ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৮, সোমবার

বিশ্বকাপ জিতবে কারা?

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার, ১০:৩৮

দল ৩২টি। কিন্তু জিতবে একটি। ১৫ই জুলাই মস্কোতে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে কোন দল জিতবে, সেই ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। তবে অতীত ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে বিবিসি স্পোর্টস বেছে নিতে পেরেছে একটি দলকে, যাদের কিনা বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইতিহাস বলছে, ২০১৮ বিশ্বকাপ সেই দলই জিতবে, যাদের থাকবে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্য।
হতে হবে ‘সিডেড’ দল: ১৯৯৮ সাল থেকে ৩২টি দলকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। এই দলগুলো মোট ৮ গ্রুপে থাকে। তবে অতীত রেকর্ড ও শক্তিমত্তা বিবেচনায় ৮টি দলকে সবার প্রথমে ৮ গ্রুপে ফেলা হয়। এই ৮টি শীর্ষ দলকে বলা হয় ‘সিডেড’ দল। এরপর বাকিরা ড্র-এর মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে জায়গা পায়।
‘৯৮ থেকে  যেসব দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিই ছিল ‘সিডেড’ দল। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ ‘নন-সিডেড’ দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিল। তবে সেবারও ম্যারাডোনার সেই কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের মাধ্যমে। ফলে নন-সিডেড দলকে বাদ রাখলে, ২৪টি দলকেই প্রাথমিক বাছাই থেকে বাদ দেয়া যায়। অর্থাৎ অবশিষ্ট মাত্র ৮টি ‘সিডেড’ দলের মধ্য থেকেই বেছে নেয়া যায় সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন।
আয়োজক হওয়া যাবে না: ৪৪ বছর ধরে আয়োজক দলকে ‘সিডেড’ ৮ দলের মধ্যে রাখা হয়। সেই হিসাবে রাশিয়াও এবার সিডেড দল। অথচ, শক্তিমত্তা বিবেচনায় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং-এ ৬৬ নম্বরে থাকা রাশিয়া শীর্ষ আটে জায়গা পাওয়ার কথা নয়। তবে আয়োজক দল হওয়ার সুবিধা আগের মতো এখন আর নেই।
১৯৩০ থেকে ১৯৭৮ সালে হওয়া ১১টি বিশ্বকাপের ৫টিই জিতেছে আয়োজক দল। এর পরের ৯টি টুর্নামেন্টে আয়োজক দল জিতেছে মাত্র একবার: ফ্রান্স, ১৯৯৮ সালে। এরপর আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল আয়োজক দল, যাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। তবে ১৯৯০ সালে ইতালি, ২০০৬ সালে জার্মানি বা চার বছর আগের বিশ্বকাপের আয়োজক ব্রাজিলের কিন্তু সম্ভাবনা যথেষ্ট ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আয়োজক হওয়ার কোনো সুবিধাই তারা পায়নি। তাই আয়োজক দেশকে সম্ভাব্য ৮টি দেশের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায়। সেই হিসাবে আর থাকে ৭।
বেশি গোল খাওয়া চলবে না: বিশ্বকাপ ৩২ দলের টুর্নামেন্টে পরিণত হওয়ার পর থেকে যে ৫টি দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের কেউই টুর্নামেন্টের ৭ খেলায় ৪টির বেশি গোল খায়নি।
৭টি ‘সিডেড’ দলের মধ্যে বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোল খেয়েছে পোল্যান্ড। ম্যাচপ্রতি ১.৪ খেয়েছে দলটি। জার্মানি ও পর্তুগাল প্রতি ম্যাচে গড়ে খেয়েছে ০.৪টি, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স ০.৬, ব্রাজিল ০.৬১ ও আর্জেন্টিনা ০.৮৮টি করে গোল। সেই হিসাবে প্রথম চারটি কম গোল খাওয়া দলকেই রাখতে হবে হিসাবে।
হতে হবে ইউরোপীয় দল: শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে আসা দলগুলোই বিশ্বকাপ জিতেছে। অবশ্য, কিছুদিন আগেও ইউরোপের দলগুলোর ভাগ্য অত ভালো ছিল না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্পেন ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির সাফল্য চিরাচরিত ট্রেন্ডকে পাল্টে দিয়েছে।
এর বাইরেও দেখা গেছে, ইউরোপে আয়োজিত বিশ্বকাপে ইউরোপের দলেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি। ইউরোপে এখন পর্যন্ত ১০টি বিশ্বকাপ হয়েছে। এর ৯টিই জিতেছে ইউরোপিয়ান দলগুলো। শুধু সেই ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল।
