× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

ট্রাম্প দাবি করলেও আসলে তা নয়

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ জুলাই ২০১৮, রবিবার, ১০:০৮

যেকোনো বিষয়ের কৃতিত্ব নেয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কখনোই সময় ক্ষেপণ করেন না। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সঙ্কট সমাধান করার দাবি করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এখনো তা একটি বড় হুমকি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে গত মাসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের পরই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সংকট সমাধানের দাবি করেন তিনি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরেও উত্তর কোরিয়া বিশ্বের জন্য এখনো বড় পারমাণবিক হুমকিই রয়ে গেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের দায়ে হাজারো পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। পরে তিনি কলমের খোচায় দেয়া এক নির্বাহী আদেশে বিষয়টির সমাধান করতে চেয়েছিলেন।
তখন এ নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধান করার কৃতিত্ব তিনি নিজের কাছেই রেখে দেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা না করায় সংকট আরো গভীর হচ্ছে। এমনকি বিচ্ছিন্ন করে রাখা পরিবার ও তাদের শিশুদের সঠিক সংখ্যাও জানায়নি মার্কিন প্রশাসন।
বিষয় দুইটি পৃথক হলেও এগুলো হোয়াইট হাউসের বাস্তব প্রকৃতি তুলে ধরে। এটি বুঝিয়ে দেয় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাস্তবে কোনো কাজ না করেও তার কৃতিত্ব নিতে খুবই পছন্দ করেন।

কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এক রকম নিজের বিজয়ই ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টুইটারে লেখেন, দীর্ঘ সফর শেষে মাত্রই দেশে ফিরলাম। কিন্তু সবাই এখন আরো বেশি নিরাপদ। উত্তর কোরিয়ার থেকে আর কোনো পারমাণবিক হামলার হুমকি নেই। ট্রাম্প তার সফরের সাফল্যের গল্প শোনান। কিমের সঙ্গে বৈঠককে যতটা সম্ভব ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার ওই ঘোষণা ছিল একেবারেই আনাড়ি। কিমের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এটি ছিল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়, উত্তর কোরিয়া এখনো বড় পারমাণবিক হুমকি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই কথা বলেছেন। তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আরো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া ঠিকই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
এরপরেও সংযত হননি ট্রাম্প। সম্প্রতি আবারো বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি পারমাণবিক যুদ্ধ রুখে দেয়ার কৃতিত্ব দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভালো আলোচনা চলছে। ৮ মাসের মধ্যে উত্তর কোরিয়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়নি। এতে এশিয়ার সবাই দারুণ রোমাঞ্চিত। তবে, শুধু বিরোধী দল এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারা বিভিন্ন ভুয়া সংবাদ নিয়ে অভিযোগ করে যাচ্ছে। আমি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র এখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো।

এদিকে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে অভিবাসী শিশুদের মেক্সিকো সীমান্তের কাছে আটকে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে নিজেদের নৈতিক ত্রুটি বুঝতে দেরি করেছে মার্কিন প্রশাসন। যার কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরে ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন। জানান, আমরা খুবই শক্তিশালী সীমান্ত পেতে চলেছি। একই সঙ্গে আমরা পরিবারগুলোকেও একত্রে রাখার চেষ্টা করছি। পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি আমার পছন্দ না। তাই আমরা পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখার পরিকল্পনা করেছি। এতে সংকটের সমাধান হবে। এর পরেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। যাতে অভিবাসী পরিবারদের পৃথক করার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে তিনি বিচ্ছিন্ন পরিবারদের নিয়ে মুখ খোলেননি।

কিন্তু এরপরেও বিচ্ছিন্ন অভিবাসী পরিবারদের নিয়ে সংকট রয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে নতুন করে কোনো অভিবাসী শিশুকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন না করার নির্দেশ দেয়া হয়। ট্রাম্প পরিবারগুলোর মধ্যে সম্মিলন ঘটানোর কথা বললেও প্রশাসন এখনো কোনো বিচ্ছিন্ন পরিবারের মধ্যে মিলন ঘটিয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি এ সপ্তাহে সরকার জানিয়েছে, তারা পূর্বে অনুমিত সংখ্যার চেয়েও বেশি সংখ্যক শিশুকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। অথচ ট্রাম্প নিজের ঘোষণা বাস্তবায়নের আগেই বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর কৃতিত্ব নিয়ে নিয়েছেন।
এগুলো শুধু সাম্প্রতিক ঘটনা। এ বছরে আরো অনেক বিষয়ের কৃতিত্ব নেয়ার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তবে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একটু ব্যতিক্রম। এক্ষেত্রে তিনি এমন বিষয়ের কৃতিত্ব নেয়ার চেষ্টা করছেন, আদতে যা কোনো কৃতিত্বের দাবি রাখে না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর