ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

আমুদে আর্জেন্টাইনদের স্বপ্ন ভঙ্গের রাত

স্পোর্টস রিপোর্টার, কাজান (রাশিয়া) থেকে | ২ জুলাই ২০১৮, সোমবার, ১০:১১

আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই লাখো দর্শকের মিলন মেলা। ব্যতিক্রম ছিল সৌন্দর্যের শহর কাজানে। ফ্রান্স আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে মেসির শহরে পরিণত হয়েছিল কাজান। যে দিকেই চোখ যাচ্ছিল শুধু আর্জেন্টিনার জার্সি পরা মানুষ। বেশিরভাগ মানুষের জার্সির পেছনে লেখা ‘মেসি’। শিশু থেকে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, সবাই যেন মেসি হয়ে এসেছিলেন কাজানে। মেসিদের ব্যর্থতায় দিন শেষে তারাই কেঁদেছেন। মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তাদের প্রাণচাঞ্চল্য। যারা কাঁদতে পারেনি তারা অবাক দৃষ্টিতে চেয়েছিলেন আকাশ পানে। অনেকে খোলা আকাশে রাত কাটিয়ে দেশের পথ ধরেছেন।
এই বিশ্বকাপের যে ভেন্যুতে গিয়েছি সেখানেই চোখে পড়েছে আর্জেন্টিনার পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪

সমর্থকদের দৌরাত্ম্য। আর্জেন্টিনার ম্যাচ না থাকলেও তারা মেসির জার্সি গায়ে দিয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে মেসি ম্যারাডোনা গান গেয়েছেন। মেট্রা, বাস সবখানেই ছিল তাদের আমুদে ভাব। কাজানে আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ম্যাচেও ছিল তাদের আধিপত্য। রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার পরও পাঁচ-সাত হাজারের বেশি সমর্থক দেখা যায়নি ফ্রান্সের। অথচ সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে ল্যাটিন আমেরিকা থেকে রাশিয়া এসেছেন লাখো আর্জেন্টিনা সমর্থক। মাঠে গিয়েছেন। যাদের টিকিট ছিল না, তারা গলা ফাটিয়েছেন স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে। যাকে সমর্থন দিতে এসেছে সেই তারা কাজানের আকাশে নিভে গেছে। ভক্তদের হতাশ করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসি। মেসির সঙ্গে তারাও যে বিদায় নিয়েছেন!
ঝড়ের মুখে পড়েও নকআউটে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু নকআউটের প্রথম পর্বেই মৃত্যু হলো স্বপ্নের। ২০০২ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বাজে ফল। মাচেরানো ক্ষমা চেয়েছেন দলকে আরো দূরে নিয়ে যেতে না পারায়। আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র আর ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাজয়ের পর আলবিসেলেস্তাদের সমর্থকেরা ছিলেন ক্ষুব্ধ, ক্ষমাহীন। কাজানে নিজেদের রক্তাক্ত সন্ধ্যায় দেখা গেল, বিশাল সমর্থক বাহিনী আশ্চর্য রকমের শান্ত। তারা মেনে নিয়েছে সহজেই। মেসি-ডি মারিয়াদের লড়াইটা তো তারা দেখেছেন। একটু এদিক-সেদিক হলেই অন্য রকম হতে পারত। যদি অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে ডি মারিয়ার শটটা গোলমুখে থাকত, যদি মেসি শেষ দিকে তার শটটা গোলকিপারের হাতে তুলে না দিতেন, ম্যাচটি যেতে পারত অতিরিক্ত সময়ে। হয়তো এসব কিছু ভাবতে তাদের সময় লেগেছে। তাইতো অন্যদিনের চেয়ে তারা স্টেডিয়ামও ছেড়েছেন দেরিতে। তবে সবাই যে শান্ত থেকেছেন তাও কিন্তু না। অনেকে মুণ্ডুপাত করেছেন কোচ হোহে সাম্পাওলির। ফ্রান্স ম্যাচে তার খেলানো কৌশল নিয়ে সমালোচনা করতে শোনা গেল হোটেল ক্যাপিটালের লবিতে। মার্কু গঞ্জালো নামের এই সমর্থক মস্কো, নিজনি ঘুরে নকআউপ পর্বের ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন কাজানে। রাতে তিনি হোটেল লবিতে এ প্রতিবেদককে বলেন, সাম্পাওলি কোনো কোচের মধ্যেই পড়ে না। আমি কখনই দেখেনি একজন কোচ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চার ম্যাচে চার ফরমেশনে দলকে খেলায়। গঞ্জালো খেলোয়াড়দের কোচের দোষ দিতে চাননি। তারমতে খেলোয়াড়রা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছে। কোচের কৌশলে ভুল থাকার কারণে ম্যাচটি হেরেছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার বিদায়ের পরই কাজানে ভাঙতে শুরু করেছে মিলনমেলা। অনেক আর্জেন্টিনার সমর্থক কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। অনেকে তো রেল স্টেশনে রাত কাটিয়ে সকালে মস্কোর ট্রেন ধরেছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।