ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার

নানা সমস্যায় টিভি নাটক

এন আই বুলবুল | ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার, ৮:৪৪

নানা সমস্যায় জর্জরিত এ সময়ের টিভি নাটক। একদিকে বাজেট সমস্যা। অন্যদিকে গল্প সংকট ও শিল্পী-নির্মাতার দূরত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গেল কয়েক বছর ধরে শিল্পী-নির্মাতাদের অভিযোগ টিভি নাটকে বাজেট নেই। বাজেট সংকটের মধ্য দিয়েই নির্মাতারা নাটক নির্মাণ করছেন একান্ত ভালোবাসায়। আবার বাজেট সমস্যার কারণে অনেক দক্ষ্য নির্মাতা নাটক নির্মাণ থেকে দূরে আছেন বলেও জানা যায়। এই সময়ে যারা নিয়মিত নাটক নির্মাণ করছেন তারাও জোড়াতালি দিয়েই তা করছেন বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন। বলা যায়, দায়সারাভাবেই সবাই কাজ করছেন। অধিকাংশ চ্যানেল অল্প বাজেটের নাটক প্রচারে আগ্রহী। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভালো বাজেটের নাটক নির্মাণের সাহস পায় না নির্মাতারা। এক থেকে দুই দিনেই খণ্ড নাটকের শুটিং শেষ করতে হয় একজন নির্মাতাকে। বাজেট সংকটের বিষয়টি প্রসঙ্গে গুণী নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত বলেন, আমি যখন ২০ বছর আগে নাটক নির্মাণ করতাম তখন খণ্ড নাটকের বাজেট ছিল দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের সব কিছুর মূল্য বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্পীদের পারিশ্রমিক বেড়েছে। কিন্তু নাটকের বাজেট সেই একই রকম আছে। অনেক ক্ষেত্রে দুই লাখের নিচেও নেমে আসে এই বাজেট। সব কিছুর মূল্য বাড়ার কারণে সেই আগের বাজেট দিয়ে এখন আর ভালো নাটক নির্মাণ সম্ভব নয়। টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি অনুধাবন করা প্রয়োজন। একটি ভালো নাটক নির্মাণের জন্য ভালো বাজেট অত্যাবশ্যক। নাটকের সুদিন ফেরানোর জন্য ভালো বাজেটের বিকল্প নেই বলে আমি মনে করি। এদিকে গল্প সংকট নিয়ে কথা বলেন এই সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা সাগর জাহান। টিভি চ্যানেলগুলো বর্তমানে কমেডি নাটকের প্রতি বেশি আগ্রহী বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেক দক্ষ স্ক্রিপ্ট রাইটার আছেন। কিন্তু বাজেট না থাকায় এবং চ্যানেলগুলোর কমেডি নাটকের প্রতি আগ্রহী হওয়ায় দক্ষ রাইটারদের নিয়ে কাজ করা
হয় না। একটা সময় আমাদের সাহিত্যনির্ভর প্রচুর নাটক নির্মাণ হতো। এখন সেটি নেই বলা চলে। কারণ সাহিত্য নির্ভর নাটক নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট লাগবে। সেটিতে চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের অনীহা। টিআরপি বাড়ানোর জন্য চ্যানেলগুলো কমেডি নাটক প্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রতিযোগিতা না করে কে কত ভালো গল্পের নাটক প্রচার করবে যদি সেটি হতো তাহলে দর্শক ভারতীয় সিরিয়ালের প্রতি আকৃষ্ট হতো না। চলমান সময়ে শিল্পী-নির্মাতাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ দূরত্বও সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্পী-নির্মাতাদের একে অপরের প্রতি পারস্পরিক সম্মানবোধ হারিয়ে যাচ্ছে বলে সিনিয়র শিল্পীরা জানান। তারকাখ্যাতির পেছনে দৌড়াতে গিয়ে এই সময়ের অনেক শিল্পী অশিল্পীসুলভ আচরণ করছেন। সর্বশেষ অশিল্পীসুলভ আচরণের জন্য অভিনয় শিল্পী সংঘের সদস্য সারিকাকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব)। ১লা আগস্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় এই অভিনেত্রী কোনো নাটক, মিউজিক ভিডিও, বিজ্ঞাপনসহ সংগঠনের কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। গত ১০ই এপ্রিল সারিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন প্রযোজক মোহাম্মদ বোরহান খান। শিল্পীদের এই অপেশাদার আচরণ প্রসঙ্গে অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম বলেন, এটি সত্যি আমাদের জন্য দুঃখজনক বিষয়। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি এই সমস্যাগুলো দূর করার জন্য কাজের আগে সবার মধ্যে যেন লিখিত চুক্তি হয়। কিন্তু এটি অনেকেই করছেন না। যার কারণে এমনটা হচ্ছে। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে এগিয়ে আসি তাহলে আমাদের চলমান সংকটগুলোর সমাধান সহজ হবে। অন্যথায় এটি শুধু বাড়তে থাকবে। নাটকসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, টিভি নাটকের এই সমস্যাগুলোর অবস্থার জন্য সামগ্রিকভাবে সবাই দায়ী। প্রতিদিনই এটিতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু কে কোথায় করছে তার সঠিক হিসাব নেই। যদি এই সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে অচিরেই টিভি নাটকের বিপর্যয় অনিবার্য।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


সৈয়দ মহম্মদ মুসা

৯ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৬:২০

আমি বারবার বলেছি, আবারও বলছি- বাংলাদেশি টিভি নাটকের মূল রোগ হচ্ছে , 'ভাষা'। একই নাটকে ৬৪ জেলার ৬৪ রকমের আঞ্চলিক ভাষা প্রয়োগ করলে সেই নাটক কেউ দেখবে না। আমার প্রশ্ন, নাট‍্য নির্মাতারা কি 'প্রমিত বাংলা' ভাষাটা কি জানে না ? তাদের উপস্থাপনাও যুতসই নয়। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উচ্চারণও ঠিক নেই। টিভি স্ক্রিনের নীচে ৩/৪টে স্ক্রল ও কোনায় কোনায় ছোট ছোট বিজ্ঞাপন লাগিয়ে রাখলে দর্শক মনের সুখে নাটক দেখবে কী করে ? কলকাতার চ‍্যানেলগুলোর নাটকের মান 'নিকৃষ্ট' হওয়া সত্ত্বেও মানুষ গোগ্রাসে কেন খায় তা ভাবতে হবে ঢাকার চ‍্যানেল মালিকদের। দর্শক টানার কায়দাটা রপ্ত করতে হবে। এছাড়া উপায় নেই।