ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গতকাল যেমন ছিল আজও তেমনি আছে

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার, ১০:০৩

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে ডেকে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বললেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা’য় সচিব-রাষ্ট্রদূত অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মার্কিন দূতকে অতিথি ভবনে রেখেই মন্ত্রণালয়ে যান সচিব। পরে বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা রাষ্ট্রদূতের কাছে বৈঠক বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত কোনো প্রশ্ন না করার শর্ত দিয়ে ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র গভীর অংশীদারিত্বের বন্ধনে আবদ্ধ উল্লেখ করে বলেন- আমরা উভয়ে এ অংশীদারিত্বকে সম্মান করি। আজকের বৈঠক আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এখানে আমরা আমাদের চলমান সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই এমন ইঙ্গিত করে বার্নিকাট বলেন- ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গতকাল যেমন ছিল, আজও তেমনই আছে।’ সামপ্রতিক সময়ে বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতি ও আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবস্থান তুলে ধরছেন। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সহিংসতামুক্ত স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোও বিশ্বাসযোগ্য করার তাগিদ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ওই অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তৃতায় সরকারি মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গতকালের সচিব-রাষ্ট্রদূত বৈঠকে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে কোনো বার্তা দেয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। সরকারি অন্য একটি সূত্র অবশ্য গতকাল বিকালে মানবজমিনকে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী চলতি মাসে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। ২৫-২৬শে জুলাই দু’দিন মন্ত্রী ওয়াশিংটন থাকছেন। মন্ত্রী সফর প্রস্তুতি বিশেষ করে ওই সময়ে দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক আয়োজন করা যায় কি-না? তা নিয়ে আলাপে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ছিলেন সচিব। সচিবের আগ্রহে বা ডাকে প্রায়ই মার্কিন দূতের সঙ্গে এমন বৈঠক হয় দাবি করে এক কর্মকর্তা বলেন- বিভিন্ন আয়োজন যেমন লাঞ্চ বা ডিনারের আগে বা পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বহু বৈঠক হয়েছে। কিন্তু আয়োজন ছাড়া ওই ভেন্যুতে সচিব-মার্কিন দূত বৈঠক হয়তো এটাই প্রথম।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।