ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার

গোপন ক্যামেরায় নারীদের অশ্লীল ছবি, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ জুলাই ২০১৮, রোববার, ১:৪৭

গোপন ক্যামেরায় নারীদের অশ্লীল ছবি ধারণ ও পর্নোছবি বানানোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ যাবতকালের মধ্যে এটিই নারীদের সবেচেয়ে বড় বিক্ষোভের অন্যতম। এতে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার নারী। তারা শনিবার সিউলের রাজপথ তাদের দখলে নিয়ে নেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, পাবলিক প্লেসে লুকানো ক্যামেরায় নারীদের ভিডিও ধারণ করে ও তাদের ছবি ধারণ করে এক শ্রেণির নরপিশাচ। দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্নোছবি বিতরণ বা সরবরাহ অবৈধ হলেও অনলাইনে সেখানে এমন অসংখ্যা ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেয়া হয়। শনিবারের বিক্ষোভের আয়োজনকারীরা বলছেন, নিজেদের অজান্তে নারীদের ছবি ধারণ করায় তারা অব্যাহতভাবে ভীতির মধ্যে আছেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা যে প্লাকার্ড ও ব্যানার ব্যবহার করেছেন তাতে লেখা ছিল ‘ আমার জীবন তোমার হাতের পর্নো ছবি নয়’। এতে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের বেশির ভাগই টিনেজার অথবা ২০ উত্তীর্ণ। এর মধ্যে আবার অনেকেই গোপন ক্যামেরায় এমন কারসাজির শিকার। তারা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে স্লোগান দেন। স্লোগানে তারা বলেন, যারা এসব ভিডিও ধারণ করে, যারা তা আপলোড করে আর যারা তা দেখে তাদের সবার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এ সময় মুখোশ দিয়ে তাদের অনেকেরই মুখ ঢাকা ছিল। মাথায় ছিল হ্যাট। চোখে ছিল সানগ্লাস। আয়োজকরা বলছেন, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫০০০। তবে পুলিশের হিসাবে এ সংখ্যা হতে পারে ২০০০০। মে মাসে ইউনিভার্সিটিতে আর্টের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নগ্ন হয়ে পোজ দিয়েছিলেন একজন পুরুষ সহকর্মী। ওই দৃশ্য গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করেন ২৫ বছর বয়সী এক যুবতী। পরে তিনি তা অনলাইনে প্রকাশ করে দেন। এ অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে থাকে এবং এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। যৌনতা বিষয়ক কোনো ছবি তৈরি করলে তার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল বা ৮৯৭০ ডলার জরিমানার আইন আছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। লাভবান হওয়ার উদ্দেশে অর্থাৎ বাণিজ্যিক উদ্দেশে তা বিতরণ করলে শাস্তির সর্বোচ্চ সীমা ৭ বছরের জেল এবং ২৬৯০০ ডলার জরিমানা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অপরাধ অনেক বেড়েছে। তা নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে এমন অপরাধের সংখ্যা ছিল ১১০০। তা ২০১৭ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০০ এরও বেশি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।