ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

যে কারণে এগিয়ে কাজান

সামন হোসেন, কাজান (রাশিয়া) থেকে | ১ জুলাই ২০১৮, রোববার, ৯:১৬

রাশিয়ার ১১ শহরের ১ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপের এবারকার আসর। কাজান এরিনা স্টেডিয়াম এরমধ্যে অন্যতম। রাশিয়ার তাতারস্থান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী হলো কাজান। এই শহরে ৬০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এএফসি রুবিন কাজান ফুটবল ক্লাব। রুবিন কাজানের হোম ভেন্যু হচ্ছে এই কাজান এরিনা স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের বাহির দিকে রয়েছে ইউরোপের সর্ববৃহৎ পর্দা। স্টেডিয়ামে পাশাপাশি এই পর্দাতে লক্ষাধিক লোক এক সঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবে। স্টেডিয়ামটির স্থাপত্য ধারণা ডিজাইন করেছে পৃথিবীর সেরা ডিজাইন কোম্পানি পপ্যুলাস এর প্রধান ডিজাইনার ডামন লাভেলে, স্টেডিয়ামটিতে স্থানীয় ঐতিহ্য ও স্থানসমূহকে তুলে ধরা হয়েছে। রুবিন কাজান ক্লাবকে কেন্দ্র করেই চলছে কাজান শহরের ক্রীড়া কর্মকাণ্ড। রাশিয়ার ষষ্ঠ সর্বাধিক পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
জনবহুল এ শহরটি ভোলগা নদী ও কাজানকা নদীর সংযোগস্থলে ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত। খেলাধুলার ঐতিহ্যের কারণে এ শহরটি রাশিয়ার ‘ক্রীড়া রাজধানী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ শহরের মানুষ গর্ব করে খেলাধুলায় তাদের নানা অর্জন নিয়ে। রাশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, প্রথম গ্যাগরিন কাপসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ক্রীড়ায় সাফল্য রয়েছে এই শহরের। মহাদেশীয় হকি লীগ কাপ, একে বারস হকি দল, বিখ্যাত ভলিবল ক্লাব জেনিতের সাফল্যগাথা তাতারস্থানের রাজধানী। সাঁতার, ওয়াটারপোলো, ফিল্ড হকিসহ বিভিন্ন খেলায় তাদের রয়েছে গর্ব করার মতো ঐতিহ্য। কাজানের খেলাধুলা আলোচনায় বারবারই চলে আসে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অর্ধযুগ আগে এফসি কাজানের স্মরণীয় এক সাফল্যগাথা গল্প। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের রাউন্ড সিক্সটিন পার হতে না পারলেও গ্রুপ পর্বে তারা বার্সেলোনাকে হারিয়ে তাক লাগিয়েছিল ফুটবল বিশ্বে। ২০০৯ সালে গ্রুপ পর্বে ঘরের মাঠে বার্সেলোনার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে অ্যাওয়ে ম্যাচে জিতেছিল ২-১ গোলে। মেসি, ইনিয়েস্তার বার্সেলোনাকে হারানো চাট্টিখানি কথা ছিল না। পরের আসরেও হোম ম্যাচে বার্সেলোনাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল এফসি কাজান। অ্যাওয়ে ম্যাচে অবশ্য হেরেছিল ২-০ গোলে। ঐতিহ্যবাহী এ ক্লাবেরই দুই খেলোয়াড় এই বিশ্বকাপে রাশিয়া জাতীয় দলের সদস্য। দুই ডিফেন্ডার ফেদর কুরদিয়াসভ ও ভ্লামিদির গ্রানাতকে নিয়ে গর্ব করেন কাজানবাসী। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচসহ সর্বমোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কাজান এরেনা স্টেডিয়ামে।
অন্যসব শহরের চেয়ে কাজান শহরটিও পরিপাটি গুছানো মনে হয়েছে। শহরের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাসে প্রায় ঘণ্টাখানেকের পথ কাজান এরেনা। সুন্দর পরিপাটি রাস্তা। বিভিন্ন স্থাপনাগুলো যে কারো মনেই এঁকে দেবে ভালো লাগার ছবি। নদী, নয়নাভিরাম সবুজ দৃশ্য চারিদিকে। পরিচ্ছন্ন রাস্তার দুই ধারে সবুজ গাছ। এখানে ওখানে বইছে কৃত্রিম ঝর্ণাধারা। আকাশের পানে তাকিয়ে যে কেউ পৌঁছে যেতে পারবেন সৌন্দর্য্যের স্বপ্নরাজ্যে। বিশ্বকাপকে ঘিরে স্টেডিয়ামের আশপাশও সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। স্টেডিয়ামের প্রবেশের মুখে নানা রংঢং দিয়ে বিভিন্ন নর-নারীকে সাজানো হয়েছে। তারা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করছেন কাজানের শিল্প, সংস্কৃতি।  সেন্ট পিটার্সবার্গ, নিজনি নভগোরদ, স্পার্তাক ও লুঝনিকি স্টেডিয়ামে যা দেখা যায়নি।
এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম নগরদুর্গ। ঐতিহ্যবাহী এ স্থানটিসহ নানা দর্শনীয় স্থান দেখতে পুরো বছরই শহরে ভিড় লেগে থাকে পর্যটকদের। প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ লাখ পর্যটক তাতারস্থানের রাজধানীতে বেড়াতে আসেন। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থাপনা, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।