× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

ইতিহাসের সামনে আত্মহারা ক্রোয়াটরা

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার, ১০:২৪

প্নটা যে এতটা ধরা দেবে তা হয়তো ভাবতে পারেননি ক্রোয়েশিয়াবাসী। বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে, ইংলিশ শিবিরকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে তারা এখন প্রথমবারের মতো ফাইনালে খোদাই
করিয়েছে তাদের নাম। আর সেই উন্মাদনায় ক্রোয়েশিয়া উত্তাল। আকাশে বাতাসে মাতাল করা এক আবহ। রাজধানী জাগরেব থেকে সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন বিবিসির সাংবাদিক বেথানি বেল। অনলাইন বিবিসিতে তিনি লিখেছেন, খেলাটা শেষ হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে একজন যুবক আমাকে বললেন, ক্রোয়েশিয়া যদি বিজয়ী হয় তাহলে তিনি লাফিয়ে পড়বেন ঝরনায়। আত্মহত্যা করার জন্য নয়। আনন্দ প্রকাশ করার জন্য। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রেফারি শেষ বাঁশি বাজিয়ে দিলেন। জাগরেব তখন যেন থর থর করে কাঁপছে। মানুষের হর্ষধ্বনি, চিৎকার আর আনন্দে অশ্রু সব মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে যায়। এখানে ওখানে আতশবাজি জ্বলে ওঠে। এক যুবতী চিৎকার করে বলে উঠলেন, ইংল্যান্ডের বিদায় হয়েছে। আমরাই ফাইনালে। আমাদের দেশ অনেক ছোট হতে পারে। কিন্তু আমরাও ফুটবল খেলতে জানি। মারকো নামে একজন বললেন, আমরা বিজয়ী হবো কেউই ধারণা করতে পারেনি। আমাদেরকে নিয়ে সারা সপ্তাহ মস্করা, মজা করেছে ইংলিশ মিডিয়া। তারা বলেছে, আমাদের কোনো সুযোগই নেই। কিন্তু আমরা মাঠে প্রমাণ দিয়েছি। প্রমাণ দিয়েছি যে, যোগ্যতা বা গুণগত মানই প্রধান। প্রতিটি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াররা তাদের হৃদয়, মনকে শতভাগ উজার করে দিয়ে খেলেছেন। এটাই আমাদের সব।
আসলেই সময়টা এখন ক্রোয়েশিয়ার। এ দেশটিতে জনসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখের কিছু বেশি। তারাই সৃষ্টি করেছে প্রচন্ড মেধাবী খেলোয়াড়দের একটি টিম। বিয়ার পান করতে করতে ডানিয়েল নামে একজন বললেন, এটাই তার দেশের জন্য সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো ঘটনা। তার ভাষায়, ক্রোয়েশিয়ানরা ভীষণ গর্বিত। ১৯৯৮ সালে আমরা বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিলাম। সেটা ছিল যুদ্ধ ও স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের ঘটনা। এবার আমরা দেখিয়েছি, আমরা জিততে পারি। একটি ছোট্ট দেশের জন্য এটা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আরেকজন ভক্ত একটু দার্শনিকের ভঙ্গিতে কথা বললেন। তিনি বলছেন, দেশবাসী যেন একটু স্বস্তি পেয়েছে। দেশে চাকরি নেই। অর্থ নেই। রাজনীতিকরা তাদের পকেট ভারি করছেন। কিন্তু বুধবার রাতে সাধারণ মানুষজন খুশি হয়েছে। অল্প সময়ের জন্য হলেও তাদের সমস্যাকে ভুলিয়ে রেখেছে এই বিজয়।

ওদিকে ক্রোয়েশিয়া একের পর এক বিস্ময় সৃষ্টি করার কারণে তাদেরকে জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। দেশটি যখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তখন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রাবার-কিতারোভিস খেলোয়ারড়ের ড্রেসিংরুমে পর্যন্ত ঢুঁ মারেন। তখন অনেক খেলোয়াড়ই বিবস্ত্র অবস্থায়। এ অবস্থায় তিনি তাদের কয়েকজনকে আলিঙ্গন করেন। পরে তার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। তাতে তিনি ফুটবলারদের একটি শার্টকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে দোলাচ্ছেন এবং লাফাচ্ছেন দেখানো হয়। উল্লেখ্য, ক্রোয়েশিয়ায় ব্যাপ দুর্নীতি রয়েছে। বিশ্বকাপ যেন সেখান থেকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিয়েছে। এর আগে দলটির ভক্তরা জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠি ছুড়ে দেয়া ও বর্ণবাদ বিষয়ক স্লোগান দেয়ার কারণে ফিফা ও উয়েফা বারবার শাস্তি দিয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। দলটির ক্যাপ্টেন লুকা মদরিচককে শপথ ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মার্চে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর