব্যয় করি। বাংলাদেশ যে আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে- এই সার্টিফিকেট পয়সা দিয়ে কেনা যায় না। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার কথা আজ কেউই অস্বীকার করতে পারে না, পারবেও না। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, টানা ১০ বছর ধরে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের দেয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। প্রবৃদ্ধি এখন সাড়ে ৭ ভাগেরও বেশি, মাথাপিছু আয় ১৭শ’ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে ৬ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। বাজেটের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, মানবতার কারণে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের বর্বর নির্যাতনের শিকার ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশের মাটিতে আশ্রয় দিয়েছেন। এ কারণে সরকারের বাজেটে ব্যয় বেড়েছে। সারা পৃথিবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই কিছু দুষ্ট ও দুর্বৃত্ত থাকে, যারা এসব করে থাকে। আমাদের দেশেরও ব্যাংকিংখাতে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। এতে ব্যাংকিংখাতের ওপর চাপ পড়েছে। দিনেদুপুরে যারা বেসিক ব্যাংকসহ দু’একটি ব্যাংকে অনিয়ম করেছে, তারা সবাই এখন বিচারের মুখোমুখি। ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত সরকার কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না। তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এমন অভিযোগ মোটেই সত্য নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, প্রতি বছরই বড় বাজেট দিয়ে জনগণকে বড় স্বপ্ন দেখানো হয়। কিন্তু বছর শেষে দেখা যায় বাজেট বাস্তবায়ন হয়নি। গত ১০ বছরে একটি বাজেটও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ব্যাংকখাতকে পরিপূর্ণ পরিবারতন্ত্রে রূপ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ, কোনো রেগুলেটরী কমিটি নেই। ১ লাখ ২৫ হাজার ঋণ খেলাপি রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর