× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

উৎসবের জন্য প্রস্তুত রুশ তরুণ-তরুণীরা

রাশিয়া থেকে

স্পোর্টস রিপোর্টার, কাজান (রাশিয়া) থেকে | ৩০ জুন ২০১৮, শনিবার, ৯:৫৩

১১ শহরের ১২ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। মস্কোই কেবল দুটি ভেন্যু পেয়েছে। যার একটি লুঝনিকি অপরটি স্পার্তাক। আগামীকাল মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া। ৮০ হাজার ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামের টিকিট এরইমধ্যে হাওয়া হয়ে গেছে। যারা টিকিট পেয়েছেন তারাতো স্টেডিয়ামে গিয়ে নিজ দেশের খেলার দেখার প্রহর গুনছেন। আর যারা টিকিট পাননি তাদের জন্য রয়েছে ফিফা ফ্যান ফেস্ট। যাদের ফ্যান ফেস্টে জায়গা হবে না তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছে মস্কো সিটি গভর্নমেন্ট। এরিমধ্যে মস্কোর রেড স্কয়ারে প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের স্ক্রিন বসিয়েছে তারা। সড়কটিকেও সাজানো
পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
হয়েছে বাহারি সাজে। সেন্ট পিটার্সবার্গ, কাজান, সামারা, নিজনি এমনকি সোচিতে রাশিয়ার খেলা দেখার বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়েছে সেখানকার সিটি গভর্নমেন্ট।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে র‌্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে বাজে দল ছিল রাশিয়া। সবাই ধরেই নিয়েছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার পর রাশিয়াই প্রথম স্বাগতিক হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। পরের ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে শেষ ষোলও নিশ্চিত করে তারা। এই দুটি ম্যাচ জয়ের পর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিলো রাশিয়া। সারারাত রুশরা নেচে গেয়ে তারা বিজয়কে উদযাপন করছে। দ্বিতীয় পর্বে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ স্পেন। আপাতদৃষ্টিতে ২০১০-এর চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে ‘আন্ডার ডগ’ হিসেবেই নামবে রাশিয়া। তবে স্পেনের বর্তমান ফর্ম খুব একটা সুবিধার নয়। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলতে পা রাখলেও প্রতিটি ম্যাচেই ভুগেছে স্পেন। তার ওপর বিশ্বকাপ শুরুর দুইদিন আগে নতুন কোচ নিয়োগ দেয়ায় দলের অবস্থাও টালমাটাল। এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চায় রাশিয়া। বর্তমান রাশিয়ান তারকা ডেনিস চেরিশেভের বাবা সাবেক ফুটবলার দিমিত্রি চেরিশেভ মনে করেন, স্পেনকে হারিয়ে স্বাগতিকরাই কোয়ার্টারে পা রাখবে। দিমিত্রি চেরিশেভ বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা জিতবো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবো। স্পেন বর্তমানে সংকটে আছে। কারণ আমরা বিশ্বকাপ নিজের মাটিতে খেলছি এবং আমাদের জিততে হবে। বিশ্বকাপের দুইদিন আগে কোচ বদল করাটা বাড়াবাড়ি। আমি মনে করি স্প্যানিশরা এটা নিয়ে কিছুটা ভুগছে।’ স্পেন রাশিয়া ম্যাচ নিয়ে বিরাট উত্তেজনা কাজ করছে বলে জানান তিনি। চেরিশেভের মধ্যে যদি উত্তেজনা কাজ করে?  তাহলে সাধারণ নাগরিকের অবস্থা কি? ভাবা যায়? এরিমধ্যে উন্মদনা তৈরি হয় পুরো রাশিয়া জুড়ে। যেখানে গিয়েছি, সেখানেই রুশদের বাড়তি উন্মাদনা চোখে পড়েছে। মস্কোর রেড স্কয়ার লাগোয়া নিকোলস্কায়া সড়ক সেজেছে উৎসবের রঙে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে সড়কটিকে বাহারি আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়েছে। চোখধাঁধানো রঙবেরঙের আলোকবাতি। রেড স্কয়ারে বেড়াতে এলে সবাই একবার হলেও এখানে ঘুরতে আসেন। সবার হাতে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় নজরকাড়া এই সৌন্দর্যের ছবি-ভিডিও তুলে নেন। রাশিয়া ম্যাচের দিন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু এই সড়কটি। আগের দুই ম্যাচে রাতভর উৎসব হয়েছে। এমনি উরুগুয়ের সঙ্গে ৩-০ গোলে হারের পরও ‘রাশিয়া-রাশিয়া’ চিৎকারে ফেটে পড়তে শোনা গেছে তরুণ-তরুণীরা। তাদের একটাই কথা হারলেও রাশিয়া জিতলেও রাশিয়া। আগামীকালও নিকোলস্কায়া সড়কে ফুটবল-ভক্তরা নেচে-গেয়ে মেতে ওঠেন ফুটবল কার্নিভ্যালে সেটা বলাই যায়। এর বাইরের শহরগুলোতে নানা প্রস্তুতির কথা শোনা যাচ্ছে। আগামীকালের ম্যাচে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর