× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
সালাহ

‘বিশ্বকাপ খেলতেই রাশিয়ায় এসেছি’

তারকা সাক্ষাতকার

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার, ৯:৩৮

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নামছে মিশর। গত রোববার রাশিয়া পৌঁছে গেছে আর্জেন্টাইন কোচ হেক্টর কুপারের শিষ্যরা। মিশরের আশা ভরসার প্রতীক লিভারপুলের হয়ে ইউরোপ মাতানো মোহাম্মদ সালাহ। ইনজুরি কাটিয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে (১৫ই জুন) ফিরতে আশাবাদী ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। গত মাসে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোসের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে কাঁধে চোট পান সালাহ। এরপর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে তিনি। সবশেষ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৪৪ গোল করেন সালাহ। গড়েন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩২ গোলের রেকর্ড। মিশরের জার্সিতে ৫৭ ম্যাচে ৩৩ বার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান সালাহ। এবার বিশ্বকাপ মাতাতে মুখিয়ে আছেন তিনি। মিশরের সম্ভাবনা, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল, মেসি-রোনালদোদের সঙ্গে নিজের তুলনাসহ আরো নানা বিষয়ে কথা বলেছেন সালাহ। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে কতটা রোমাঞ্চিত?

সালাহ: বিশ্বকাপের অংশ হতে পেরে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। সব ফুটবলারের জন্যই বিশ্বকাপ খেলা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। আমরা ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছি। তাই আমরা অনেক বেশি আনন্দিত।

প্রশ্ন: চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হয়েছিল। আপনি বিশ্বকাপ মিস করতে পারেন এমন আলোচনা চলছিল...

সালাহ: এটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। যাই হোক, সবচেয়ে বড় কথা আমি বিশ্বকাপ খেলার জন্যই রাশিয়া এসেছি। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে না পারা আমার জন্য সত্যিই কষ্টদায়ক হতো। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং আমার স্বপ্নটা বেঁচে আছে।

প্রশ্ন: স্বাগতিক রাশিয়ার সঙ্গে সৌদি আরব ও উরুগুয়ের সঙ্গে একই গ্রুপে মিশর। নকআউট পর্বে ওঠার ব্যাপারে আপনি কতটা বাস্তববাদী?

সালাহ: নকআউট পর্বের চিন্তা মাথায় না এনে আমাদের সেরা ফুটবল খেলার দিকেই মনোযোগ দেয়া উচিৎ। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তা কাজে লাগাতে হবে। যদি আমরা তা করতে পারি বাকিটা এমনিতেই আসবে। কিন্তু বিশ্বকাপ উপভোগ ও আনন্দ করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: প্রথম ম্যাচ উরুগুয়ের বিপক্ষে, যারা বড় লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দলগুলোর একটি...

সালাহ: উরুগুয়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১০ আসরে তারা সেমিফাইনাল খেলেছিল। তাদের লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানির মতো খেলোয়াড় রয়েছে। উরুগুয়ের খেলার ধরন সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি তারা টাইট ম্যাচ খেলতে পছন্দ করে, প্রতিপক্ষকে খালি জায়গা দেবে না। এটা কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু আমরাও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। যদি আমরা প্রথমে গোল করতে পারি তাদের জন্য আমাদের ডিফেন্স ভাঙা কঠিন হবে।

প্রশ্ন: ফুটবলবোদ্ধাদের মতে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো আপনিও বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ...

সালাহ: এই সব ফুটবলারই কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক সাফল্য ও তারকাখ্যাতির দিক থেকে আমি এখনো তাদের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহে আমি পেশাদার ইউরোপিয়ান ফুটবলের যাত্রা শুরু করেছি এবং আরো কয়েক বছর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। এই তারকারা ইতোমধ্যেই সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মেসি, রোনালদো ও নেইমার বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামবেন। ইনিয়েস্তা ২০১০ বিশ্বকাপের সঙ্গে আরেকটি ট্রফি যোগ করার চেষ্টা করবেন। বিশ্বকাপে আমার অভিষেক হচ্ছে। তাই এরকম জীবন্ত কিংবদন্তিদের সঙ্গে আমাকে একই কাতারে রাখতে পারেন না!

প্রশ্ন: বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হয়েছিলেন...

সালাহ: আমরা ঘরের মাটিতে ভালো খেলে তাদেরকে হারিয়েছি। ওই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করি। উগান্ডা ও কঙ্গোকে নিয়ে গ্রুপটা কঠিন ছিল। আমরা শুধুমাত্র উগান্ডার বিপক্ষে হেরেছি। ভালো পারফরম্যান্স করেই রাশিয়ায় ৩২ দলের মধ্যে জায়গা করে নিই।

প্রশ্ন: রাশিয়ায় শিরোপা জয়ের দৌড়ে কোন দল ফেভারিট?

সালাহ: প্রথমত, বিশ্বকাপের আগে আমরা নিজেদের নিয়েই অনেক ব্যস্ত। দ্বিতীয়ত, ভালো খেলার আগ পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী করার সুযোগ নেই, কিন্তু এটাও আপনাকে শিরোপা জয়ের কোনো নিশ্চয়তা দেবে না। যাই হোক, বড় দলগুলো আবারো তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চাইবে।

প্রশ্ন: এটা মিশরের তৃতীয় বিশ্বকাপ। ঘটনাক্রমে আগের দুই আসর হয়েছিল ইতালিতে (১৯৩৪ ও ১৯৯০)। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি এবার রাশিয়ায় নেই!

সালাহ: ইতালির ফুটবল সমর্থকদেও জন্য এটি দুঃখজনক ব্যাপার। ইতালি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। তাদের সমর্থকরা এই বিশ্বকাপটা মিস করবে। নেদারল্যান্ডস ও চিলির সমর্থকদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। কিন্তু আমাদের সমর্থকরা টুর্নামেন্টকে যতটা সম্ভব রঙিন করে তোলার চেষ্টা করবে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলায় তাদের আনন্দের কোনো সীমা নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর