× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার

বাড়ছে গ্যাসের দাম, ঘোষণা এ মাসেই

এক্সক্লুসিভ

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:২২

দাম বাড়ানোর সকল প্রস্তুতি শেষ। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসছে যে কোন সময়। এ দফায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে দাম বাড়ছে না। বাড়বে শুধুমাত্র শিল্পখাতে। গত মাসে বিইআরসিতে গণশুনানি হওয়ার পর থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। সূত্র মতে, শিল্প খাতে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ দাম বাড়ছে।  বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রমতে, নতুন মূল্যহারে প্রতি ইউনিট গ্যাসের গড় মূল্য হবে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা। সব খাতে গ্যাসের বিদ্যমান মূল্য ইউনিটপ্রতি গড়ে ৭ টাকা ৩৯ পয়সা। এ নতুন মূল্য কার্যকর হলে ইউনিটপ্রতি গড়ে ২ টাকার বেশি বাড়তি পরিশোধ করতে হবে শিল্প গ্রাহকদের। তবে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম। এসব খাতে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিইআরসির সদস্য মো. আব্দুল আজিজ খান বলেন, এলএনজিকে সামনে রেখে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানি হয়েছে। এই গ্যাস লাইনে দেয়ার পরই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয় আসবে। কমিশন মূল্যহার নিয়ে কাজ শেষে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ভোক্তাদের দাবি ও গণশুনানি-পরবর্তী বিতরণ কোম্পানিগুলোর তথ্যাদি আমরা বিশ্লেষণ করেছি। এদিকে সর্বশেষ ২০১৭ সালের মার্চ ও জুনে দুই দফায় গ্যাসের দাম ২২ শতাংশ বাড়ায় বিইআরসি। সে সময় সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয় আবাসিক ও শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম।

এ দুই খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ৫১ শতাংশ। এবার আবাসিকে গ্যাসের দামে পরিবর্তন না এলেও বাড়ানো হচ্ছে শিল্পখাতে। বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, শিল্পে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম বিদ্যমান ৭ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকা ও সার কারখানায় ২ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বেড়ে হতে পারে ৬ টাকা। সর্বশেষ আদেশে বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়। আবাসিকে এক চুলার ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ ও দুই চুলার ক্ষেত্রে ৬৫০ টাকার   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
 স্থলে ৮০০ টাকা করা হয়। এ দুই ক্ষেত্রেই গ্যাসের দাম এ দফায় বাড়ছে না। গণশুনানিতেও বিষয়টি আসেনি।

নতুন কূপ আবিষ্কার ও উৎপাদন না হওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। দৈনিক ৪১২ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ২৮০ কোটি ঘনফুট। এ হিসাবে ঘাটতি থাকছে ১৩২ কোটি ঘনফুটের। জ্বালানি সংকট সমাধানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। এরই মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও ব্যবহারের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। দুই মাস আগে জাতীয় গ্রিডে এ গ্যাস যোগ হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইনে ছিদ্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজের জটিলতায় এলএনজির সঞ্চালন হচ্ছে না। দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে এলএনজি যোগ হওয়ার পর মিশ্রিত গ্যাসের দাম দাঁড়াবে ইউনিটপ্রতি প্রায় ১৩ টাকা।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য বিইআরসির কাছে প্রস্তাব দেয় সঞ্চালন কোম্পানিসহ ছয়টি বিতরণ কোম্পানি। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গড়ে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করে তারা। নিয়ম অনুযায়ী ভোক্তা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং অন্যান্য নাগরিক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। ১১ থেকে ২১শে জুন পর্যন্ত পৃথক কর্মদিবসে এ শুনানি হয়। শুনানিতে এলএনজি পরিবহন ও সঞ্চালন বাবদ ট্যারিফ বৃদ্ধির দাবি জানায়। কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নতুন সম্পদ যোগ ও পরিবহন বাবদ গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলের মার্জিন ১০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। তবে গ্যাসের মূল্যহার ও নিজেদের বিতরণ মার্জিন বৃদ্ধির পক্ষে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেনি বিতরণ কোম্পানিগুলো। অনেক বিতরণ কোম্পানি চাহিদার চেয়ে বেশি মার্জিন পাচ্ছে বলেও বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে সরকারের দেয়া ৫০ কোটি ঘনফুটের স্থলে ৪৬ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ধরে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বিইআরসি। যদিও আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত অসম্পন্ন লাইনের কারণে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুটের বেশি এলএনজি সঞ্চালন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জিটিসিএল। নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি-পরবর্তী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন মূল্যহার ঘোষণা দেয়ার কথা বিইআরসির। তবে এলএনজি যোগ হতে যাওয়ায় এ বছর বেশ দ্রুতই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর