ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সম্মত ন্যাটো সদস্যরা: ট্রাম্প

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার, ৯:৪৯

ইউরোপ ও আমেরিকার যৌথ সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যরা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সম্মত হয়েছেন। এখন থেকে তারা প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরো বেশি অর্থ ব্যয় করবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ন্যাটো জোটের প্রভাবশালী অংশীদার ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে অংশীদার দেশগুলো। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। এতে তিনি বলেন, আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি খুবই আনন্দিত যে, ন্যাটোর সদস্যরা প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে। ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা আরো জোরদার হয়েছে। ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধন দু’দিন আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, উপস্থিত সবাই আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অবশেষে তারা প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপি’র ৪ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে রাজি হয়েছেন।  
এদিকে, বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্যরা প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বনির্ধারিত অর্থের বেশি খরচ করতে রাজি হননি। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করতে সম্মত না হলে ট্রাম্প ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন। তবে এ হুমকির খবর অস্বীকার করেছেন ম্যাক্রোন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জিডিপি’র ৩.৫ শতাংশ অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। এ ছাড়া বৃটেন, পোল্যান্ড, গ্রিস ও এস্তোনিয়া বর্তমানে তাদের জিডিপি’র ২ শতাংশ অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। ২০১৪ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, সকল সদস্য দেশ ২০২৪ সাল নাগাদ ন্যাটোর প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপি’র ২ শতাংশ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ২৯ রাষ্ট্রবিশিষ্ট জোটের মাত্র ১৫টি দেশের ওই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার সক্ষমতা রয়েছে।

বেলজিয়াম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেমস বায়েস বলেন, মনে হচ্ছে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তই হয় নি। দ্বিতীয় দিনের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারো প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সংকট তৈরি করেন। আর পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন। ন্যাটোর সদস্যরা কবে নাগাদ প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।