এই হিসাব অনুযায়ীও ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বাদ পড়ে যায়। অর্থাৎ তালিকায় আগের হিসাব অনুযায়ী এবারও শুধু বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালকে হিসাবে রাখা যায়।
থাকতে হবে সেরা গোলরক্ষক: আপনি হয়তো ভাবতে পারেন বিশ্বকাপ জেতায় গোলদাতারা। কিন্তু ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপজয়ী দল থেকে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ঘটনা মাত্র দু’টি। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো ও ২০১০ সালে স্পেনের ডেভিড ভিয়া যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। অর্থাৎ গোলমেশিনরা চ্যাম্পিয়ন বানান, বিষয়টি অবধারিত কিছু নয়। বরং, গোলরক্ষরাই জেতান বিশ্বকাপ, এমন বক্তব্যই বেশি যৌক্তিক। গত ৫টি বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষক তথা গোল্ডেন গ্লোব জিতেছেন বিজয়ী দলের গোলরক্ষক।
অবশিষ্ট যেই ৪টি দল বাকি আছে, এই দলগুলোর মধ্যে শুধু জার্মানির মানুয়েল নয়ার, ফ্রান্সের হুগো লরিস ও বেলজিয়ামের থিবাউট কুর্টিসই সেরা গোলরক্ষক হওয়ার যোগ্য। পর্তুগালের গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও তেমন সফল গোলরক্ষক নন।
থাকতে হবে অভিজ্ঞতার আধিক্য: বিশ্বকাপ জয়ী দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের আধিক্য থাকার প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯৯৮ সালের পর থেকেই এ বিষয়টি বেশি ফুটে ওঠে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বয়স ছিল গড়ে ২২.৭৭ বছর। ২০০২ সালে বিজয়ী ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ছিল ২৮.০৪ বছর। ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের গড় বয়স ছিল ৩২.৯১ বছর। স্পেনের যে দলটি ২০১০ সালে জিতেছে, সেই দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ছিল ৩৮.৩০ বছর। আর গত বিশ্বকাপে জয়ী জার্মান দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ছিল ৪২.২১ বছর! অর্থাৎ প্রতি বছরই ক্রমেই বয়সী খেলোয়াড় যেই দলে আছে, তারাই জিতেছেন কাপ।
পর্তুগাল তো আগেই বাদ। বাকি যেই ৩টি দল হিসাবে আছে, সেগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের গড় বয়স ২৪.৫৬ বছর, জার্মানির ৪৩.২৬ এবং বেলজিয়ামের ৪৫.১৩। সুতরাং, লড়াইটা বাকি রইলো বেলজিয়াম ও জার্মানির মধ্যে।
হওয়া যাবে না গত বারের চ্যাম্পিয়ন: টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা বেশ কঠিন। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিল টানা দুইবার জিতেছিল। এরপর থেকে কোনো দলই আর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। শুধু তা-ই নয়। ব্রাজিলের পর, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা (গেলবারের চ্যাম্পিয়ন দল) কোয়ার্টার ফাইনাল উতরাতে পেরেছে মাত্র দুইবার। ১৯৯০ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ১৯৯৮ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল অতিক্রম করতে পেরেছিল। আর গত চার টুর্নামেন্টের ৩ বারই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হলে সম্ভাবনা তো কমই থাকে।
এবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। দলটির বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। দলটির বিশ্বকাপ রেকর্ড ভীষণ ভালো। গত ৯ টুর্নামেন্টের দুইটি জিতেছে দলটি। তিনবার ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছে। তৃতীয় হয়েছে আরো দুইবার। ইতিহাস ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে। সেই হিসাবে জার্মানি বাদ! অর্থাৎ ইতিহাস অনুযায়ী, বেলজিয়ামেরই জেতার কথা এই বিশ্বকাপ; অবশ্য যদি না অন্য কেউ জিতে যায়, সেটিও অসম্ভব কিছু নয়। সূত্র: বিবিসি

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।