ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার

‘ভাগ্যও সঙ্গী হতে হবে ব্রাজিল-ফ্রান্সের’

| ৬ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার, ৯:৪৮

হাসান আল মামুন, বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক

কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই তল্পিতল্পা গুটিয়েছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেনের মতো ফেভারিটরা। ফুটবল ভক্তরা জেগে আছেন অপর দুই ফেভারিট ব্রাজিল ও ফ্রান্সকে নিয়ে। দুই দলের বড় পরীক্ষা আজ। আর প্রতিপক্ষের তুলনায় ব্রাজিল ও ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের এমন ম্যাচে ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে চোখ রাখলেই বোঝা যায় তা। প্রথমে ব্রাজিলের কথাই বলি। দল হিসেবে এবার সবদিক থেকে এগিয়ে তারা। কিন্তু বেলজিয়ামও কিন্তু কম নয়। এরই মধ্যে সেই প্রমাণ রেখেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে। আবার ফ্রান্সের কথা ধরেন তরুণ দল নিয়ে দারুণ তারা। কিন্তু উরুগুয়ের অভিজ্ঞতা তাদের সেই জয়রথ রুখে দিতে পারে। আমি মনে করি কোয়ার্টার ফাইনাল সব দলের জন্যই বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাতে মাঠে ভালো খেললেই হবে না। প্রয়োজন ভাগ্যেরও। হতে পারে ম্যাচ টাইব্রেকারে গেল তখনতো পুরাটাই নির্ভর করবে ভাগ্যের উপর। অনেক ভালো ও বড় তারকার শটও বারে লেগে ফিরতে পারে, গোলকিপার রুখে দিতে পারেন। তাই বলছি ব্রাজিল-ফ্রান্সের ভাগ্য চাই।

ভাগ্যতো লাগবেই তবে মাঠের ফুটবলটাও খেলতে হবে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে এগিয়ে ব্রাজিলই। তবে বেলজিয়ামকেও হেলা করা চলবে না। এবারের চার ম্যাচে ব্রাজিল একটি মাত্র গোল খেয়েছে। সেই গোলটাও ছিল বিতর্কিত। তার মানে এবার ব্রাজিলের ডিফেন্স দারুণ শক্তিশালী। এরপর পর্তুগাল  রোনালদো আর আর্জেন্টিনা যেমন মেসিনির্ভর দল ছিল ব্রাজিল কিন্তু নেইমার নির্ভর নয়। তাদের কুটিনহো, ডগলাস কস্তা, থিয়াগো সিলভা, পাওলিনহো, জেসুসের মতো খেলোয়াড় রয়েছে ব্রাজিল দলে। যে কোনো মুহূর্তে গোল নিয়ে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিতে পারেন এদের যে কেউ। এবারের ‘টিম ব্রাজিল’ যে কোনো দলের জন্যই ভয়ংকর। তাই আমি বলবো তারা বেলজিয়াম থেকে এগিয়ে থাকবে। আবার বেলজিয়ামকেও খাটো করে দেখলে হবে না। ওরা জাপানের বিপক্ষে দেখিয়েছে চাপেও কতটা শক্তি ধরে রাখতে হয়। দুই গোল খাওয়ার পরও জয় তুলে নিয়েছে। তার মানে তারা চাপ সামলে নিতে পারে। আর ওদের আক্রমণের চেয়ে বেশি শক্ত রক্ষণভাগ। তার মানে ব্রাজিলকে গোলের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। নয়তো গোল পাওয়া কঠিন হবে।’
ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে যায় এখানে আমি এগিয়ে রাখবো ব্রাজিলকে। কারণ তাদের পেনাল্টিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে শুট করার ক্ষমতা আছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাগ্যটাও দরকার হবে। নয়তো কি হয় বলা কঠিন।’

ফ্রান্সের অ্যাটাক বনাম উরুগুয়ের ডিফেন্স
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে আজ ফ্রান্সকেও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে উরুগুয়ের বিপক্ষে। সেই ক্ষেত্রে আমি এ ম্যাচকে দেখছি ফ্রান্সের অ্যাটাক বনাম উরুগুয়ের ডিফেন্সের প্রদর্শনী হিসেবে। তবে ম্যাচে উরুগুয়ের তুলনায় ফ্রান্সের তরুণ দলটিকে আমি এগিয়ে রাখবো। ওরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের তারুণ্যের শক্তি দেখিয়েছে। শুধু গ্রিজম্যানকে যে হিসেবে ধরতে হবে তা নয়, এমবাপ্পে, পল পগবা, এনগোলো কান্তেরাও কম নয়। আর উরুগুয়ে দলে আজ এডিনসন কাভানি খেললে ম্যাচের চিত্র থাকবে একরকম আর না খেললে তা বদলে যাবে সেটি বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আর ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে গড়ায় তাহলে উরুগুয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা ও ফ্রান্সের হুগো লরিস- দু’জনেই দক্ষ গোলরক্ষক। তবে উরুগুয়ে দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই অভিজ্ঞ। চাপের সময় স্নায়ু সামলে কীভাবে শট নিতে হয় তা তারা জানেন। আর ফ্রান্স তরুণ দল। স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে তারা মাথা কতটা ঠাণ্ডা রাখতে পারবে তা বলা কঠিন।’
অনুলিখন: ইশতিয়াক পারভেজ

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।