ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

জায়গায় জায়গায় গণ্ডগোল পাকিয়েছে ইংলিশ সমর্থকরা

স্পোর্টস রিপোর্টার, মস্কো (রাশিয়া) থেকে | ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার, ১০:০১

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও স্টেডিয়াম ছাড়ছিলো না দু’দলের সমর্থকরা। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের একপাশে দাবার কোর্ট আঁকা সাদা-লাল জার্সি পরে উল্লাস করছিলো ক্রোয়েটরা। অন্যদিকে মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলো ইংলিশ সমর্থকরা। দু’দলের কাউকেই স্টেডিয়াম থেকে বের করতে পারছিলো না লুঝনিকির নিরাপত্তা কর্মীরা। বাধ্য হয়েই স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইট বন্ধ করেই এদের বের করা হয় স্টেডিয়াম থেকে। স্টেডিয়ামের বাইরে বের হয়েই বিপত্তি বাধায় ইংলিশ সমর্থকরা। মদে বুঁদ হয়ে থাকা ইংলিশরা শুরুতেই আপত্তিকর আচরণ করেন ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে, যাদের সার্ভিসে নির্বিঘ্নে স্টেডিয়ামের আশপাশে চলাচল করছিলেন সাধারণ দর্শকরা।
খেলা ছাড়া অন্যদিন রাত একটা পর্যন্ত চালু থাকে মস্কোর মেট্রো। তবে খেলার দিন আরো দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে তা বন্ধ করা হয় রাত তিনটায়। এটা জানার পরও রাত তিনটার পর মেট্রতো গিয়ে ঝামেলা পাকায় তারা। লুঝনিকির পাশে স্পার্তিভো মেট্রো স্টেশন খোলা না পেয়ে সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর চড়াও হয় ইংলিশ সমর্থকরা। সেখান থেকে বের হয়ে একজন কলোম্বিয়া সমর্থকদের পেটায় তারা। ইংলিশরা গণ্ডগোল করেছে রেড স্কয়ার, ক্রেমলিনেও। সেখানে দফায় দফায় ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে তাদের। তবে ইংলিশ সমর্থকদের এমন উগ্র আচরণের পরও রাশিয়ান পুলিশ কোনো ধরনের কঠিন পদক্ষেপ নেয়নি। প্রতিটি জায়গাতেই তারা ঝামেলা মিটিয়ে ইংলিশদের হোটেলে পৌঁছে দিয়েছে। হারের পর ভালো আচরণও করতে দেখা গেছে কিছু ইংলিশদের। ম্যাচে আগে যারা জার্সি, ক্যাপ কিনে স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন, ম্যাচ শেষে সেবব বিক্রি করতে দেখা গেছে একদল ইংলিশ সমর্থককে। স্বপ্ন ভঙ্গের পরও ইংলিশ ফুটবলারদের পারফরমেন্সে তারা কিন্তু খুশি। মেট্রোতে জন রোস নামে এক ইংলিশ ভদ্রলোক বলেন, আমরা ওদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। আমার বিশ্বাস এই দলটিই একদিন বিশ্ব জয় করবে। এই সময় মেট্রোতে কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ইংলিশ সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান। এদের উদ্দেশে জন বলেন, এটা আমাদের সমস্যা- আমরা অল্পতে খুব আশাবাদী হয়ে, সহজেই কষ্ট পাই।  এদিকে ইংলিশদের মুখের বুলি ‘ইটস কামিং হোম’ গানটিকে উল্টে দিয়ে মস্কোর রোডে রোডে ক্রোয়েটরা গেয়ে চলছে ‘ইংল্যান্ড গোয়িং হোম’। রাশিয়ানরাও এর সঙ্গে সূর মেলাচ্ছে। অন্যরা ইংল্যান্ডের বিদায়ে খুশি হতে না পারলেও রাশিয়ানরা যে খুশি হয়েছে- তা স্টেডিয়ামের উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেথেই বোঝা যাচিছলো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।