× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মামলা আর রিমান্ড জালে কোটা আন্দোলনের নেতারা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার ও বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:১৪

মামলা আর রিমান্ড জালে বিপর্যস্ত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। এ পর্যন্ত আন্দোলনে যুক্ত ১০ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে। আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে দুই দফায় ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। কারাগার ও রিমান্ডে থাকা শিক্ষার্থীদের পরিবার উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তি দাবি করছে তাদের পরিবার। রিমান্ডে নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাশেদ খানকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের  মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং পুলিশের যানবাহন ভাঙচুরের অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় অন্য শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা ফারুক হাসানকেও রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার ফারুক, জসিম উদ্দিন ও মশিউর রহমানকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ ছাড়া পরীক্ষা থাকায় তরিকুল ইসলামের রিমান্ড নামঞ্জুর করেন আদালত। আন্দোলনে জড়িত আমান উল্লাহ, মাযহারুল, জাকারিয়া, রমজান ওরফে সুমন ও রবিনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে মানববন্ধন: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে গতকালও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫টি বিভাগ। তালা দিয়ে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করেছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন এলাকায় মানববন্ধন করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করে।

আর শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতেও ছাত্রলীগ ভিন্নদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। মানববন্ধনে নিজেদের কতিপয় কর্মীকে প্ল্যাকার্ড দিয়ে দাঁড় করিয়ে পুরো মানববন্ধনের কনসেপ্ট পরিপন্থি অবস্থান নেয় তারা। যদিও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে। তাদের বহন করা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘হাতুড়ির স্থান পেরেকের উপর ছাত্রের উপর নয়’, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা চাই’, ‘আমার ক্যাম্পাসে আমি নিরাপদ তো?’, ‘ছাত্র আপনার, দায় নেবেন না কেন?’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের রুশাদ ফরিদী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা প্রমুখ। এ সময় অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন অনেক দিন চলছিল। এটা ছিল ছাত্রদের আন্দোলন। আমরা এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তখনি পাশে দাঁড়িয়েছি যখন ছাত্রদের উপর হামলা হয়েছে।

আমরা সচেতন ভাবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা দেখছি, যাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে। যারা নিপীড়ক,  তারা সবাই চিহ্নিত। কিন্তু তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না।’ সহকারী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ছাত্রদের আন্দোলন করার জন্য প্রেরণা দিচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র ভুল করতে পারে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা ভুল করতে পারে না।’ ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন কোটা থাকবে না, তখন আপনারা আনন্দ মিছিল করলেন। বললেন আপনারা আগে ছাত্র পরে লীগ। কিন্তু যখন ছাত্ররা প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করতে গেল তখনি হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালালেন।’ এদিকে গতকালও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ তাদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। অন্তত এমন ১৯টি বিভাগের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলা বিভাগ, আইন বিভাগ, অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ (২য় বর্ষ), মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, ইএসওএল (৩য় বর্ষ), ইতিহাস, উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ (১ম বর্ষ),  লোক প্রশাসন (১০ম ব্যাচ), পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ।

বহিরাগত ইস্যুতে মত পাল্টালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ: এবার বহিরাগত ইস্যুতে নিজেদের মত পাল্টালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাউকে প্রবেশ বা গমনাগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় নাই।’ যদিও গত ৯ই জুলাই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বহিরাগতরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ/প্রক্টরের পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থান ও ঘোরাফেরা এবং কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না’।

এ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তীব্রভাবে সমালোচিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত যত তাড়াতাড়ি উঠিয়ে নেয়া যায় ততই ভালো।’ সমালোচনার মুখে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেশের কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খণ্ডিতভাবে তথ্য প্রচারের ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাউকে প্রবেশ বা গমনাগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় নাই।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে উৎসাহিত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘যেসব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের কথা প্রভোস্ট কমিটি বলেছে সেগুলো ঐতিহ্যবাহী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি-নীতি ও সিদ্ধান্তের আলোকে নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশসহ যে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি আবশ্যক হয়, এটা নতুন কিছু নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে সব সময়েই পূর্বের ন্যায় বর্তমানেও নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করছে। তাদের দায়িত্ব পালনের অনুকূল কর্ম-পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্ব ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন।

বর্তমান পদক্ষেপ তার অংশ মাত্র। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস পরিচালনার লক্ষ্যে যা করণীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ক্লাস বর্জন ও আ ক ম জামালের হুমকি: এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মশিউর রহমানকে রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে ক্লাসে তালা ঝুলিয়ে বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা মশিউরকে ছাড়া ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার পূর্ব ঘোষণায় অনড় থাকার কথা জানায়। এদিকে শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগটির অধ্যাপক আ ক ম জামালের বিরুদ্ধে। তিনি পুলিশ ডাকবেন বলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ার করেন। সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলেন আ ক ম জামাল। এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ অন্য কয়েকজন শিক্ষকের সামনেই প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, ‘ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।

আপনারা এগুলো বাদ দিয়ে  ক্লাসে যান। আপনারা একজন আইনজীবী ঠিক করেন। কোর্টে তার জন্য ফাইট করেন। আইনজীবী ঠিক করলে বিভাগ থেকে তার খরচের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের ধরা হচ্ছে।’ এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা তার কাছে এমন তথ্যের উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অনুমান করতেছি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরবর্তীতে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘তাদের কর্মসূচি পালন করার অধিকার আছে। আমার চলাফেরারও অধিকার আছে। আমি তাদের বলেছি যে, যদি তারা আমার চলাফেরায় বাধা দেয় তবে আমি পুলিশ ডাকব।’

উদ্বিগ্ন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন: ক্যাম্পাসে মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ ও সমাবেশের মতো আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারাগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কোনো ছাত্রসংগঠন বা পুলিশ যেন বাধা না দেয় সে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা। গতকাল মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। এসময় তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসহ ছয় দফা দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ণি সেমন্তি খান।

দাবিগুলো হলো- মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ, সমাবেশের মতো আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারাগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কোনো ছাত্রসংগঠন বা পুলিশ যেন বাধা না দেয়া; কোটা সংস্কার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দাবি করা যেসকল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি ও আহতদের চিকিৎসা প্রদান; অহিংস মানববন্ধন ও মিছিলে বিনা উসকানিতে যারা হামলা করেছে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনের দায়িত্ব  কোনো দল, গোষ্ঠী বা ছাত্রসংগঠনের হস্তক্ষেপমুক্ত করে হল প্রশাসনকে নেয়া; কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগদানে বাধ্য না করা পাশাপাশি কোনো ছাত্র স্বেচ্ছায় কোনো অহিংস আন্দোলনে যোগ দিলে তাকে হলের ভিতরে যেকোনো অত্যাচার বা নিগ্রহের হাত থেকে হল প্রশাসনকে সুরক্ষা দেয়া; বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রশাসক তার ?উপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালন না করে নিপীড়নমূলক অবস্থান নিলে তাকে অপসারণ করতে হবে।

অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রজোটের: এদিকে হলগুলোতে ছাত্রদের সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রভোস্টের অনুমতির সিদ্ধান্ত বতিলের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান জোটের নেতাকর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি মো. ফয়েজউল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার আহবায়ক আলমগীর সুজন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ছাত্র  ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির। এসময় তিনি ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর