ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

মানিকগঞ্জে যুবলীগ নেতার বাড়িতে গৃহবধূর অনশন

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:২৮

মানিকগঞ্জে বিয়ের দাবিতে এবার যুবলীগ নেতার বাড়িতে উঠেছে দুই সন্তানের জননী শাহানাজ বেগম। যুবলীগ নেতা মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর স্বামী কামাল শিকদার মাটির ব্যবসা করার সুবাদে তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে  বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বিয়ের দাবিতে ওই নারী যুবলীগ নেতার বাড়িতে অবস্থান করলেও যুবলীগ নেতা লিটন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। রাজনীতির পাশাপাশি সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি। ঘটনাটি ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধুলন্ডি গ্রামে।
বুধবার সকালে বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি লিটন মিয়ার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বিয়ের দাবিতে বারান্দায় একটি কাঠের ব্রেঞ্চে বসে আছেন শাহানাজ বেগম । সে বাঙ্গালা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের কন্যা এবং ঘিওর সদর ইউনিয়নের মাইলাগী গ্রামের কামাল শিকদারের স্ত্রী। এ দৃশ্য দেখার জন্য গ্রামের উৎসুক নারী- পুরুষের ভিড় পড়ে যায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে। যুবলীগ নেতা লিটনের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান অঝোরে কাঁদছেন। কথা হয় বিয়ের দাবিতে যুবলীগ নেতা লিটন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নেয়া শাহানাজ বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে তার স্বামী কামাল শিকদার  মাটির ব্যবসা করতো। সেই সুবাদে লিটন ঘন ঘন তাদের বাড়িতে আসতো। সবার অজান্তে লিটন তাকে একটি মোবাইল সেট কিনে দেয়। চলে ভালোবাসার আদান-প্রদান। এক পর্যায়ে সে লিটনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তার স্বামী (কামাল) টের পেলে তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করতো। আর ওদিকে যুবলীগ নেতা লিটন তাকে বিয়ে করবে বলে লোভ লালসা দেখাতো এবং স্বামী কামালকে তালাক দিতে বলতো। এনিয়ে তার সংসারে অশান্তি বেধে যায়। শেষমেশ গত ১৫ দিন আগে কাজীর মাধ্যমে শাহানাজ বেগম তার স্বামী কামালকে ডিভোর্স দেয় এবং  বাবার বাড়ি চলে যান। এই সুযোগে যুবলীগ নেতা লিটন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যায়।
শাহাজান বেগম বলেন, যুবলীগ নেতার দ্বারা আমি এখন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কোনো কূলকিনারা না পেয়ে আমি বিয়ের দাবিতে  মঙ্গলবার রাতে লিটনের বাড়ি উঠে পড়ি। আগে জানতাম না লিটন বিবাহিত এবং তার ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। এখন আমার যাওয়ার কোনো পথ নেই।
ঘিওর থানার এসআই আলতাফ হোসেন বলেন,  শাহানাজ বেগমকে অপহরণ করা হয়েছে- এই মর্মে মঙ্গলবার তার স্বামী কামাল শিকদার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরপর বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি শাহানাজ বেগম লিটন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছে। দুপুরে লিটনের বাড়ি থেকে শাহানাজকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


jiyaur rahnan

১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার, ৪:১১

অন্তঃসত্ত্বার আগে বিয়ের দাবী না করে অন্তঃসত্ত্বার পরে এই দাবী কেন? সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে উভয়কে শাস্তির আওতায় আনা হউক।

nazrul Islam

১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:৫৭

এই ঘটনায় দুই জনই দোষী উভয়ের শাসতী চাই