× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

দুইদিনে রাশিয়াতে ৩০ হাজার ইংলিশ সমর্থক

রাশিয়া থেকে

স্পোর্টস রিপোর্টার, কাজান (রাশিয়া) থেকে | ৭ জুলাই ২০১৮, শনিবার, ১০:১৯

টাইব্রেকারের দীর্ঘদিনের অভিশাপ থেকে মুক্তি মেলায় রাতভর উৎসব হয়েছে পুরো ইংল্যান্ডজুড়ে। উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়াম ও ফ্যান ফেস্টগুলোতে ইংলিশরা নেচে-গেয়ে তাদের এই বিজয় উদযাপন করেছে। উৎসবে সামিল হতে তারা ইতিমধ্যে জড়ো হতে শুরু করেছে  সামারা এরিনাতে। সেখানেই আগামীকাল তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। রাশিয়ার গণমাধ্যমের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে এরইমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ইংলিশ সমর্থক সামারায় পৌঁছেছেন। অনেকে আবার মস্কো হয়ে বিমানযোগে সামারা যাচ্ছেন। যারা বিমান কিংবা ট্রেনের টিকেট যোগাড় করতে পারেননি তারা মস্কোতে বসেই কোয়ার্টার ফাইনাল দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এমনিতেই জাতীয় দলের প্রতি অতি উৎসাহী ইংল্যান্ডের জনগণ। তবে এবারের দলটি বয়সে নবীন হওয়াতে, এই দলের উপর খুব একটা আগ্রহ ছিল না তাদের। অনেকে ভাবতেও পারেনি গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল অবদি পৌঁছে যাবে তাদের দল। কিন্তু গ্রুপ পর্ব থেকেই আস্তে আস্তে পাল্টে যেতে থাকে তাদের ধারণা। শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে হারানোর পর তারাই এই দলকে নিয়ে মাতামাতি শুরু করেছে। অনেকে তো এই দলটাকেই এই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। মস্কো থেকে কাজান যাওয়ার পথে ট্রেনে কথা হয় পল মাইকেল নামে এক ইংলিশ সমর্থকের সঙ্গে। আলাপচারিতার একপর্যায়ে পল জানান, ইংল্যান্ড থেকে ১৫ বন্ধু এসেছেন কলম্বিয়ার বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচ দেখতে। মনভরে ম্যাচটি উপভোগ করেছেন তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে টিকেট না থাকার পরও তারা সামারার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে গিয়ে টিকেট কিনে খেলা দেখবেন। পলের মতো হাজার হাজার ইংলিশ সমর্থকের একটাই গন্তব্য এখন সামারা অ্যারেনা।
কলম্বিয়াকে হারানোর পরেই ইংল্যান্ডের জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন বলে জানান সফরকারী স্টামফোর্ড। সারারাত ধরে চলেছে পার্টি। সেই পার্টিতে তিনি যোগ দিয়ে গতকাল রাশিয়া এসেছেন কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে। ইংল্যান্ডের ওই রাতের খবর জানাতে গিয়ে তার বন্ধু সার্গেই বলেন,  জয়ের ওইরাতে লন্ডনের কোচের ক্লাবেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। লোকে এতটাই মদ খেয়ে ফেলেছিলেন যে, বুধবার অফিসেই যেতে পারেননি অনেকে। অনেক কোম্পানি অফিস শুরুর সময় পিছিয়েও দিয়েছে, যাতে কর্মচারীরা আরাম করে আসতে পারেন। তাতেও অনুপস্থিতির সংখ্যা কমানো যায়নি। এর মধ্যে আবার ঘটেছে দুর্ঘটনাও। লন্ডনের এক ফ্যান জোনে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে আনন্দের আতিশয্যে গ্যালারি ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। তবে জেতার আনন্দে প্রত্যেকেই ব্যথা ভুলে গেছেন। ইংল্যান্ডের রাজা উইলিয়াম জাতীয় দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। লিখেছেন, ‘?পেনাল্টি শুটআউটে জয়!? তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। যোগ্য দল হিসেবেই তোমরা বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছ। তোমাদের জানিয়ে রাখি, শনিবার গোটা দেশ তোমাদের পাশে থাকবে।’? সমর্থকরা এতটাই উত্তেজিত যে, তাদের মতে ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপও জিততে পারে। এক সমর্থক যেমন টুইটারে লিখেছেন, ‘?ইংল্যান্ড যদি পেনাল্টিতে জিততে পারে, তা হলে সব কিছুই সম্ভব। বিশ্বকাপ এবার ঘরে আসছে।’? সত্যি, টুইটারে রীতিমতো ট্রেন্ডিং হয়ে গেছে হ্যাশট্যাগ, ‘?ওয়ার্ল্ড কাপ ইজ কামিং হোম’?। আরেক সমর্থক লিখেছেন, ‘?কী অনুভূতি হচ্ছে আমাদের বলে বোঝাতে পারব না। ইংল্যান্ড পেনাল্টি শুটআউটে জিতলো!? বেঁচে থাকতে এ জিনিস দেখে যেতে পারব এটা ভাবিনি।’ এবার মস্কো জয়ের পর সামারা জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর