× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

নব্বই-ঊর্ধ্ব বৃদ্ধকে ইট দিয়ে পিটিয়ে জখম ‘নিজের দেশে যাও’

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:২৬

সবে ৪ঠা জুলাই উপলক্ষে আতশবাজি শুরু হয়েছে। ঠিক তখনই এরিক মেন্ডোজা আবিষ্কার করলেন তার ৯১ বছর বয়সী দাদা ঘরে নেই। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। মেন্ডোজা ভাবলেন, দাদা রোডলফো রড্রিগেজ হয়তো নিজের প্রাত্যহিক হাঁটায় বের হয়েছেন। এজন্য দাদাকে খুঁজতে তিনি নিজের এলাকার আশেপাশে হাঁটতে লাগলেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন সড়কের ধার ঘেঁষে রক্তের ছোপ। মেন্ডোজা বলেন, তার দাদাকে কেউ একজন ইট দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করেছে। তার চোখের পাশের অস্থি ভেঙে গেছে।
ভেঙে গেছে দুই পাঁজর! আর ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন মিসবেল বরজাস নামে এক ব্যক্তি। ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে কেউ এত নিষ্ঠুরভাবে মারলো কেন? তার উত্তরটা আরও ভয়াবহ। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, বরজাস নামে ওই প্রত্যক্ষদর্শী সন্ধ্যা সাতটার দিকে উইলোব্রুকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। তিনি জানান, রোডলফো রড্রিগেজ ফুটপাত ধরে হাঁটতে গিয়ে ভুলবশত এক মেয়ের সঙ্গে ধাক্কা খান। বরজাস দেখতে পেলেন, এরপর ওই তরুণীর কৃষ্ণাঙ্গ মা বৃদ্ধ রড্রিগেজকে মাটিতে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এরপর একটি ইট নিয়ে তার মুখে সজোরে মারতে মারতে চিৎকার করছিলেন, ‘তোমার দেশে ফিরে যাও!’
প্রসঙ্গত, রড্রিগেজ লাতিন বংশোদ্ভূত। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা।
বরজাস বলেন, ‘আমি বৃদ্ধকে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম, তবে ওই মহিলা বললো, আমি যদি সেখানে যাই তাহলে সে আমার গাড়িতেও একই ইট দিয়ে আঘাত করবে।’ অগত্যা বরজাস ওই নারীর ছবি তুললেন আর অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দিলেন।
তবে ওই বৃদ্ধকে বেশ কয়েক মিনিট ধরে মারলেন ওই মহিলা। পাশ ঘেঁষে থাকা একদল যুবক অভিযোগ করলো, রড্রিগেজ নাকি ছোট মেয়েটিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন! তারাও রড্রিগেজকে লাথি দিলো। তখন তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে ছিলেন। ওই লোকগুলো চলে যাওয়ার পর, বরজাস বৃদ্ধের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত।
পরে রাতে এসে মেন্ডোজা জানতে পারেন তার দাদার কী হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেউ আমার দাদাকে মারতে পারেÑ এটা ভেবে আমি স্তম্ভিত! তিনি কার কী ক্ষতি করতে পারেন? ৯১ বছর বয়স তার!’
সম্প্রতি, মার্কিন বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ায় অপরাধ প্রবণতা নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দখা গেছে, লাতিন ও হিসপ্যানিকদের ওপর আক্রমণের হার ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এসবের অনেকগুলোই বর্ণবাদী আক্রমণ। স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে একজন অশীতিপর বৃদ্ধের ওপর এই আক্রমণ আমেরিকায় বেশ আলোড়ন তুলেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর