× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার

সবার মুখে মুখে ‘ইটস কামিং হোম’

রাশিয়া থেকে

সামন হোসেন, মস্কো (রাশিয়া) থেকে | ৯ জুলাই ২০১৮, সোমবার, ১০:০৬

ম্যাচ শেষে অন্যরা যখন যে যার গন্তব্যের দিকে, ইংলিশ সমর্থকরা তখনও সামারার গ্যালারিতে। বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে সেখানে বসেই কোরাস তোলে ‘ইটস কামিং হোম’ গানের। সামারা অ্যারেনা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীরাও তাদের উৎসবে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল তারাও ইংলিশ সমর্থকদের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিলেন। ইংল্যান্ড ফুটবল দলের জন্য ‘থ্রি লায়নস’ গানের চরণ এটি। ১৯৯৬ ইউরো টুর্নামেন্টে গ্যারেথ সাউথগেটদের সৌভাগ্য কামনা করে গানটি তৈরি করেছিলেন লাইটনিংস সিডস ব্যান্ড। আপাতত ইংল্যান্ডের পারফরমেন্স দেখে মনে হচ্ছে ২২ বছর পর সেই গানের সার্থকতা প্রমাণের পথে রয়েছেন তারা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ‘ইটস কামিং হোম’ গানের সুরেই কথা বললেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট।
হ্যারি কেইনও আশাবাদী ১৯৬৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে। সে লক্ষ্যে হ্যারি কেইনের আপাতত টার্গেট ক্রোয়েশিয়া। যাদের সঙ্গে আগামী বুধবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নামবে ইংলিশরা।
সর্বশেষ ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল গ্যারি লিনেকারদের ইংল্যান্ড। সুইডেনকে হারিয়ে ২৮ বছর পর সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার কাজটুকু সেরেছেন দুই তরুণ হ্যারি ম্যাগুয়ার ও ডেলে আলি। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় গোলটি করে আলি কিন্তু উঠে এসেছেন ইংলিশ ইতিহাসে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মাইকেল ওয়েনের পর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করলেন আলি। সুইডেনের বিপক্ষে এ ম্যাচে ইংল্যান্ডের দুটি গোলই এসেছে হেড থেকে। এই বিশ্বকাপে বাকি দলগুলোর চেয়ে ইংলিশরা মাথা দিয়েই বেশি গোল করেছে। ১১ গোলের মধ্যে ৫ গোলই তারা করেছে হেড থেকে। ‘সেট পিস’ অর্থাৎ ‘ডেড বল’ পরিস্থিতি থেকে এসেছে ৮ গোল। যা ইংল্যান্ডের করা মোট গোলের ৮০ শতাংশ। যেকোনো দলের থেকে তারা দুটি গোল বেশি করেছে ‘সেট পিস’ থেকে। ফ্রিকিক কিংবা কর্নারে এই ইংল্যান্ড কতটুকু ভয়ঙ্কর, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবে তাদের প্রতিপক্ষ দল। কেইনদের ১৯৬৬ ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও একটি পরিসংখ্যান। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তারপর এই ৫২ বছরের মধ্যে (এবারের আগে) তারা অন্তত পাঁচবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু শেষ আটের এই মঞ্চে কোনো ম্যাচেই তারা নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি। যে কাজটা হলো এবার। সুইডেনের বিপক্ষে কোনো গোল হজম করেনি ইংলিশ রক্ষণ। ইংলিশদের এ পর্যন্ত ১১ গোল আর শেষ আটে কোনো গোল হজম না করার ইঙ্গিতটা কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন...‘ইটস কামিং হোম’! ইংলিশ কোচ সাউথগেট সমর্থকদের নিরাশ করেননি  ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে তিনিও ‘ইটস কামিং হোম’ এর সুরেই বলেন, ইংরেজরা ফুটবল প্রিয় জাতি। শিরোপা থেকে আমরা আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে। বাকী দুই ম্যাচেও আপনাদের সমর্থন চাই।’ শিষ্যদের নিয়ে উচ্ছসিত সাউথগেট বলেন, শুরু থেকে আমরা গোলের চেষ্টা করেছি। প্রথমে গোল পাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সুবিধা হয়েছে। আমরা অনেক গোল মিস করেছি সেটা ভুললেও চলবে না। ’ কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচে গোল না খাওয়াটাকে বড় করে দেখছেন কোচ, আমি সব সময় ক্লিনশিট রাখার পক্ষে। পিকফোর্ড অসাধারণ খেলেছে।’ পিকফোর্ড  ম্যাচ সেরাও হয়েছেন। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে পিকফোর্ড সাংবাদিকদের বলেন, নকআউট পর্বে যেকোনো মুহূর্তে গোল হজম করা মানে দলকে চাপে ফেলা। প্রতিটি মুহূর্ত আমি সচেতন থেকেছি। এই পারফরম্যান্স আমি সেমিফাইনালেও ধরে রাখতে চাই। আর সেখানেও ম্যাচসেরা হতে চাই।’ মজার তথ্য হলো পিকফোর্ড বয়সভিত্তিক দলে শুরুতে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতেন। অনূর্ধ্ব ১৫ দলের কোচ তাকে গোলরক্ষক বানিয়েছেন। সেই পিকফোর্ড এখন ইংল্যান্ড দলের আস্থার প্রতীক। ববি মুরের পর কি হ্যারি কেইন? এই প্রশ্ন করতেই লজ্জা পেলেন খানিকটা ইংলিশ ফরোয়ার্ড ও অধিনায়ক। কেইন বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত সঠিক পথেই রয়েছি। এখন ভাবনায় সেমিফাইনাল। সেমিফাইনাল জিততে চাই। জয়সূচক গোলদাতা ডেলে আলিও বেশ উচ্ছ্বসিত, কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করে দলকে জেতাতে পেরে সন্তুষ্ট। ইংলিশরা শিরোপা স্বপ্নে বিভোর হলেও সুইডিশ অধিনায়ক আন্দ্রেস গ্রাস্কোভিস্ট মনে করেন বেলজিয়ামের সম্ভাবনাই বেশি, সেমিফাইনাল খেলা চার দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তারপরও আমার দৃষ্টিতে বেলজিয়ামের সম্ভাবনা বেশি। নিজেদের হারের জন্য গোল মিসকে দায়ী করেছেন তিনি, আমরা অনেক গোল মিস করেছি। গোলগুলো হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারতো।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর