× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

ইংলিশদের ধৈর্য্য ধরতে হবে: সাউথগেট

রাশিয়া থেকে

সামন হোসেন মস্কো (রাশিয়া) থেকে | ৫ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:০৬

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ডকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কখনো তা হৈচৈয়ের পর্যায়ে যায়নি। তাদের মিডিয়ার বাড়াবাড়িও চোখে পড়েনি। কিন্তু গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের পারফরমেন্স দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। তারপরই শুরু হয়েছে হৈচৈ। ইংল্যান্ডের এত পরিপূর্ণ ফুটবল আগে দেখা যায়নি। গোটা দলই দারুণ ছন্দে। তার কারণ তরুণ তুর্কিতে ভর্তি ইংল্যান্ড দল। লিনগার্ড, ডেলে আলি, স্টারলিং, ট্রিপিয়ারদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতা, আছে কোচ সাউথগেটের কৌশল। সবকিছু মিলিই দারুণ ছন্দময় ফুটবল খেলছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে আটজনকে বিশ্রামে দিয়ে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়ে হেরে যায় ইংল্যান্ড। আসলে সেদিন কেন কেইন, স্টারলিংদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ, তার প্রমাণ মিলেছে নকআউট পর্বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ১২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক শক্তি সুইডেন। আর সুইডেন ম্যাচের আগে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছে ইংল্যান্ড দল। ফুটবলারদেরও কথা বলতে দিচ্ছেন না ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট।
দলের এমন পারফরমেন্সে ইংলিশ ফুটবলারদের নিয়ে মাতামাতি চলছে বিশ্ব মিডিয়ায়। মস্কোতে ইংলিশ সমর্থকরা এখান থেকে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। শুরুতে খুব একটা ইংলিশ সমর্থকদের দেখা না মিললে ধীরে ধীরে তারা জমাট হচ্ছে রাশিয়ায়। গতকাল মস্কোর ফ্যান ফেস্টেও প্রচুর ইংলিশ সমর্থককে চোখে পড়েছে। মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামের দুই তৃতীয়াংশ দখলে রেখেছিল তারা। অনেকে তো আবার এই দলকে ইংল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের দলের ছায়া হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তাইতো তরুণ এসব ফুটবলারদের নিয়ে এখনই মাতামাতি করতে নিষেধ করেছেন কোচ সাউথগেট। স্পার্তাকের ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও বার বার নিজ দেশের সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করে সাউথগেট বলেন, আপনারা ধৈর্য্য ধরুন। ছেলেদের নিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে ওদের স্বাভাবিক খেলাটা বাধাগ্রস্ত হয়। এদিকে মস্কোর ম্যাচ শেষে রাতেই সেন্ট পিটার্সবার্গে উড়াল দিয়েছে ইংল্যান্ড। সেখানে গতকাল অনুশীলন করেন হ্যারি কেইন, স্টারলিংরা। এই অনুশীলনেও ইংলিশ গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো ফুটবলারদের কথা বলতে দেননি সাউথগেট। নিজেও এড়িয়ে চলছেন মিডিয়াকে।
১৯৬৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের পরেরবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছিল তারা। ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপে বাছাই পর্বই উতরাতে পারেনি। ১২ বছর বিরতি দিয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নেয় ইংলিশরা। সেবারের দৌড় ছিল দ্বিতীয় রাউন্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। সেবার ম্যারাডোনার হাতের গোল এবং গোল অব দ্য সেঞ্চুরির কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ১৯৯০ বিশ্বকাপে উঠেছিল সেমিফাইনালে এবং চতুর্থ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় রাউন্ড এবং ২০০২ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলে কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১০ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারলেও ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। এবার গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে একেবারে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে অংশ নেয় ইংল্যান্ড। রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ দল নিয়ে খুব একটা মাতামাতি ছিলো ইংলিশ মিডিয়ায়। দলটির উপর খুব একটা আশাও ছিলো না তাদের সমর্থকদের। সেই তারুণ্য নির্ভর ইংল্যান্ডের উপর আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে তারা। মস্কোর স্পার্তাকে কলম্বিয়াকে হারানোর পর তাদের সেই উচ্ছ্বাসেই তার প্রমাণ মেলে।  
টাইব্রেকার মানেই ইংল্যান্ডের বুক ধুঁকফুকানি। এর আগে তিনবার টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ বিদায় নেয় ইংলিশরা! তাইতো কলম্বিয়ার এই ম্যাচ উপলক্ষে অনুশীলনে পেনাল্টি শুটআউট নিয়ে বেশ কাজ করেছিলেন ইংলিশ কোচ সাউথগেট। দলের কোন কোন খেলোয়াড় পেনাল্টি নিতে মানসিকভাবে শক্ত, তা নিয়েও মনোবিদের সঙ্গে সলাপরামর্শও নাকি করেছিলেন তিনি। তাই সব মিলিয়ে টাইব্রেকার গেরো খুলতে পেরেছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা।
২০০৬ বিশ্বকাপে শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। এরপর দুই বিশ্বকাপ শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার আবার কোয়ার্টার ফাইনালে  পৌঁছালো ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনাল। তবে সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ সুইডেনকে নিয়ে ভয় আছে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মার্টিন ক্যানের। বিসিবির সঙ্গে যুক্ত সাবেক এই ফুটবলার মনে করেন সুইডেনের বিপক্ষে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলে সুবিধা করা যাবে না। কারণ এই ফরমেশনে তারা অভ্যস্ত। তাদের ঘায়েল করতে হলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে সাউথগেটের। তারমতে কৌশলে পরিবর্তন আনলেও ইংল্যান্ডের জন্য সেমিফাইনাল অপেক্ষা করছে। এই সুইডেনের বিপক্ষে আমাদের তিন ফুটবলারের দারুণ রেকর্ড রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর