× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার

মধ্যরাতে ফাঁড়ির সামনে আরিফের অনশন

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার, ১০:০৯

কর্মীর মুক্তি চেয়ে মধ্যরাতে আরিফুল হক চৌধুরীর অনশন ঘিরে সিলেটের ভোটের মাঠে চলছে তোলপাড়। মধ্যরাতে ফাঁড়ির সামনে ‘অনশন’ শুরু করেন বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে মুক্তি পান পোস্টার টাঙানোর কাজে নিয়োজিত আরিফের শ্রমিক। তবে গতকাল এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হয়েছে সিলেটে। আরিফ দাবি করেছেন- ক্ষমতার অপব্যহার করে যা ইচ্ছা তা করা হচ্ছে। আর কামরান বলেছেন- আরিফ এ ঘটনাটি নিয়ে নাটক করছেন। তখন মধ্যরাত। সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের হাসান মার্কেট। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরীর নিয়োজিত তিনজন শ্রমিক ধানের শীষের পোস্টার টাঙানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাদের হাতের ছোঁয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের একটি পোস্টার ছিঁড়ে যায়। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে আপত্তি জানান।

এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় উভয়পক্ষের মধ্যে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পাশে থাকা বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ এসে লোকমান নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে যায়। ওই যুবক হচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নিয়োজিত শ্রমিক। এদিকে- এ খবর পেয়ে রাতেই লোকজন নিয়ে ফাঁড়ির সামনে ছুটে যান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি গিয়েই সেখানে ফাঁড়ির মূল ফটকের সামনে অবস্থান শুরু করেন। আরিফ এ সময় দাবি করেন- তার শ্রমিককে পুলিশ মারধর করে থানায় আটকে রেখেছে। তিনি বলেন- তার শ্রমিককে না ছাড়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান থেকে উঠবেন না। এ সময় আরিফের সঙ্গে সেখানে বিএনপি’র নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে- গতকাল গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ জানান, বন্দরবাজার এলাকায় তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলায় স্থানীয় লোকজন এতে প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশ এসে পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনায় এক যুবককে আটক করে নিয়ে যায়।

তিনি বিষয়টি জানতেন না। তখন বাসায় ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তাকে ফোন করে সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তিনি সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসিকে ফোন দেন। এবং অনুরোধ করে বলেন- আর যাতে পোস্টার না ছিঁড়ে সে রকম একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিলে তিনি খুশি হবেন। তার এই কথা রেখেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন। রাতেই মুচলেকার মাধ্যমে লোকমান নামের ওই যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে- রাত পৌনে ১ টার দিকে থানা থেকে আরিফুল হক চৌধুরীর নিয়োজিত শ্রমিক লোকমানকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এরপর বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে থেকে উঠে চলে যান আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু সহ সিনিয়র নেতারা। গতকাল সকালে আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে এ অভিযোগটি উপস্থাপন করে বলেন- ক্ষমতার শক্তি বেশিদিন থাকে না। তারা ক্ষমতা ব্যবহার করে যা ইচ্ছা তা করছে। তিনি বলেন- গোটা নগরেই পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর বন্দরবাজার এলাকায় সমস্যা হয়ে গেলো। তিনি এজন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন- ভুল বোঝাবুঝিতে নৌকার পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগে এক যুবককে পুলিশের কাছে তুলে দেয় পথচারী কয়েকজন যুবক। পুলিশ তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে এলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তাকে ছাড়াতে আসেন। পরে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সঙ্গে আলাপ করে তারাই ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করেন। এরপর পুলিশ ওই যুবককে ছেড়ে দেয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর