× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার

বাবা-মা চেয়েছিলেন ভলিবল খেলুক কুরতোয়া

ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮

স্পোর্টস ডেস্ক | ১০ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার, ১০:১০

থিবো নিকোলাস মার্কো কুরতোয়া। গোলেপাস্টের নিচে এক অতন্দ্র প্রহরীর নাম। এবারের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন কুরতোয়া। আর কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলপোস্টে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই ২৬ বছর বয়সী গোলরক্ষক। ওই ম্যাচে ৯টি সেভ দিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারায় বেলজিয়াম। আর এই কুরতোয়াকেই ভলিবল খেলোয়াড় বানাতে চেয়েছিলেন তার বাবা-মা। কুরতোয়া বেলজিয়ামের ব্রি শহরে ১৯৯২ সালের ১১ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা থিওরি কুরতোয়া ও মা গিটা কুরতোয়া দু’জনই ছিলেন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড়। তাইতো তারা চেয়েছিলেন ছোট বেলা থেকেই ভলিবলের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠুক কুরতোয়ার। আর হয়ে উঠুক পুরোদস্তুর একজন ভলিবল খেলোয়াড়। কিন্তু ছেলে থিবো তা হতে চাননি। তবে থিবোর বোন ভ্যালেরিকে ঠিকই ভলিবল খেলোয়াড় বানিয়েছেন তাদের বাবা-মা। ভ্যালেরি এখন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের হয়ে খেলেন। ছোট বেলায় জিমন্যাস্টিকস নিয়ে মেতে ছিলেন কুরতোয়া। উপভোগ করতেন জিমন্যাস্টিকসের বিভিন্ন ইভেন্ট। কিন্তু তার বাবা-মা পাঁচবছর বয়সে তাকে নিয়ে যান ভলিবল কোর্টে। স্থানীয় একটি ট্রেনিং সেন্টারে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে ভলিবলে তার অনীহার কথা জানান বাবা-মাকে। এরপর নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে থিবোকে বেলজিয়ামের স্থানীয় এক ফুটবল ক্লাব ভি ভি বিলজেনে নিয়ে যান তার বাবা-মা। বেলজিয়াম ফুটবল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছরের নিচে বাচ্চাদের কোনো ফুটবলের কোচিংয়ে নেয়া হয় না। এ কথা শুনে থিবো ক্লাব কর্মকর্তাদের সামনে প্রচণ্ড কান্নাকাটি শুরু করে দেন। এমন অবস্থা দেখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে নেয়। প্রথম দিকে কুরতোয়া ছিলেন লেফট ব্যাক (ডিফেন্ডার)। কিন্তু ছোটবেলায় জিমন্যাস্টিকসে যুক্ত থাকায় তার মুভমেন্ট ছোট বয়সে সকলের নজরে পড়ে। তখনই তার ডাকনাম হয়ে যায় ‘অক্টোপাস’। পরে ভি ভি বিলজেন ক্লাবের ছোটদের কোচ বার্ট টিওনিকসন তাকে নিয়মিত গোলরক্ষক হিসেবে খেলাতে থাকেন। বেলজিয়ামের জুনিয়র লীগে ভালো খেলার সূত্রে তিনি দেশের শীর্ষ ক্লাব জিঙ্কের স্কাউট দলের নজরে পড়েন। পরে ক্লাবটি কুরতোয়াকে তাদের দলে অন্তভুক্ত করে। ২০১০-১১ মৌসুমে জিঙ্ক ক্লাব বেলজিয়ামের পেশাদার লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়। কুরতোয়ার তখন বয়স মাত্র ১৯ বছর। তার খেলা দেখে ২০১১ সালে মাত্র আট মিলিয়ন ইউরোতে কুরতোয়াকে কিনে নেয় ইংলিশ ক্লাব চেলসি। মাঝে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ধারে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেও খেলেন কুরতোয়া। দুইবছর বেলজিয়াম অনূর্ধ্ব-১৮ দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন তিনি। ২০১১ থেকে বেলজিয়াম জাতীয় দলের নিয়মিত গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন কুরতোয়া। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৬৩ ম্যাচ খেলেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর