× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার

অলি আহমেদের উপর হামলায় তারেক রহমানের নিন্দা

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:২৬

কুমিল্লায় রেদওয়ান আহমেদ ইউনিভার্সিটি কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের জন্য গেলে এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম ও তাঁর সফরসঙ্গীদের উপর যুবলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা শ্লোগান দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি বলেন, অলি আহমেদ ও তার সফর সঙ্গিরা কুমিল্লার চান্দিনা পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছলে তাদের মাইক্রোবাসটি একদল পুলিশ আটক করে। কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ তাঁর গাড়িটি থামিয়ে সফরসঙ্গীদের মাইকোবাসটি ছেড়ে দিতে পুলিশকে অনুরোধ জানালে মূহুর্তেই ১০/১২ জন যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডার সশস্ত্র অবস্থায় শ্লোগান দিতে দিতে তাঁর গাড়ীটির ওপর আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তিনি ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়ে কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, তার ওপর সরকারি সন্ত্রাসীদের হামলা ভয়ঙ্কর ধৃষ্টতা, বর্বরতা ও ন্যাক্কারজনক কাপুরুষতা। হামলাকারিরা অবৈধ সরকারের দুঃশাসনের বরকন্দাজ। সারাদেশকেই এরা রক্তারক্তি, হানাহানির অরাজকতার অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছে।
যেকোন মূহুর্তে বিপদ ধেয়ে আসার আশঙ্কায় মানুষ জানমাল, সহায়-সম্পদ নিয়ে অসহায়ের মতো দিনযাপন করছে। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে সরকার দুস্কৃতিকারিদেরকে আশকারা দিয়ে বিরোধী মত, বিশ^াসের মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে। ৭১ এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) অলি আহমেদ এর ওপর হামলা আগামী দিনগুলোর জন্য এক অশুভ পরিস্থিতিরই ইঙ্গিতবহ। হত্যার অভিপ্রায় নিয়েই কর্নেল অলি সাহেব এর ওপর সরকারী দলের দুস্কৃতিকারিরা হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ যে প্রকৃতপক্ষেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য করে তার প্রমাণই হচ্ছে বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমেদের ওপর পাশবিক আক্রমণ। গুম, অহরহণ, খুন, গুপ্তহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গলাবাজি, অপপ্রচার ও মিথ্যা ভাষণই বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের স্বত্তা ও স্বরুপ। বর্তমানে মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্থৈর্যকে অশান্তির আগুনে দগ্ধ করতে আওয়ামী সরকারের জুড়ি মেলা ভার। ক্ষমতার মোহে অন্ধের মতো বেপরোয়া দাপিয়ে বেড়াতে গিয়ে এরা দেশকে গণতন্ত্রশুণ্য করে নিজেদের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বিবেকহীন ও মনুষ্যত্বহীন প্রাণীতে পরিণত করেছে। আমি কর্নেল (অবঃ) অলি আহমেদের ওপর পুলিশের উপস্থিতিতে সরকারের চিহ্নিত অঙ্গ সংগঠনগুলোর ক্যাডারদের হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে দুস্কৃতিকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি।
অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী সরকার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথে না এগিয়ে সন্ত্রাসের পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত রয়েছে। নিজ অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বন্য প্রতিহিংসার দ্বারা উদ্বুদ্ধ করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে নির্দয় জুলুম উৎপীড়ণ করতে বিবেকশুণ্য হয়ে পড়েছে। সারাদেশের মানুষ শঙ্কা, ভয় ও শিহরণের মধ্যে বাস করছে। ঘাতকের বিভৎস তান্ডবে দেশের সব মানুষেরা নিরাপত্তাহীন আতঙ্কে দিনযাপন করছে। জুলুমের হিং¯্র আঁচড়ে বিরোধী দল, মত ও বিশ^াসকে ক্ষতবিক্ষত করাটাই যেন বর্তমান সরকার তাদের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছে। কর্নেল অলি আহমেদের মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর এই আক্রমণ যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকেই অপমানিত করা। এই দুঃশাসনে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সজ্জন, গুনীজন কেউই মানসম্মান নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। আওয়ামী লীগ নিজের স্বার্থের জন্য যেকোন রঙ ধারণ করতে পারে। এরা গণতন্ত্রের মূলোৎপাটন করে প্রতিবাদকে নির্মমভাবে স্তব্ধ করে যাচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষমতার বেপরোয়া যথেচ্ছাচার টিকিয়ে রাখার জন্য। আমি কর্নেল (অবঃ) অলি আহমেদের ওপর সন্ত্রাসীদের বর্বরোাচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দুস্কৃতিকারিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর