× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা ২২ ছাত্রের জামিন হয়নি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার, ১০:১৭

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সড়কে নামা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঈদের আগে আগাম ছুটি ঘোষণা হয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৬ই আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অবস্থিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে বহিরাগতের হামলা ও পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
গত ৬ই আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আহসানউল্লাহসহ আরো কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে ৪ঠা আগস্ট ঝিগাতলায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালানোয় এদিন প্রতিবাদ আরো জোরালো হয়ে উঠে। তবে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ দমাতে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। সে সঙ্গে যোগ দেয় হেলমেট পরা একদল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি পুলিশের সঙ্গে যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। বিশেষ করে বাড্ডার আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট ও বসুন্ধরার নর্থ সাউথে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জের ধরেই  অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া নোটিশের সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে। তবে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ঈদের আগে সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও সেটা ঈদের পরে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় দু’দিন ক্লাস বন্ধ রেখে আবার ঈদের পর পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রায় সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিলেও নর্থ সাউথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে ক্লাস চলছে ঢিলেঢালাভাবে। নোটিশ দিয়ে সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি। গত ৬, ৭, ৮ ও ৯ই আগস্টের সব পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে ঈদের পর ২৭শে আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।
অনির্দিষ্টকালের জন্য  ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় শান্ত মরিয়ম ইউনিভার্সিটি  অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি। গত ৭ই আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেয়। আকস্মিকভাবে দুইদিন বন্ধ রাখে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও। ৮ ও ৯ই আগস্ট কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে ১২ই আগস্ট থেকে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় নোটিশে। সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। গত ৫ই আগস্ট  রেজিস্ট্রার সরোয়ার আর. চৌধুরীর স্বাক্ষর করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। ৮ ও ৯ই আগস্ট দুইদিন পরীক্ষা স্থগিত করে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ৮ই আগস্ট থেকে সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ নোটিশ দিয়ে সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ৮ই আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে ঈদের পর নেয়া হয়েছে। এছাড়া নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়েরও পরীক্ষার সময়সূচি বাতিল করে ঈদের পর নেয়া হয়। এছাড়া সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি, প্রাইম এশিয়া সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। এদিকে ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি,  প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ  করে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নর্থ সাউথের বিবিএ’র শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা জানান, আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলাম। এখন নিরাপদ ক্যাম্পাসও পাচ্ছি না। যেভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়েছে তাতে খুব ভয় পাচ্ছি। আমাদের ছেলে বন্ধুরা যারা বসুন্ধরায় থাকেন অনেকেই আসামির মতো পলাতক। যারা হামলা করেছে পুলিশ তাদের কিছু না বলে প্রতিরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রদের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে। এটা কোন্‌ বিচার? সরকার এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। এদিকে রাফাত নামের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী বলেন,  আমরা এখন আর নিরাপদে নেই। সড়ক আন্দোলনে নেমে নিরাপদ ক্যাম্পাসটাই হারিয়েছি। পুলিশ ক্যাম্পাসের সামনে এসে হয়রানি করছে। বিনা বিচারে আমাদের বন্ধুদের ধরে নিয়ে গেছে। তাদের আদালতে নিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।  এ কোন দেশে বাস করছি  আমরা? সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই।

বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও আশেপাশে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য ব্লক রেইড অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার না করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ওই এলাকায় থাকেন। এর আগে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

২২ ছাত্রের জামিন নামঞ্জুর
পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ দু’দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে। ছাত্রদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেলে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া অভিভাবকদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার এই ২২ ছাত্রর প্রত্যেকের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গ্রেপ্তার আসামিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাকের ছাত্র। এর মধ্যে, বাড্ডা থানা পুলিশ ১৪ ও ভাটারা থানা পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর কিংবা পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত না। গ্রেপ্তার ছাত্র ফয়েজ আহম্মেদ আদনানের আইনজীবী একেএম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতের কাছে দাবি করেন, তিনি নিজে দেখেছেন, পুলিশ কীভাবে ছাত্রদের নির্যাতন করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই ছাত্র অথচ পুলিশ মামলায় তা উল্লেখ করেনি। মামলার এজাহারের বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছে, তাতে এসব শিক্ষার্থী সায় দিয়েছে। যারা ভাঙচুর করলো পুলিশ তাদের ধরলো না। কয়েকজন শিক্ষার্থীর আইনজীবী আদালতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া কাগজ জমা দিয়ে বলেছেন, তারা কোনো আন্দোলনে ছিল না। কোনো ভাঙচুর করেনি। তারা সেদিন ক্লাস করেছে। মাসাদ মরতুজা বিন আহাদের আইনজীবী কামরুদ্দিন আদালতকে বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রকে পুলিশ সেদিন মারধর করেছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হাত ও ঘাড়ে জখম হয়েছে। আদালত পরে এই ছাত্রকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আরো দাবি করেন, যারা হামলা করেছিল তাদের গ্রেপ্তার না করে নিরীহ ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে মারধর করেছে পুলিশ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর