× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের চিরুনি অভিযান সরকারের নির্মম আগ্রাসন: বিএনপি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার, ৯:১৬

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত পুলিশের চিরুনি অভিযানকে সরকারের নির্মম আগ্রাসন বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। গতকাল দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিংড়ে নেয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাকডাউন। বুধবার বসুন্ধরাসহ রাজধানীতে সরকারি বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য চিরুনি অভিযান চালিয়েছে। অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে দমাতে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে বসুন্ধরাকে। এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন। আমরা অবিলম্বে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর এই নির্মম হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রচলিত ধারার নয়, এটি ভিন্নধারার প্রতিবাদের এক অনন্য স্বতন্ত্র রূপ। এ আন্দোলনে কোনো অদৃশ্য খেলা নেই। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ন্যায্য ও বিবেক জাগনিয়া, তারা গোপন কিছু করেনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রকাশ্য ও জনসমর্থিত। এ আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা প্রথম কয়েকদিন করুণামাখা কথা বলেছেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রায় সবাই বলেছেন ছাত্রছাত্রীদের দাবি ন্যায়সঙ্গত। তাহলে এখন তাদের ওপর এই সহিংসতা কেন? আসলে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনে ভয় পেয়েছে সরকার। আন্দোলনের প্রথম দিকে পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে সরকারের সহানুভূতি ছিল ছলনামাত্র। মূলত অন্তরালে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে আন্দোলন দমানোর জন্য প্রস্তুতি চলছিল। যার প্রমাণ দুইদিন পরেই দেখা গেল। রিজভী বলেন, রাজধানীর ১৮ থানায় ৩৫টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সেসব মামলায় অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জড়িত করা হবে। ইতিমধ্যে ৪৫ জনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে ২২ জন এখন রিমান্ডে আছেন। রিজভী বলেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের আটক করার পর তাদের কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান ও মামলা দায়েরের ঘটনা অভিভাবকদের আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি বলেন, সরকারের ক্রোধের আগুনে পড়া পড়ুয়া সন্তানদের ওপর কী বিভীষিকা নেমে আসবে তা নিয়ে শিহরিত ও আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে অভিভাবকরা। রিজভী বলেন, রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সামাজিক অগ্রগতি ও সভ্যতার শত্রু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এরা মানসিক বৈকল্যগ্রস্ত। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করছে না। সরকার এখন মেতে উঠেছে ক্রোধের খেলায়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই জাগরণ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। শিশুদের জাগরণের ঢেউ লেগেছে শহর থেকে গ্রামের আনাচে কানাচে। ফলে শিশু-কিশোরদের এই জাগরণ দমন-পীড়নের মাধ্যমে বন্ধ করা যাবে না। যতই ষড়যন্ত্র ও তৎপরতার কথা বলুক না কেন আওয়ামী নেতারা, তাদের দুঃশাসনের বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত শিক্ষার্থী ও মিডিয়া কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখতে না যাওয়ার সমালোচনা করেন বিএনপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, অশুভ সরকার স্বমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করেছিলো যখন হেলমেট পরিহিত আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে কচি শিশু-কিশোরদের ওপর। তাদের রক্ত দেখে আনন্দিত হলো সরকার। সেজন্য আমরা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের আক্রমণকারীদের দেখতে গেলেন কিন্তু আক্রান্ত শিশু-কিশোর ও সাংবাদিকদের দেখতে যাননি। বুধবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। রিজভী আহমেদ বলেন, সেখানে কয়েকজন ভিসি আন্দোলনে যুক্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার আহ্বান জানালেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তা ‘নাকচ’ করে দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী তো একজন বর্বর একদলীয় শাসকের মন্ত্রী। তিনি নির্লজ্জভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত রঞ্জিত রাজপথ সেটা দেখেও নির্বিকার ও নীরব থেকেছেন। মন্ত্রিত্ব যেন একেবারে আরাধ্য দেবতা। তিনি বলেন, ক্ষমতার পিপাসা কত তীব্র হলে শিক্ষামন্ত্রী নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। এতেই প্রমাণিত হয়, মন্ত্রীদের একমাত্র আরাধ্য হচ্ছে ক্ষমতা। এই অবৈধ ক্ষমতার জন্য তারা ন্যায়-নীতি, মানবিক মূল্যবোধ. মনুষ্যত্ব ও শিশু-কিশোরদের দাবিকেও পদদলিত করতে পারে। ক্ষমতার মায়ায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্বকে অগ্রাহ্য করলেন। রিজভী বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিডিয়া, উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের এই সশস্ত্র হামলাকে সহিংস হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে টেরোরিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ছাত্রলীগ। এখন প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের সেই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বাঁচাতেই হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে তামাশা করছেন। কিন্তু এরা রেহাই পাবে না। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, ছবিসহ পরিচয়সহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। যার সবই সংরক্ষিত আছে।
সরকারের নির্দেশে শহিদুলকে ভর্তি করেনি হাসপাতাল
দৃক গ্যালারির কর্ণধার ও প্রবীণ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে রিমান্ডে নেয়ার সমালোচনা করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, নির্যাতিত শহিদুল আলমকে উচ্চ আদালত চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ সরকারের হুকুমে তাকে ভর্তি করেনি। বিএসএমএমইউ’র কর্তৃৃপক্ষ সরকারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। সুতরাং সরকারের নির্দেশ ছাড়া বিএসএমএমইউ’র পরিচালক বা উপাচার্য কারো এক পা এগোনোর কোনো ক্ষমতা নেই। ওই হাসপাতালে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিকিৎসা হয় না। সেখানে ভিন্নমতালম্বীদের সুচিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। রিজভী বলেন, এ সরকার কতটা নিষ্ঠুর যে নির্যাতনে অসুস্থ একজন ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সরকারি আইনজীবীরা। যেন শহিদুল আলম সুচিকিৎসা না পান। এ সময় বুধবার ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রিপন আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন তিনি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর