ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার

‘গ্রেটদের অনুপ্রেরণা আমাকে রোমাঞ্চিত করে’

স্পোর্টস রিপোর্টার, সেন্ট পিটার্সবার্গ (রাশিয়া) থে | ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার, ১০:২১

এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছে ইংল্যান্ড, দুর্দান্ত খেলছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। টটেনহাম হটস্পারের এই স্ট্রাইকার ছয় গোল করে ১৯৮৬ সালে করা ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড ছুঁয়েছেন। আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামবে থ্রি লায়ন্সরা। সেই ম্যাচে গোল পেলে কেইন ছাড়িয়ে যাবেন লিনেকারকেও। সুযোগ রয়েছে গোন্ডেন বুট জেতারও। তবে সেমিফাইনালের আগে এসব নিয়ে মোটেও মাথাব্যথা নেই কেনের। তার ভাবনায় শুধুই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ। তবে সেমিফাইনালের আগে গ্রেটদের অনুপ্রেরণা তাকে রোমাঞ্চিত করছে বলে জানান এই তারকা।
ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হলেও ম্যাচের আগের দুদিন সেন্ট পিটার্সবাগেই ছিল ইংল্যান্ড। গতকাল সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গের স্পার্তাক জেলেনগোসাঙ্কাক স্টেডিয়ামে ঘণ্টাখানেক অনুশীলনও করেছেন তারা। অনুশীলন শেষেই মস্কোর বিমান ধরেছে ইংল্যান্ড। সেখানে বিকালে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় দুই দল। সকাল দশটায় শুরু হওয়া সেন্ট পিটার্সবার্গের অনুশীলনে হাজির ছিলেন ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা জিওফ হার্স্ট। অনুশীলন শেষে বেশ কিছুক্ষণ হার্স্টের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে হ্যারি কেইনকে। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জয়ের নায়ক হাস্টের সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে হ্যারি কেইন বলেন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা দিতেই এখানে এসেছেন। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে জয়ের সামর্থ্য আছে আমাদের। শুধু মাঠে তার বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন তিনি। সাবেকদের অনুপ্রেরণা কেমন লাগছে, এক বৃটিশ সাংবাদিকের করা এমন প্রশ্নের জবাবে হ্যারি কেইন বলেন, ইংলিশ গ্রেটদের এমন প্রেরণাটা অনেক বড় বিষয়। এই ম্যাচে মাত্র একটি গোল করতে পারলেই ইংলিশ গ্রেট গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে যাবেন কেইন। বিষয়টি তাকে কতটা রোমাঞ্চিত করছে?  ’৬৬র কোনো নায়কের সঙ্গে দাঁড়াতে পারাটা তো হবে অবিশ্বাস্য ব্যাপার। এটা বড় প্রেরণা। ইংল্যান্ড বড় কোনো টুর্নামেন্টে ভালো করেনি অনেক দিন। সাবেক খেলোয়াড়দের গর্বিত করতে পেরে আমিও গর্বিত। আমি নিশ্চিত, এটা তাদের সেই স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা নিজেদের ইতিহাস তৈরি করতে চাই। আশা করছি, আরও একধাপ এগিয়ে ফাইনালে যেতে পারব’- বলেন তিনি। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। সেবার জার্মানির সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। এবারও কি সেই অতীতটা কিছুটা প্রভাব ফেলবে? হ্যারি কেইন অবশ্য তেমনটা মানতে নারাজ। ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘সেটা যখন ঘটেছে, আমাদের অনেকের তখন জন্মই হয়নি। আমরা শুধু নিজেদের চেষ্টাটা করে যাব। আমরা একধাপ কাছে চলে এসেছি। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে এটাই এখন সবচেয়ে বড় ম্যাচ।’ তবে এসব রেকর্ড নিয়ে মাথা ঘামিয়ে ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ দিতে বৃটিশ মিডিয়াকে অনুরোধ করেন কেইন। ‘আসলে আমাদের মতো তরুণ দলের জন্য অনেক বড় ম্যাচ। এখানে আমি দুই গোল করলাম রেকর্ড ভেঙে গোল্ডেন বুট জিতলাম। কিন্তু দল হারলেও তখন এই রেকর্ড ও পুরস্কারের কী মূল্য থাকবে? তাই এই মুহূর্তে দলের জয়ের চেয়ে বড় কিছু নেই আমার ভাবনায়। দর্শকদেও উদ্দেশ্যে হ্যারি কেইন বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাবো। আপনারা ধৈর্য্যহারা হবেন না। নিশ্চয় ভালো কিছু নিয়ে আমরা দেশে ফিরতে পারবো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।